শিরোনাম
◈ আইসিসির প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক শেষে যা জানাল বিসিবি ◈ নিয়মভিত্তিক বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সহযোগিতার পক্ষে বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ◈ ‘ব্লাডি সিটিজেন’ বিতর্কে ইসির নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে ক্ষোভ হাসনাত আব্দুল্লাহর (ভিডিও) ◈ গুম-খুনের শিকার পরিবারের সদস্যদের আর্তনাদ শুনে কাঁদলেন তারেক রহমান (ভিডিও) ◈ আইনশৃঙ্খলা জোরদার: ৩৩০ সন্ত্রাসীর চট্টগ্রামে প্রবেশ ও অবস্থান নিষিদ্ধ, গণবিজ্ঞপ্তি জারি ◈ ঢাকা ক‌্যা‌পিটাল‌সের বিদায়, ‌বি‌পিএ‌লের প্লে-অফে রংপুর রাইডার্স  ◈ ইসরায়েলি সমর্থকদের মা‌ঠে ঢুক‌তে না দেয়ায় চাকরি হারালেন ব্রিটিশ পুলিশ কর্মকর্তা ◈ আইসিসি প্রতিনিধি দলের ভারতীয় কর্মকর্তা বাংলাদেশের ভিসা পাননি ◈ তামিম ইকবাল, বিসিবি ও কোয়াব ত্রিমুখী সংকটের নেপথ্যে রাজনীতি  ◈ চট্টগ্রামে জুলাইযোদ্ধা হাসনাত আবদুল্লাহর ওপর সশস্ত্র হামলা

প্রকাশিত : ১৭ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৩:২৬ দুপুর
আপডেট : ১৭ জানুয়ারী, ২০২৬, ১০:০০ রাত

প্রতিবেদক : মনিরুল ইসলাম

বাংলাদেশের মানুষ গণতন্ত্রের পথে হাঁটতে শুরু করেছে : তারেক রহমান (ভিডিও)

মনিরুল ইসলাম : বাংলাদেশের মানুষ গণতন্ত্রের পথে হাঁটতে শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এক দুঃসহ সময় আমরা অতিক্রম করেছি মন্তব্য করে তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনের তীব্রতা কখনো কখনো হয়তো কিছুটা স্তিমিত হয়েছে কিংবা আন্দোলন কখনো তুঙ্গে উঠেছে এবং এই আন্দোলন করতে গিয়ে বছরের পর বছর ধরে অসংখ্য গুম খুন করে অপর মিথ্যা মামলার হয়রানি যাতনের পরও বিএনপির একজন নেতাকর্মীও কিন্তু রাজপথ ছাড়েনি। 

বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, একই পরিবারের এক ভাই ঘুম হয়েছে। আরেক ভাই গিয়ে তার জায়গায় পরে তিনি রাজপথে আন্দোলনকে আরো তীব্রতর করার প্রতিজ্ঞার শপথ নিয়ে দাঁড়িয়ে গিয়েছে। কৌশলের নামে গুপ্ত কিংবা সুপ্ত বেশ ধারণ করেনি বিএনপির কর্মীরা।

আজ শনিবার রাজধানীর চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। বিগত আন্দোলন নিপীড়নে গুম খুন পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এ সভার আয়োজন করে আমরা বিএনপি পরিবার ও মায়ের ডাক।

তারেক রহমান বলেন, বিভীষিকাময় দিনের বা রাতের অবসান হয়েছে। বাংলাদেশ বাংলাদেশের মানুষ গণতন্ত্রের পথে হাঁটতে শুরু করেছে। যেসব মানুষরা তাদের স্বজন হারিয়েছেন, যেসব মায়েরা তাদের সন্তান হারিয়েছেন। যেসব বোনেরা তাদের স্বামীকে হারিয়েছেন, যেসব সন্তানেরা তাদের পিতাকে হারিয়েছেন, তাদের সত্যিকারভাবে যদি বলতে হয় আসলে আপনাদেরকে সান্ত্বনা দেওয়ার মতন ভাষা বোধ আমাদের কাছে নেই। 

তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে দলের নেতাকর্মীরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে এ ধরনের আপোষহীন ভূমিকা রাখতে পারে সেই দলের বিরুদ্ধে সর কিংবা অপপ্রচার চালিয়ে কেউ এই দলকে দমন করে রাখতে পারবে না। ইনশাআল্লাহ। ফ্যাসিবাদী আমলের নির্যাতনের শিকার আমার সামনে বসা হাজারো প্রিয় মুখ আপনাদেরকে আত্মত্যাগ আপনাদের বুক ভরা কষ্ট আমরা যারা আজ পেছনে রয়ে গিয়েছি আমরা আমাদের সর্বশক্তি দিয়ে চেষ্টা করবো যাতে এটি বৃথা না যায় ইনশাআল্লাহ।

বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে যারা ঘুম হয়েছেন। যারা শহীদ হয়েছেন। তাদের প্রতি আগামী দিনের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের আকাঙ্ক্ষা আমরা দেখছি। সেই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র এবং সরকারের অবশ্যই অনেক অনেক দায় এবং দায়িত্ব রয়েছে। রাষ্ট্র কখনোই আপনাদেরকে ভুলে যেতে পারে না।

সকল শহীদদের আত্মত্যাগকে জনমনে স্মরণীয় করে রাখতে আগামী দিনে বিএনপি কিছু পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। যদিও নির্বাচন কমিশনের বাধ্যবাধকতার কারণে এই মুহূর্তে আমি হয়তো বিস্তারিতভাবে সেই পরিকল্পনা আজকের এই অনুষ্ঠানে তুলে ধরতে পারছি না। কিন্তু তারপরও বলতে যদিও কষ্ট হচ্ছে যে আমরা দেখেছি নির্বাচনের কমিশনের রিসেন্টলি কিছু বিতর্কিত ভূমিকা বা বিতর্কিত অবস্থান। তারপরেও রাজনৈতিক একটি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দল হিসেবে আমরা ধৈর্যের পরিচয় দিতে চাই।

রাষ্ট্রীয় সহিংসতার শিকার পরিবারগুলোর প্রতি সাধ্যমতন রাষ্ট্রীয় সহায়তা হাত বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, স্বাধীনতা প্রিয়, গণতন্ত্র প্রিয় প্রতিটি মানুষের সামনে জনগণের দায়িত্বশীল একটি মানবিক রাষ্ট্র গঠনের সুযোগ আমাদের সামনে এসেছে। কেউ কেউ বিভিন্ন রকম কথা বলে একটি অবস্থা তৈরি করার চেষ্টা করছে। যেখানে এই গণতন্ত্রের পথ যেটি তৈরির পথ যে তৈরি হয়েছে সেটি যাতে বাধাগ্রস্ত হয়।

আমি অনুরোধ করব আপনারা এবং আমি অনুরোধ করব বাংলাদেশের দলমত নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষ যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেন সেই প্রতিটি মানুষকে আজ সজাগ থাকার জন্য। যারা বিভিন্ন উসিলা দিয়ে বিতর্ক তৈরি করে গণতন্ত্রের পথকে আবার নষ্ট করার বা ব্যহত করার চেষ্টা করছেন। তারা যাতে সফল না।

তারেক রহমান বলেন, ন্যায়বিচার পেতে দেশের আইনের দৃষ্টিতে, আইন অনুযায়ী যাতে ন্যায় বিচার পেতে পারে। তার একটি মাত্র উপায় হচ্ছে সেই ন্যায়বিচারকে নিশ্চিত করার একটি মাত্র উপায় হচ্ছে বাংলাদেশে আগামী দিনে অবশ্যই একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। যেই সরকার জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণে কাজ করবে। যেই সরকার মানুষের যারা নির্যাতিত হয়েছে অত্যাচারিত হয়েছে তাদের প্রতি ন্যায় বিচার করবে। আসুন আমরা আজকে সেই শপথ গ্রহণ করি। আমরা আজকে সেই প্রত্যাশা করি।

আপনাদের আজকে এখানে আসা এখানে উপস্থিত হওয়া যাতে বৃধা না যায়। আরো যাতে শহীদ যারা আছেন শহীদ পরিবার আছেন প্রত্যেকটি মানুষ সময় লাগুক। কিন্তু ধৈর্যের সাথে আমরা যাতে আপনাদের প্রতি যে অন্যায় হয়েছে। সেই অন্যায়ের বিচার যাতে হতে পারে। আপনারা যাতে ন্যায়ের ন্যায্যতা পেতে পারেন। সেই লক্ষ্যে আমরা কাজ করি। আমরা ধৈর্য ধারণ করি। আমরা আমাদের সজাগ থাকি যাতে আমাদের গণতান্ত্রিক যাত্রা যা শুরু হয়েছে তাতেই যাতে কেউ ব্যাঘাত করতে না পারে।

অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন মায়ের ডাকের সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম তুলি এবং আমরা বিএনপি পরিবারের সদস্য জাহিদুল ইসলাম রনি।

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, নিখোঁজ বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা, হুম্মাম কাদের চৌধুরী, আমরা বিএনপি পরিবারের আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমনসহ আরো অনেকেই।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়