শিরোনাম
◈ কক্সবাজারের উন্নয়নে মহাপরিকল্পনা, শিথিল হতে পারে ৫০ ও ৫০০ মিটারের বিধিনিষেধ ◈ বিশ্বকাপের চমকে ট্রান্সফারমার্কেটে ভোজিনিয়ার দাম বাড়ল ৯০০ শতাংশ ◈ রাষ্ট্রপতির সঙ্গে শেখ হাসিনার ফোনালাপ, যা বললেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী (ভিডিও) ◈ সৌদির পারমাণবিক চুক্তিতে ট্রাম্পের নতুন শর্ত ◈ যেভাবে সিআইএ’র গোপন স্থাপনায় নিখুঁত হামলা চালাচ্ছে ইরান: রিপোর্ট ◈ রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের খবর: থাইল্যান্ড সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরছেন স্পিকার ◈ স্পেন ও আর্জেন্টিনার ম‌ধ্যে বিশ্বকাপ ফাইনাল পূণরায় আয়োজনের দাবি, অনলাইনে ৬২ হাজারো ভক্তের স্বাক্ষর   ◈ রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে সাংবিধানিক প্রক্রিয়া কী হবে? ◈ তিন ডিআইজিসহ ১৭ পুলিশ কর্মকর্তাকে অবসরে পাঠাল সরকার ◈ আন্তর্জাতিক বাজারে কমেছে স্বর্ণের দাম 

প্রকাশিত : ২৩ জুলাই, ২০২৬, ০৬:৩৭ বিকাল
আপডেট : ২৩ জুলাই, ২০২৬, ০৮:০৬ রাত

প্রতিবেদক : মনিরুল ইসলাম

বহিষ্কার, এমপি পদ ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়া: এখন কোন পথে গাজী নজরুল ইস্যু

মনিরুল ইসলাম: রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচিত সাতক্ষীরা–৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কারের ঘটনায় তাঁর সংসদ সদস্য (এমপি) পদ থাকবে কি না—এ নিয়ে নতুন করে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদের আজ বৃহস্পতিবার এর  বক্তব্যে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়েছে যে, শুধুমাত্র দলীয় বহিষ্কারের চিঠির ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সরাসরি কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। ফলে এখন দৃষ্টি পড়েছে সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার দিকে—বিশেষ করে স্পিকারের ভূমিকার ওপর।

ইসির অবস্থান: ‘স্পিকারের রেফারেন্স ছাড়া কিছুই নয়’

আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নির্বাচন কমিশনার স্পষ্ট করে বলেছেন, কোনো এমপিকে দল বহিষ্কার করলেই তাঁর সদস্যপদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয় না। এ ক্ষেত্রে সংসদের স্পিকার যদি আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি ইসির কাছে রেফার করেন, তখনই কমিশন আইন ও সংবিধান অনুযায়ী তদন্ত, শুনানি ও পর্যালোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেবে।

অর্থাৎ, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইসি পর্যবেক্ষণ অবস্থানে আছে—তারা নিজ উদ্যোগে পদ খারিজ বা বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে না।

সংবিধানের আলোকে কী হতে পারে

বাংলাদেশের সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদে সংসদ সদস্যের অযোগ্যতার বিষয়টি উল্লেখ আছে। তবে বাস্তবে কোনো এমপির পদ শূন্য হবে কি না, তা নির্ধারণের ক্ষেত্রে সাধারণত নিম্নলিখিত ধাপগুলো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে—

  • দলীয় অবস্থান ও অভিযোগ
  • স্পিকারের কাছে বিষয়টি উত্থাপন
  • স্পিকারের প্রাথমিক মূল্যায়ন
  • প্রয়োজন হলে নির্বাচন কমিশনে রেফার
  • ইসির তদন্ত, শুনানি ও চূড়ান্ত মতামত

এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত এমপি পদ বহাল থাকে—এটাই প্রচলিত সাংবিধানিক বাস্তবতা।

তবে গাজী নজরুল ইসলামের ক্ষেত্রে স্পিকার রেফার করলে বিষয়টি তখন নির্বাচন কমিশনে যাবে। ইসি শুনানি করে সিদ্ধান্ত দিতে পারে—তিনি অযোগ্য কি না। ফলে বিষয়টি দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ায় গড়াতে পারে বলে মনে করছেন সংবিধান সংশ্লিষ্টরা।

রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওকে কেন্দ্র করে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা শুধু ব্যক্তিগত নয়—রাজনৈতিকভাবেও প্রভাব ফেলছে। দলীয় শৃঙ্খলা, নৈতিকতা এবং জনপ্রতিনিধির আচরণ—সবই এখন আলোচনার কেন্দ্রে।

বর্তমান অবস্থা: ‘ওয়েট অ্যান্ড সি’

সব মিলিয়ে এখনো গাজী নজরুল ইসলামের এমপি পদ বহাল রয়েছে। চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। বিষয়টি নির্ভর করছে—স্পিকার পদক্ষেপ নেন কি না ও নির্বাচন কমিশনে আনুষ্ঠানিক রেফারেন্স যায় কি না তার ওপর।

এই মুহূর্তে গাজী নজরুল ইসলামের এমপি পদ নিয়ে যে আলোচনা চলছে, তা মূলত রাজনৈতিক ও জনমতকেন্দ্রিক। সাংবিধানিক বাস্তবতায় সিদ্ধান্তের চাবিকাঠি রয়েছে স্পিকার ও পরবর্তী সময়ে নির্বাচন কমিশনের হাতে। তাই পরিস্থিতি দ্রুত বদলাতে পারে, আবার দীর্ঘসূত্রতাও তৈরি হতে পারে—সবকিছু নির্ভর করছে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার ওপর বলে সংসদ সচিবালয়ে আইন শাখা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা জানান।

উল্লেখ্য,গত সোমবার রাতে গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত মুহূর্তের একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে এক তরুণীর সঙ্গে তাঁকে ঘনিষ্ঠভাবে দেখা যায়। প্রথম দিকে জামায়াতের অনেক নেতা–কর্মী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিতে তৈরি বলে দাবি করেন।

তবে পরদিন গাজী নজরুল ইসলাম নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া পোস্টে জানান, ভিডিওতে থাকা তরুণী তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম বেগম। গত ১৭ জুন প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে পারিবারিকভাবে তাঁদের বিয়ে হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর জামায়াতের খুলনা অঞ্চলের পরিচালক ও দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ইজ্জত উল্লাহর নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

কমিটি তাঁর প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য নেয় এবং ঘটনার আদ্যোপান্ত জানার চেষ্টা করে। পরে কমিটি তদন্ত প্রতিবেদন কেন্দ্রে জমা দেয়। ওই প্রতিবেদন গতকাল বুধবার দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদে আলোচনার পর গাজী নজরুল ইসলামকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত হয়।

তদন্ত কমিটি প্রমাণ পেয়েছে, গাজী নজরুল বিয়ের আগে ওই নারীর সঙ্গে একাধিকবার দেখা করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি ‘পর্দা লঙ্ঘন’ করেছেন। তা ছাড়া এ ঘটনায় সংগঠনের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শুধু রুকনিয়্যত বা রুকন পদ বাতিল করে এত বড় ক্ষতি লাঘব হবে না বলেই তাঁকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

জামায়াতের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানিয়েছে, গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী তাঁর আত্মীয়। তিনি ঢাকায় এলে মাঝেমধ্যে ওই আত্মীয়ের বাসায় উঠতেন।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়