নিজস্ব প্রতিবেদক : এবারের বিপিএলে ফাইনাল ম্যাচ জমাতে পানেনি চট্টগ্রাম। এক কথায় চট্টলার এই দলটি বিপিএল ফাইনাল জুজু কাটাতে পারলো না। নাম বদলালেও তাদের বদলালো না ভাগ্য। তিনবার ফাইনাল খেললেও স্পর্শ করা হলো অধরা শিরোপা। এবার রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের কাছে হেরেছে চট্টগ্রাম রয়্যালস।
আগে ব্যাট করে তানজিদ হাসান তামিমের সেঞ্চুরিতে ১৭৪ রান তোলে রাজশাহী। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ১১১ রানে গুটিয়ে গেছে চট্টগ্রাম। নাজমুল হোসেন শান্তর দল পায় ৬৩ রানের জয়।
মিরপুর শের-ই বাংলায় টস জিতে রাজশাহীকে আগে ব্যাটিংয়ে পাঠান চট্টগ্রামের অধিনায়ক শেখ মাহেদী হাসান। তবে তার পরিকল্পনা খুব একটা কাজে লাগেনি। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে রাজশাহীকে উড়ন্ত শুরু এনে দেন দুই ওপেনার শাহিবজাদা ফারহান ও তানজিদ হাসান তামিম। চট্টগ্রামের বোলারদের কোনো পাত্তাই দেননি তারা।
ফারহান একটু রয়েসয়ে খেললেও তামিম ছিলেন আক্রমণাত্মক। তবে ৩০ বলে ৩০ রান করা ফারহানকে ফিরিয়ে চট্টগ্রামকে প্রথম ব্রেক থ্রু এনে দেন মুকিদুল ইসলাম মুগ্ধ। তিন নম্বরে ব্যাটিং করতে আসা কেইন উইলিয়ামসনের সাথে জুটি গড়েন তামিম। তার আগে ২৯ বলে তুলে নেন ফিফটি। এরপর একটু ভুগছিলেন রাজশাহীর এ ওপেনার। তবে ঠিকই ৬১ বলে সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন তামিম। পরের বলেই ফিরেছেন তিনি। ৬২ বলে খেলা ইনিংসটিতে ৬ বাউন্ডারির পাশাপাশি ৭টি ছক্কা মেরেছেন তামিম। বিপিএলে এটি তার তৃতীয় সেঞ্চুরি।
মাঝে ১৫ বলে ২ বাউন্ডারি ও ১ ছক্কায় ২৪ রানের ইনিংস খেলেছেন উইলিয়ামসন। তবে শেষের দিকে প্রত্যাশিত ঝড় তুলতে পারেননি জিমি নিশাম ও নাজমুল হোসেন শান্ত।
চট্টগ্রামের হয়ে দুটি করে উইকেট নিয়েছেন শরীফুল ইসলাম ও মুকিদুল ইসলাম মুগ্ধ। বিপিএলের এবারের আসরে সব মিলিয়ে ২৬টি উইকেট নিয়েছেন শরীফুল। যা এক আসরে কোনো বোলারের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারের রেকর্ড। তাতে পেছনে ফেলেছেন ২৫ উইকেট নেওয়া তাসকিন আহমেদকে।
রান তাড়ায় নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়েছে চট্টগ্রাম। মোহাম্মদ নাঈম শেখ-হাসান নওয়াজরা তেমন কিছুই করতে পারেননি। অধিনায়ক মাহেদী হাসানও পারেননি বড় ইনিংস খেলতে।
চট্টগ্রামের হয়ে সর্বোচ্চ ৩৯ রান করেছেন ওপেনার মির্জা তাহির বেগ। এছাড়া দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২১ রান করেছেন আসিফ আলী। যা দলটির হারের ব্যবধান কমাতে পেরেছে শুধু।
রাজশাহীর হয়ে ৪টি উইকেট নিয়েছেন বিনুরা ফার্নান্দো। ৩ ওভারে মাত্র ৯ রান দিয়েছেন লঙ্কান এ পেসার। ৩টি উইকেট নিয়েছেন হাসান মুরাদ।