মনিরুল ইসলাম : নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু হয়ে গেছে। আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরুর প্রথম প্রহরে মাঠে নেমেছে বিএনপি। দলটির শীর্ষ নেতৃত্বের দিকনির্দেশনা, নতুন পরিকল্পনা ও নির্বাচনী বার্তা নিয়ে ভোটের রাজনীতিতে সক্রিয় হতে শুরু করেছে দলটি। এই প্রচারণার সূচনা হয়েছে সিলেট থেকেই, যেখানে গণসংযোগে রয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
এদিকে, বুধবার দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিটে প্রকাশ করা হয় বিএনপির নির্বাচনী থিম সং। এই মাধ্যমে ডিজিটালি আনুষ্ঠানিক প্রচারে প্রবেশ করলো বিএনপি।
রাজধানীর হোটেল লেকশোরে বিএনপির নির্বাচনী থিম সংয়ের উদ্বোধন ঘোষণা করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। এতে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন, এবং বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক ইসমাইল জবিউল্লাহ, মুখপাত্র ড. মাহাদী আমিন ও জোবায়ের বাবু।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক অঙ্গনের তারকা শিল্পী, বিশিষ্ট কন্ঠ, সাংবাদিকসহ বিএনপির সুধীজনরা উপস্থিত ছিলেন।
শিল্পীদের মধ্যে আশরাফউদ্দিন আহমেদ উজ্জ্বল, নায়িকা রোজিনা, মনির খান, কনক চাঁপা, রবি চৌধুরী, নাসির, রিজিয়া পারভীন, বেলাল খান, সাব্বির, ইথুন বাবু, শিবাসানু, কাজী জেসিন, গীতিকার মুন্সী ওয়াদুদ, কিসলু, মৌসুমী হামিদ প্রমুখ।
নির্বাচনী থিম সংয়ে বিএনপির বহুল ব্যবহৃত স্লোগান— ‘ভোট দিবো কিসে, ধানের শীষে’, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’—সহ একাধিক বার্তাকে সংগীতের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে রুহুল কবির রিজভী বলেন, পরমাণুর কেন্দ্রে যেমন প্রোটন, ইলেকট্রন ও নিউট্রন থাকে এবং তাদের বন্ধন অত্যন্ত দৃঢ়, তেমনি দৃঢ় বন্ধনের একটি রাষ্ট্রীয় দর্শনে আমরা বিশ্বাস করি। সেই দর্শন হচ্ছে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, যার প্রতীক ধানের শীষ।
তিনি বলেন, ধানের শীষ কেবল একটি নির্বাচনী প্রতীক নয়, এটি এখন গ্রাম বাংলার প্রতীকে পরিণত হয়েছে। তবে নানা বিধিনিষেধ ও নিয়মের কারণে পাড়া-মহল্লায় আগের মতো নির্বাচনী উৎসবের পরিবেশ আর নেই।
তিনি বলেন, সবাইকে নিয়ে একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। মানুষের যে ভোটের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল, তা আবারও ফিরে আসবে।
ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে তিনি বলেন, ধানের শীষ প্রতীক শেখ হাসিনাও মুছে দিতে পারেননি, আর কেউ পারবে না। এই প্রতীক মানুষের হৃদয়ে হৃদয়ে মিশে আছে।
দলীয় সূত্র জানায়, আসন্ন নির্বাচনে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের মূল ভিত্তি হবে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ‘১৯ দফা’ এবং বেগম খালেদা জিয়ার ‘ভিশন ২০৩০’।