শিরোনাম
◈ চার বছর পর বিধিনিষেধহীন মুক্ত পরিবেশে পহেলা বৈশাখ ◈ পহেলা বৈশাখে ইলিশের দাম চড়া ◈ নববর্ষ ১৪৩১ বঙ্গাব্দকে বরণে বর্ণাঢ্য র‌্যালি করবে আওয়ামী লীগ ◈ নতুন বছর মুক্তিযুদ্ধবিরোধী অপশক্তির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে প্রেরণা জোগাবে: প্রধানমন্ত্রী ◈ নতুন বছর মানে ব্যর্থতা পেছনে ফেলে সমৃদ্ধ আগামী নির্মাণ করা: মির্জা ফখরুল ◈ ইসরায়েলের তেল আবিব থেকে সরাসরি ঢাকায় ফ্লাইট অবতরণ ◈ বিএনপি গুম-নির্যাতনের কাল্পনিক তথ্য দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করছে: ওবায়দুল কাদের ◈ সরকারি খরচে ৩০৪৮টি মামলায় আইনি সহায়তা প্রদান ◈ রেল ভ্রমণে মানুষের আস্থা তৈরি হয়েছে: রেল মন্ত্রী  ◈ অস্ট্রেলিয়ায় শপিংমলে ছুরি হামলায় নিহত ৫, আততায়ী মারা গেছে পুলিশের গুলিতে

প্রকাশিত : ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪, ০৭:২৯ সকাল
আপডেট : ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪, ০৭:২৯ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

সংস্কৃত বা পালির এবং শব্দের রাজনীতি

শাকিব মুসতাভী

শাকিব মুসতাভী" মানুষের অভিধানে থাকা সব কয়টা ভারী শব্দ এককালে পাতলা ছিল। যেমন, ধরেন, গবেষক শব্দটা। ধাতুমূল বিশ্লেষণ করলে পাওয়া যায় গবেষক মানে যে গরু খোঁজে। কিন্তু বাংলাভাষায় শব্দটা রিসার্চার এর সমার্থক। একইভাবে, ইংরেজি শব্দ সায়েন্টিস্ট এর ধাতুমূল বিশ্লেষণ করলে দেখবেন এর অর্থ যে কাটা-ছেঁড়া করে। গবেষক বা সায়েন্টিস্ট শব্দ দুইটার বুৎপত্তিগত অর্থ আর ব্যবহারিক অর্থ এক না। কালের বিবর্তনে শব্দগুলোর ওজন ও পরিসর বেড়ে গেছে। এক লোক মকারি করে লিখেছেন, মানুষ মেয়ের নাম সিদরাতুল মুনতাহা (বড়ই গাছ) রাখে কিন্তু প্রজ্ঞা রাখেনা। সিদরা মানে বড়ই গাছ নয়, সিডার গাছ। মুন্তাহা মানে "দ্যা এন্ড"। হিন্দি-উর্দুতে যে ইন্তেহা শব্দটা ব্যবহার করা হয়, সেইটাও একই মূলজাত। যে যাই হোক, সিদরাতুল মুনতাহা একটা মিথলোজিক্যাল কন্সেপ্ট, যার মানে হইল শেষ সীমানায় অবস্থিত সিডার গাছ। মুসলিমরা বিশ্বাস করে, সাত আসমানের এর শেষে সীমানায় বিশাল এক সিডার গাছ আছে। এরপর থেকে ফেরেস্তাদের আর প্রবেশের অনুমতি নাই।  এর মানে কী দাঁড়াইল? সিদরাতুল মুনতাহা হইল জ্ঞাত বিশ্বব্রহ্মাণ্ড বা নোউন ইউনিভার্সের শেষ সীমা। 

মানুষের বোধশক্তি যখন কম ছিল, তখন মানুষ বিশ্বব্রহ্মাণ্ড এর শেষ সীমায় একটা সিডার গাছ আছে, এই রকমটা ভাবতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করত। এখন রেডিও টেলিস্কোপ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের জ্ঞান বাড়ার সাথে সাথে বোঝা যাইতেছে মহাকাশে যে বিশাল বিশাল নেবুলা আর গ্যালাক্সির ক্লাস্টার আছে সেগুলো দূর থিকা দেখতে গাছের ছড়ানো ছিটানো ডালপালার মতই লাগে। আমি কইতেছি না এই শব্দ দিয়া কোরআনে চৌদ্দশ বছর আগেই মহাবিশ্বের গঠন ব্যাখ্যা করা হইসে। এই রকম ব্যাখ্যা হইল সিউডো সায়েন্স। কিন্তু এন্থ্রোপলজিক্যাল কন্টেক্সটে সিদরাতুল মুনতাহা শব্দটা কসমিক স্ট্রকচার আবিষ্কারের সাথে সাথে আরো বেশি রেলিভ্যান্ট হয়ে উঠছে। মানে সাদৃশ্যের কারণে মানুষ সিদরাতুল মুনতাহা শব্দটারে কসমিক ওয়েব এর মত করে ভাবতে পারবে। মোদ্দা কথা, ইসলামের কন্টেক্সটে সিদরাতুল মুনহাতা মানে একটা সিডার গাছ নয় বরং একটা ধারণা যেইটা সাধারণ মানুষ বা ফেরেস্তাদের পক্ষে পৌঁছানো সম্ভব এই রকম সীমা বা রিচেবলিটির ফার্দেস্ট পয়েন্টকে সিগনিফাই করে। মেরাজের সময় রাসুল (সা.) কে আল্লাহ এর বাইরে নিয়ে গিয়েছিলেন, যেটা মূলত আল্লাহর কাছে রাসুলের উঁচা শানের একটা নিশান বা সিম্বল। 

অন্যদিকে প্রজ্ঞা একটা সংস্কৃত শব্দ। আমরা সুগভীর জ্ঞান বোঝাতে প্রজ্ঞা শব্দটাকে ব্যবহার করি, যদিও মূলগতভাবে শব্দটার অর্থ প্রিরিক্যুজিট নলেজ বা আগে দরকারি এমন জ্ঞান। সিদরাতুল মুনতাহা শব্দটার অর্থ যেমন ইসলামের কন্টেক্সটে বিশেষায়িত, তেমনি প্রজ্ঞা শব্দটাও শুরুতে হিন্দু ও বৌদ্ধধর্মের কন্টেক্সটে বিশেষায়িত ছিল। এর অর্থ হল আপনি যাকে খুশি তাকে প্রজ্ঞাবান বলতে পারবেন না, যদি সে নিজের লাইফ স্টাইলে কিছু শর্ত পূরণ করতে না পারে। কিন্তু শব্দটা আমাদের কালচারে এখন আম বা সবার জন্য উন্মুক্ত হয়ে গেছে। 

এবার সিদরাতুল মুনহাতা বনাম প্রজ্ঞার বিতর্কে ফিরে আসি। একজন বুদ্ধিমান মান্ষু মাত্রই বুঝবেন নাম দুইটার উৎপত্তি যথাক্রমে মুসলিম ও হিন্দু-বৌদ্ধ কন্টেক্সটে। অথচ সংস্কৃত শব্দ প্রজ্ঞাকে এই ভদ্রলোক সেক্যুলার ও বাঙালি হিসাবে চালায়ে দিলেন চালু অর্থের দোহাই দিয়া। অথচ সিদরাতুল মুনতাহা শব্দটার অর্থ করার বেলায় সেই রাস্তায় হাঁটলেন না। এই যে সংস্কৃত বা পালির যেকোনো কিছুরে বাংলা বইলা চালায়ে দেওয়া এইটা একটা শয়তানি, শব্দের রাজনীতি। ওই লোক এই শয়তানিটাই করছে। যদি বাংলার সীমানার বাইরে থেকে আসা যেকোনো জিনিস ভিনদেশি হয়, তাইলে আরবি যেমন ভিনদেশি, সংস্কৃত ও পালিও ভিনদেশি। মাইনা নিলে তিনটারেই নেন। নইলে কাউরেই না। ফেসবুকে ২১-২-২৪ প্রকাশিত হয়েছে। 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়