মনিরুল ইসলাম: প্রবীণ আইনজীবী, '৭২ এর সংবিধান রচয়িতার অন্যতম একজন ও গণফোরামের প্রতিষ্ঠাতা ড. কামাল হোসেনের নাম বিক্রি করে মঞ্চ- ৭১ নামের সংগঠনটির নেতারা জাতির সঙ্গে প্রতারণা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ড. কামাল হোসেনের পরিবারের দাবি তার সঙ্গে কথা না বলেই মুক্তিযোদ্ধাদের নামে হঠাৎ গজিয়ে ওঠা এ সংগঠনটি তাকে জড়িয়ে একের পর এক বিতর্কিত কর্মকাণ্ড করে চলছে। তাদের এমন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে ড. কামাল হোসেনের সম্পর্কও নেই। আর গণফোরাম জানিয়েছে, মঞ্চ -৭১ নামে যে সংগঠনটি ড. কামাল হোসেনের নাম ব্যবহার করে জনমতে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে তার সাথে ড. কামাল হোসেন বা গণফোরামের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান রক্ষার দাবি নিয়ে গত ৫ আগস্ট ‘মঞ্চ- ৭১’ নাম দিয়ে একটি সংগঠনের জন্ম দেন সুপ্রিমকোর্টের প্রবীণ আইনজীবী জহিরুল ইসলাম (জেড আই) খান পান্না ও অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল মাহমুদ। ওইদিনই এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ সংগঠনের আত্মপ্রকাশের কথা জানান তারা।
গত ১৫ আগস্ট ড. কামাল হোসেনের নাম জড়িয়ে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে ফুল দেওয়ার কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেন অ্যাডভোকেট পান্না।
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির অনুষ্ঠান নিয়ে বিতর্ক
২৮ আগস্ট বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে ‘সংবিধান ও মুক্তিযোদ্ধা’দের সম্মান ক্ষুন্ন হচ্ছে দাবি তুলে এক সভার আয়োজান করে মঞ্চ- ৭১। এতে ড. কামাল হোসেন প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন বলে ঘোষণা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানের ব্যানারেও প্রধান অতিথি হিসেবে ড. কামাল হোসেনের নাম উল্লেখ করা হয়। তবে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আয়োজক জেডআই খান পান্না নিজেই আসেননি। ডঃ কামাল হোসেনও আসেনি।
এদিকে, ড. কামালের নাম ব্যবহার করায় গণফোরামের প্রতিবাদ
২৮ আগস্ট রাতে সংবাদপত্রে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘মঞ্চ ৭১ নামে একটি সংগঠন তাদের ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনের সেমিনারের ব্যানারে অনুমতি ছাড়া গণফোরামের প্রতিষ্ঠাতা ও ইমেরিটাস সভাপতি ড. কামাল হোসেনের নাম ব্যবহার করায় গণফোরামের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সিনিয়র আইনজীবী সুব্রত চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক ডা. মিজানুর রহমান প্রতিবাদ জানিয়েছেন।’
বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়েছে, গণফোরাম নেতৃবৃন্দ ‘মঞ্চ ৭১’ নামে যে সংগঠন ড. কামাল হোসেনের নাম ব্যবহার করে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে, তার সাথে ড. কামাল হোসেন বা গণফোরামের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
অনুমতি ছাড়া ড. কামাল হোসেনের নাম ব্যবহার করে কর্মসূচি ঘোষণার বিষয়ে জানতে ফোন করা হয় অ্যাডভোকেট পান্নার মুঠোফোনে। তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি। রিসিভও করেননি।