শিরোনাম
◈ ভারতে ইসলাম থাকবে, নাগরিক মুসলিমদের কর্মসংস্থানে অগ্রাধিকার দিন, মানিয়ে নিতে শিখুন : আরএসএস প্রধান ◈ এবার যে কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রকাশ্যে এলো ইরাক (ভিডিও) ◈ ভারত থেকে বাংলাদেশে চোরাই মোবাইল পাচার: দিল্লি-কলকাতা থেকে আন্তর্জাতিক চক্রের ৮ সদস্য গ্রেপ্তার, উদ্ধার ২৯৪ ফোন ◈ বাংলাদেশের দর্শকদের চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনাল দেখতে রাত জাগতে হ‌বে না ◈ টেনেও আনা যাচ্ছে না, ছুটি নিয়ে যে কারণে আর ফেরেনি এক লাখ ইসরাইলি সেনা! (ভিডিও) ◈ আগামীতে তরুণরাই রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ও গুণগত পরিবর্তন আনবে: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ◈ আগামী সংসদ নির্বাচন সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হবে : ইসি আনোয়ারুল ◈ চ‌্যা‌ম্পিয়ন্স লি‌গের ড্র: রিয়ালের মুখোমুখি লিভারপুল ও ম্যান সিটি, বার্সেলোনার প্রতিপক্ষ পিএসজি ◈ কখ‌নো ক‌ঠোর কখ‌নো ঢি‌লেঢালা, দায়িত্ব পালনে পুলিশ কি 'উভয় সংকটে' ◈ ‌বিকা‌লে ভুটা‌নের বিরু‌দ্ধে লড়াই‌য়ে নাম‌ছে বাংলাদেশ নারী দল

প্রকাশিত : ২৯ আগস্ট, ২০২৫, ১১:১৪ দুপুর
আপডেট : ২৯ আগস্ট, ২০২৫, ০২:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : এল আর বাদল

কখ‌নো ক‌ঠোর কখ‌নো ঢি‌লেঢালা, দায়িত্ব পালনে পুলিশ কি 'উভয় সংকটে'

এল আর বাদল : সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ থাকলেও পুলিশের ব্যাকিকেড সরিয়ে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনের সামনে সমাবেশ করেছিলেন বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনের সমর্থকরা। আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে যমুনার সামনে অবস্থান নিয়েছিলেন এনসিপি নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ ও তার সমর্থকরা।

তবে প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে ভিন্ন চেহারা পুলিশের। এর আগে ঢাকায় ধর্ষণবিরোধী প্রতিবাদ কর্মসূচিতেও পুলিশকে কঠোর অবস্থান নিতে দেখা গেছে। --- বি‌বি‌সি বাংলা

ভিন্ন প্রেক্ষাপটে নিজেদের ভূমিকা নিয়ে বারবারই প্রশ্নের মুখে পড়ছে পুলিশ। কিছু ঘটনায় নিরব আবার কিছু ক্ষেত্রে অতিরিক্ত বল প্রয়োগের অভিযোগ এই বাহিনীকে 'উভয় সংকটে' ফেলছে কি না- এ নিয়েও চলছে আলোচনা। রাষ্ট্রীয় এই বাহিনীর নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন কেউ কেউ।

সম্প্রতি প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে ভূমিকা নিয়ে আবারো আলোচনায় পুলিশের ভূমিকা। প্রশ্ন উঠছে, প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন অভিমুখে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের থামাতে আর কী করতে পারতো পুলিশ?

আর সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণার পরও অতীতে যে কর্মসূচিগুলো ওই এলাকায় হয়েছে, সেগুলো নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কী ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছিল- এ প্রসঙ্গও সামনে আনছেন কেউ কেউ।

এছাড়া সম্প্রতি পুলিশের সামনেই ছিনতাই ও মব তৈরি করে হামলার ঘটনায়ও অনেক ক্ষেত্রেই পুলিশের নিরব ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা হয়েছে।

পুলিশ বলছে, ব্যবস্থা নিলে অনেক সময় পক্ষপাত বা অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ ওঠে, আবার ব্যবস্থা না নিলে আনা হয় গাফিলতির অভিযোগ। ফলে পুলিশি পদক্ষেপ যেভাবেই হোক, সমালোচনা এড়ানো প্রায়ই অসম্ভব হয়ে পড়ে।

যদিও পুলিশের জন্য এটা নতুন কিছু নয় বলেই মনে করেন সাবেক আইজিপি নুরুল হুদা। তিনি বলছেন, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি পুলিশের ভূমিকা পালনের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যখন স্পেসিফিক পলিটিক্যাল গভর্নমেন্ট থাকে না, তখন একটু ঝামেলা বা সমস্যা হয়," বলেন মি হুদা।

পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন কেনো

জুলাই অভ্যুত্থানের পর থেকেই দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে নানা সমালোচনা রয়েছে। বছর পেরোলেও সেই অবস্থার খুব একটা উন্নতি হয়নি বলেই মনে করেন অনেকে। আবার এই সময়ে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে পুলিশ নিজেও বাঁধার মুখে পড়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

গত ২১ ও ২২শে মে বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনকে মেয়রের দায়িত্ব দেওয়ার দাবিতে তার সমর্থকেরা যমুনার সামনে অবস্থান নেন।

এর আগে বিভিন্ন সংগঠন আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের দাবিতে একই স্থানে বিক্ষোভ করলেও তেমন কোনো ভূমিকা ছিল না পুলিশের। এছাড়া পুলিশের সামনেই উচ্ছৃঙ্খল জনতার হামলার শিকার কিংবা ছিনতাইয়ের অনেক ঘটনাও ঘটেছে সম্প্রতি।

গত জুলাই মাসে রাজধানীর ধানমন্ডিতে পুলিশের সামনেই অস্ত্র দেখিয়ে ছিনতাইয়ের একটি ভিডিও ভাইরাল হয় সামাজিক মাধ্যমে। এছাড়া মোহাম্মদপুরে একটি ছিনতাইয়ের ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ নিয়েও নানা আলোচনা তৈরি হয়।

এর আগেও ধানমন্ডি ও শাহবাগে পুলিশের সামনেই মব তৈরি করে হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলার শিকার হয়েছে খোদ পুলিশও।

অতীতেও এমন দ্বিমুখী আচরণের কারণে সমালোচিত হয়েছেন পুলিশের সদস্যরা। তবে সম্প্রতি এই পরিস্থিতি অনেক বেশি বেড়েছে বলেই মনে করেন অনেকে।

বিশেষ করে প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনের দিকে যেতে বাঁধা দেয়ার ধরন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই।

ওই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী অনেকেই বলছেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা থাকলেও তাতে বাড়তি রসদ জুগিয়েছে পুলিশের ভূমিকা। বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীকে বেধড়ক পিটিয়েছেন পুলিশের সদস্যরা।

প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, আন্দোলন দমাতে অতিরিক্ত বল প্রয়োগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশেরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। পরে অবশ্য শিক্ষার্থীদের কাছে দুঃখপ্রকাশ করেছেন ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী।

এই সংকট কাটবে কীভাবে

জুলাই অভ্যুত্থানের পর বছর পেরিয়েছে কিন্তু এখনও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নানা কারণে চ্যালেঞ্জের মুখে পুলিশ। পুলিশের সামনেই অপরাধ, পুলিশের ওপর হামলা, আসামী ছিনতাই- এমন নানা ঘটনা গণমাধ্যমের শিরোনাম হচ্ছে মাঝেমধ্যেই।

এদিকে অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে গঠিত পুলিশ সংস্কার কমিশন প্রতিবেদন জমা দিলেও তার বাস্তবায়ন শুরু হয়নি এখনো। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ উঠেছিল এই বাহিনীর বিরুদ্ধে। যার ফলে ব্যাপক জনরোষের শিকারও হয়েছিল পুলিশ সদস্যরা। ওই সময় দেশের অধিকাংশ থানায় হামলা ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটেছিল।

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে মোট ৪৪ জন পুলিশ সদস্য নিহত হন। বাহিনীর সিনিয়র কর্মকর্তাদের অনেকেই বলছেন, জুলাইয়ে পুলিশ হত্যার বিচার না হওয়া বাহিনীর সদস্যদের মনোবল ভেঙে পড়ার কারণ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পুলিশের এক কর্মকর্তা বিবিসি বাংলাকে বলেন, "রাজনৈতিক কারণে পুলিশ সদস্য যদি ভিকটিম হয় তার দায় কে নেবে? এজন্য অনেকেই দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সংশয়ে থাকছেন।"

এছাড়া "অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং যাকে-তাকে ট্যাগিং এর সংস্কৃতি অনেক বেশি বেড়েছে, যা আমাদের কাজ করার ক্ষেত্রকে বেশ জটিল করে তুলেছে," বলে দাবি করেন পুলিশের ওই কর্মকর্তা।

সংকটের বিষয়টি স্বীকার করছে খোদ পুলিশ সদর দপ্তরও। বিবিসি বাংলার প্রশ্নের জবাবে তারা বলছে, "পুলিশ সবসময়ই এক ধরনের উভয় সংকটে থাকে। কোনো ঘটনায় ব্যবস্থা নিলে তাদের বিরুদ্ধে কখনো কখনো পক্ষপাত বা অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ ওঠে। আবার ব্যবস্থা না নিলে দায়িত্বহীনতা কিংবা গাফিলতির অভিযোগও আনা হয়," বলে দাবি পুলিশ সদর দপ্তরের।

এছাড়া রাজনৈতিক, সামাজিক এবং গণমাধ্যমের চাপের কথাও বলছে পুলিশ। তারা বলছে, "পুলিশের কাজের পরিধি আইনি কাঠামো দ্বারা নির্ধারিত। এই কাঠামোর সাথে ক্ষেত্রবিশেষে জন-আকাঙ্ক্ষার তাল মেলাতে হিমশিম খেতে হয় পুলিশকে।

এমন পরিস্থিতির দায় রাজনৈতিক নেতৃত্বকেই দিচ্ছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। তিনি বলছেন, "পুলিশকে প্রেপারলি ব্যবহার করার জন্য রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার আগে বন্ধ করতে হবে।"

আগের সরকারগুলো পুলিশকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার কারণে সাধারণ মানুষের কাছে তাদের ভাবমূর্তি সংকট তৈরি হয়েছে বলেই মনে করেন মি. মোরশেদ।

এছাড়া জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ঘিরে পুলিশ হত্যার বিচার না হওয়াকেও এই বাহিনীর মনোবল নষ্ট হওয়ার কারণ হিসেবে দেখছেন তিনি।

"পাঁচই অগাস্ট ঘিরে পুলিশের ওপর হামলা হলো, থানায় হামলা হলো, মেরে ঝুঁলিয়ে দেওয়া হলো, এগুলোর ব্যাপারে আপনি ইনডেমনিটি দিয়ে বলে দিলেন বিচার হবে না, পুলিশের মনোবল তো ওখানেই ভেঙে গেছে," বলেন মি. মোরসেদ।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়