শিরোনাম
◈ ইরানের জনগণের অধিকার মেনে নিতে হবে যুক্তরাষ্ট্রকে, বন্ধ করতে হবে আগ্রাসন ও দাদাগিরি: প্রেসি‌ডেন্ট পে‌জেশ‌কিয়ান ◈ সৌদি আরব থেকে মার্কিন কর্মকর্তাদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ যুক্তরাষ্ট্রের ◈ শেষ মুহূর্তের গোলে বায়ার্নের মাঠে পয়েন্ট উদ্ধার আর্সেনালের ◈ এবার ইতা‌লির ক্লাব কোমোর কা‌ছে হারলো ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ◈ নেপাল প্রিমিয়ার লি‌গে শেখ মেহেদী, এক দলে খেল‌বেন ৪ বাংলাদেশি ক্রিকেটার ◈ ‘রোনাল্ডো ডুবিয়েছিলেন ইউনাইটেডকে, আমাকেও’ ◈ হাজার কোটি টাকার ইভিএম নিয়ে বিপাকে নির্বাচন কমিশন ◈ বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট, কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে বাংলাদেশের পোশাকশিল্প : টাইম ◈ বুকিং ডটকমে ভুয়া তালিকা ও ফিশিং প্রতারণা ঠেকাতে ইইউর কড়া নির্দেশ, পেইড তালিকায় স্বচ্ছতার তাগিদ ◈ মানিকগঞ্জে গ্যাস অনুসন্ধানে নতুন কূপ খনন করবে বাপেক্স, সম্ভাবনা ঢাকায় গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর

প্রকাশিত : ২০ আগস্ট, ২০২২, ০৩:৫৫ রাত
আপডেট : ২০ আগস্ট, ২০২২, ০২:২৯ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

শঙ্কা বাড়ছে পারমাণবিক বিপর্যয়ের

ছবি: সংগৃহীত

ইউলিয়া কেসাইভা ও আনা চেরনোভা (সিএনএন থেকে): রাশিয়া-অধিকৃত এনেরহোদার শহরে বাস করেন ইউক্রেনীয় নাগরিক ওলগা। দক্ষিণ-পূর্ব ইউক্রেনের দিনিপ্রে্রা নদীর তীরবর্তী এই শহর থেকে প্রতিদিন পার্শ্ববর্তী জাপোরিঝিয়া নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্টে (পারমাণবিক বিদ্যত্ চুল্লি) কাজ করতে যান তিনি। প্ল্যান্টটি এখন আলোচনার কেন্দ্রে। ইউরোপের সবচেয়ে বড় নিউক্লিয়ার কমপ্লেক্স এটি। প্ল্যান্টটির আশপাশ জুড়ে ক্রমবর্ধমান গোলাগুলির পর বিশ্বব্যাপী উদ্বেগের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে এটি। অবস্হার পরিপ্রেক্ষিতে সম্ভাব্য পারমাণবিক দুর্ঘটনার কথা বলছেন অনেকেই।

কিয়েভ অভিযোগ করে আসছে, রাশিয়ান বাহিনী নিউক্লিয়ার কমপ্লেক্সটির ভেতরে ভারী অস্ত্রশস্ত্র মজুত করেছে। গত মার্চ মাসে প্ল্যান্টটি দখলে নেয় রুশ বাহিনী। এর পর থেকেই প্ল্যান্টের ভেতরে অস্ত্র-গোলাবারুদ জড়ো করা শুরু করে দখলদার বাহিনী। প্ল্যান্টটিকে তারা মূলত আক্রমণ চালানোর ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে। কারণ তারা ভালোভাবেই জানে যে, এখান থেকে আক্রমণ চালালে ইউক্রেন পালটা গুলি ছুড়বে না। কেন না, ইউরোপে যে ছয়টি নিউক্লিয়ার প্ল্যান্ট আছে এটি তার মধ্যে সবচেয়ে বড় এবং এই প্ল্যান্টকে ঘিরে আক্রমণ চালালে তা এক বিরাট বিপর্যয় বয়ে আনবে। পালটা অভিযোগ আছে মস্কোর পক্ষ থেকেও। মস্কোর দাবি, ইউক্রেনীয় সেনারা সাইটটিকে (প্ল্যান্ট) টার্গেটে পরিণত করেছে। এর আশপাশে গুলি ছুড়ছে তারা। প্রকৃতপক্ষে উভয় পক্ষই নিউক্লিয়ার টেররিজমের (পারমাণবিক সন্ত্রাসবাদ) জন্য একে অপরের দিকে আঙুল তোলার চেষ্টায় মরিয়া।

ওলগা ও তার ইউক্রেনীয় সহকর্মীরা চলমান বাজে পরিস্হিতির মধ্যেও প্ল্যান্টে কাজ করা চালিয়ে যাচ্ছেন। চলমান ঘটনাদৃষ্টে পারমাণবিক বিপর্যয়ের এই শঙ্কা তাদের জন্য কেবল ‘দুঃস্বপ্নের ভূত’ নয়; বরং তাদের জন্য প্র্রতিদিনের বাস্তবতা এটি।

সিএনএনকে দেওয়া ওলগার সাক্ষাত্কারে এক কঠিন পরাবাস্তবতার চিত্র উঠে আসে। ওলগা বলেন, ‘এটি তাদের জন্য ‘ঘুমের মাঝে স্বপ্ন দেখার মতো’। এই প্ল্যান্টে কাজ করা লোকজনের ওপর রাশিয়ান বাহিনী কড়া নজরদারি চালায়। যদিও ইউক্রেনীয় প্রযুক্তিবিদদের দ্বারা প্ল্যান্টটি পরিচালিত হচ্ছে এখনও।’

পারমাণবিক স্হাপনাটি দখলের পর থেকে বিগত কয়েক মাসে বহু ইউক্রেনীয় কর্মী ধীরে ধীরে কাজে আসা বন্ধ করে দিয়েছে। বর্তমানে ছিন্নভিন্ন কিছু কক্ষে আংশিকভাবে কাজ চালানো হচ্ছে। এক্ষেত্রে কর্মীদের থাকতে হয় কড়া নজরদারির মধ্যে। কমপ্লেক্সের ভেতরে প্রবেশর জন্য তাদের দুটি চেকপয়েন্ট অতিক্রম করতে হয়। প্রতিটি পয়েন্টে তাদের ওপর রাশিয়ান সৈন্যরা কড়া তল্লাশি চালায়। ওলগা বর্ণনা করেন, ‘প্ল্যান্টটি রুশ বাহিনীর হাতে বেদখলের পরে শুধু অপারেশনাল কর্মীরা স্টেশনে কাজ করছেন। সেখানে অনেকগুলো ভাঙা এবং পোড়া ঘর ও জানালা ছিল। কর্মীরা ধীরে ধীরে কাজ ছাড়তে শুরু করে। রুশ বাহিনী শুধু কিছু নির্দিষ্ট কাজের কর্মীদের আসতে বলছে এখন।’ ওলগা বলতে থাকেন, ‘প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ কর্মী চলে গেছে। কর্মী কমে যাওয়ার ফলে ও যুদ্ধের দামামায় কাজের গতি ক্রমশ দুর্বল হয়ে আসছে।’

উভয় পক্ষকে পাওয়ার স্টেশনের কাছে সামরিক কার্যক্রম বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। স্পষ্ট হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে জাতিসংঘ বলেছে—প্ল্যান্টের কাছে সামরিক কার্যক্রম বন্ধ না করলে বড় মাশুল গুনতে হবে উভয়পক্ষকেই। কিন্তু এর ঠিক কয়েক ঘণ্টা পরই প্ল্যান্টের চারপাশে গোলাবর্ষণের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় ইউক্রেন ও রাশিয়া পরস্পরকে দোষারোপ করছে। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্েতানিও গুতেরেস এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘উত্তেজনা কমানোর পরিবর্তে গত বেশ কয়েকদিন ধরে আরো গভীর উদ্বেগজনক ঘটনার খবর পাওয়া গেছে যেগুলো অত্যন্ত দুঃখজনক। এভাবে চলতে থাকলে বড় বিপর্যয় নেমে আসবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমি প্ল্যান্ট থেকে কর্মী ও সামরিক সরঞ্জাম প্রত্যাহারের পাশাপাশি সাইটে কোনো বাহিনী মোতায়েন কিংবা সামরিক সরঞ্জাম মজুত না করার আহ্বান জানাচ্ছি।’

১১ আগস্ট নিউইয়র্কে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের এক বৈঠকে ভাষণ দিতে গিয়ে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্হার (আইএইএ) প্রধান রাফায়েল গ্রোসি বলেন, ‘সাম্প্রতিক হামলার ফলে প্ল্যান্টের কিছু অংশ ধ্বংস হয়ে গেছে। এটি সম্পূর্ণরূপে ‘অগ্রহণযোগ্য কর্মকাণ্ড’। এর ফলে সম্ভাব্য রেডিয়েশন লিকেজের (পারমাণবিক বিকিরণ) ফলে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি হতে পারে। অবিলম্বে সেখানে একটি বিশেষজ্ঞ টিম প্রবেশের অনুমতি দেওয়া দরকার। পরিস্হিতি খুব দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে।’ গ্রোসি আরো বলেন, ‘এটি একটি গুরুতর সময়। চরম বাজে সময়। আইএইএকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব জাপোরিঝিয়াতে তার মিশন পরিচালনা করার অনুমতি দেওয়া উচিত।’

ইউক্রেনের রাষ্ট্র-চালিত পারমাণবিক শক্তি সংস্হা এনারগোঅ্যাটম অভিযোগ করে বলেছে যে, রাশিয়ান বাহিনী প্ল্যান্টের একটি সংরক্ষণাগারকে লক্ষ্য করে গোলা বর্ষণ করে। এ জাতীয় আক্রমণের ফলে ‘বিকিরণ’ সৃষ্টি হয়ে মারাত্মক বিপদ ঘটতে পারে। সংস্হাটি তার টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্টে একটি বিবৃতি দিয়ে দাবি করে, প্ল্যান্টটিতে ‘বিকিরণ ও অগ্নি নিরাপত্তা মান লঙ্ঘনের ঝুঁকি’ তৈরি হয়েছে। এবং তা সত্ত্বেও কাজ চালিয়ে যাচ্ছে এটি। ইউক্রেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ডেনিস মোনাস্টিরস্কি বলেন, “প্ল্যান্টের ওপর তাদের ‘পর্যাপ্ত নিয়ন্ত্রণ’ নেই। প্ল্যান্টের যে অংশে কাজ করা দরকার সে অংশে প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না ইউক্রেনীয় বিশেষজ্ঞদের।” একই দাবি কর্মী ওলগারও—কমপ্লেক্সের কিছু অংশে ইউক্রেনীয় কর্মীদের প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না।

প্ল্যান্টে হামলার বিষয়ে ইউক্রেনের হাত রয়েছে বলে দায়ী করে আসছে রাশিয়া। দখলদার প্রশাসনের স্হানীয় কর্মকর্তা ভ্লাদিমির রোগভ রাশিয়ান-রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্হা রসিয়া ২৪ চ্যানেলকে বলেন, “ইউক্রেনের হামলার পর প্ল্যান্টের পাওয়ার ট্রান্সমিশন লাইনের ‘নিরবচ্ছিন্নতা’ বিঘ্নিত হয়ে পড়ে।” যদিও কীভাবে এই হামলার ঘটানা ঘটানো হয় তা নিয়ে তিনি কিছুই বলতে পারেননি।

পালটা যুক্তি দিয়ে প্ল্যান্টে হামলার জন্য রাশিয়াকে দায়ি করছে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ। তাদের দাবি, পারমাণবিক বিদু্যত্ কেন্দ্র থেকে ছোড়া রুশ রকেট আঘাত হানে দিনিপ্রো নদীর ডান তীরে নিকোপোল শহর ও আশপাশের জেলাগুলোতে। স্হানীয় কর্মকর্তাদের মতে, গোলাগুলিতে কমপক্ষে ১৩ জন নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হন। তারা দাবি করেন, নিহতদের মধ্যে একজন ১৩ বছর বয়সি মেয়েও রয়েছে।

গত কয়েক মাস ধরে কমপ্লেক্সে রà¦