শিরোনাম

প্রকাশিত : ২৪ মার্চ, ২০২৩, ০৩:২৯ রাত
আপডেট : ২৪ মার্চ, ২০২৩, ০৩:২৯ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

‘সিয়াম’ এবং ‘তাকওয়া’

জিল্লুর রহমান

জিল্লুর রহমান: সিয়াম এবং তাকওয়া শব্দ দুটো আলাদা হলেও কার্যক্ষেত্রে শব্দ দু’টোর অনেক মিল রয়েছে। অভিধানে সিয়ামের সাধারণ অর্থ হলো, বিরত থাকা, প্রত্যাখ্যান করা। দুনিয়া থেকে মনকে বিচ্ছিন্ন বা বিরত রাখার চেষ্টাকেই বলে সিয়াম। দুনিয়া থেকে বিরত বা বিচ্ছিন্ন থাকার যে ক্রিয়াকলাপ সেটাই সিয়াম সাধনা। ‘সিয়াম’ একটি সার্বজনীন বিধান, এটি কোনোভাবে একমাসের জন্যে নয়, সিয়ামের মধ্যে ভোর রাত থেকে সুর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহারের যে বিরতি সেটি মূলত দেহের পরিশুদ্ধতা,  এটি ‘সিয়াম’ এর একটি পার্ট মাত্র।

যিনি বিরত থাকেন অর্থাৎ দুনিয়া থেকে চুপ ও নিস্তব্ধ হয়ে যায় তাকে (সায়েম) বা রোজাদার বলা হয়। রোজাদার মূলত ‘তাগুত’কে প্রত্যাখ্যান করবে। ‘তাগুত’ একইসঙ্গে শিরক এবং কুফরি। ‘তাগুত’ এসেছে ‘তাগা’ শব্দ থেকে যার অর্থ সীমালঙ্ঘন করা। আল্লাহ সিয়াম প্রসঙ্গে বলেন, হে ইমানদারগণ। তোমাদের জন্য সিয়ামের বিধান দেওয়া হলো, যেমন বিধান তোমাদের পূর্ববতীদের দেওয়া হয়েছিল, যাতে তোমরা তাকওয়ার অধিকারী হতে পারো। সুরা আল বাকারা-১৮৩।

সিয়ামের মূল উদ্দেশ্য তাকওয়া অর্জন। শাব্দিকভাবে তাকওয়া বলতে বোঝায় (ইসলাম বহির্ভূত কাজ থেকে) বিরত থাকা, ভালোভাবে বেঁচে থাকা, সাবধান থাকা, পরহেজ করা, সচেতনতা, জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা। এককথায়, একমাত্র আল্লাহর ভয়ে যাবতীয় অন্যায় কাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখা সচেতন থাকার নামই তাকওয়া, যা সিয়াম সাধনার মাধ্যমে অর্জন করা সম্ভব। তাকওয়া সকল কল্যাণের আধার, আল-কোরআনে সর্বাধিক উল্লিখিত এক মহৎ গুণ। প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য, কাছের অথবা দূরের সকল কল্যাণের মূল হলো তাকওয়া। অনুরূপভাবে প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য, কাছের অথবা দূরের সকল অন্যায় ও পাপাচারের বিরুদ্ধে তাকওয়া হলো অতন্দ্র প্রহরী, প্রতিরোধক দুর্গ। আল্লাহ বলেন, তোমরা কি তাকওয়া অবলম্বন করবে না? -সূরা আশ-শুআরা:১০৬

‘তাকওয়া’ কী? তাকওয়া শব্দের অর্থ ভয় বলাটা যথাযথ নয়। আরবিতে ভয় শব্দের জন্যে ‘খওফ’ শব্দটির ব্যবহার বেশি। তাকওয়া হচ্ছে একধরনের সচেতনতা। ধরুন, আপনি প্রতিদিন কী করেন, সেটা নিয়ে একটা ‘রিয়েলিটি টিভি শো’ বানানো হচ্ছে। আপনার বাসার সবগুলো রুমে ক্যামেরা বসানো হয়েছে। আপনি ঘুম থেকে ওঠার পর ঘুমোতে যাওয়া পর্যন্ত সবসময় আপনার সাথে একজন ক্যামেরাম্যান আপনার দিকে ক্যামেরা তাক করে রেখেছে।

আপনি কী বলছেন, কী করছেন, কী খাচ্ছেন, কী দেখছেন, সবকিছু প্রতি মুহূর্তে রেকর্ড করা হচ্ছে। কল্পনা করুন, যদি এরকম কোনো ঘটনা ঘটে তাহলে আপনার মানসিক অবস্থা কী হবে? আপনি প্রতিটা কথা বলার আগে চিন্তা করবেন যে, আপনার কথাগুলো মার্জিত হচ্ছে কি না, আপনার হাঁটার ধরন ঠিক আছে কি না, আপনি উল্টোপাল্টা দিকে তাকালে সেটা আবার রেকর্ড হয়ে গেলো কি না। আপনি টিভিতে যেসব হিন্দি সিরিয়াল, বিজ্ঞাপন, মুভি দেখেন, যেসব গান শুনেন, ইন্টারনেটে যে সব সাইট ঘুরে বেড়ান, সেগুলো ক্যামেরায় রেকর্ড হয়ে গেলে লোকজনের কাছে মান-সম্মান থাকবে কি না। এই যে ক্যামেরাম্যানের প্রতি আপনার চরম সচেতনতা, এটাই তাকওয়া। আল্লাহর  প্রতি আপনার ঠিক একই ধরনের সচেতনতা থাকার কথা। আর আল্লাহর প্রতি সাবধান থাকো, যেন তোমরা সফল হতে পারো। -আল কুরআন

আল্লাহ এই আয়াতে বলছেন, যদি আমরা আল্লাহর প্রতি সবসময় সাবধান থাকি, তাহলে তোমরা সফল হবে। ‘আর আল্লাহ মুত্তাকীদের তাদের সাফল্যসহ নাজাত দেবেন। কোনো অমঙ্গল তাদের স্পর্শ করবে না। আর তারা চিন্তিতও হবে না’।- সূরা আয যুমার:৬১।

মুত্তাকী ব্যক্তির জন্য আল্লাহ তাআলা সমস্যাসঙ্কুল পরিবেশ থেকে বের হয়ে যাওয়ার পথ করে দেন এবং এমনভাবে তার রিজিকের ব্যবস্থা করেন, যা সে কখনো কল্পনাও করেনি। আল্লাহ বলেন, ‘যে আল্লাহকে ভয় করে তিনি তার জন্য উত্তরণের পথ তৈরি করে দেন এবং তিনি তাকে এমন উৎস থেকে রিজিক দেবেন যা সে কল্পনাও করতে পারবে না’।-সূরা আত-তালাক: ২-৩। ‘সেই জান্নাত, আমি যার উত্তরাধিকারী বানাব আমার বান্দাদের মধ্যে তাদেরকে যারা মুত্তাকী’।-সূরা মারয়াম:৬৩। আল্লাহ তাআলা সিয়াম সাধনার মাধ্যমে  আমাদের যথার্থ রূপে তাকওয়া অর্জনের তাওফীক দান করুন, আমীন। লেখক: সংবাদকর্মী

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়