শিরোনাম
◈ ঢাকায় জেঁকে বসেছে শীত, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১২.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস ◈ বিদ্রোহী প্রার্থী সামাল দিতে পারবে বিএনপি? ◈ কৃষি গুচ্ছের ভর্তি পরীক্ষা আজ, এক আসনে লড়ছেন ২৪ জন ◈ শেষ ষোলয় সেনেগালকে হারা‌তে চায় সুদান ◈ দ্বিতীয় বাংলাদেশি হিসেবে টি-টোয়েন্টিতে ৪০০ উইকেট মুস্তাফিজের ◈ গাজায় ত্রাণ সংস্থা নিষিদ্ধ করায় নেতানিয়াহুকে 'ফেরাউন' বললেন এরদোগান ◈ অ‌স্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার খাজা বললেন, আমি গর্বিত মুসলিম  ◈ চলতি মাসে ঢাকা-করাচি সরাসরি ফ্লাইট চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ◈ নলডাঙ্গায় জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে সড়কে অগ্নিসংযোগ, ককটেল ও পেট্রোল বোমা উদ্ধার ◈ ভারত-বাংলাদেশ যাতায়াতে পেট্রাপোল বন্দরে ‘প্যাসেঞ্জার ইউজার চার্জ’ বসালো ভারত

প্রকাশিত : ২৮ নভেম্বর, ২০২২, ০৩:২৬ রাত
আপডেট : ২৮ নভেম্বর, ২০২২, ০৩:২৬ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ভয়ের আবেগ, বোধ ও নিয়ন্ত্রণ

মাসুদ রানা

মাসুদ রানা: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার পাঠকালের একটি ঘটনা বলি। তখন আমি মহসীন হলের ছয়-তলায় একটি সিঙ্গেল রূমে থাকতাম। একরাতে রুমে বসে পড়ছিলাম, এমন সময় ভূমিকম্প হলো এবং ইলেক্ট্রিসিটি চলে গেলো। অন্ধকার ও কম্পমান পরিবেশটি সত্যিই ভীতিকর ছিলো। কিন্তু ভয় করলে কী বিপদ কাটে বা কমে? না! বিপজ্জক পরিস্থিতিতে একদম স্থির থাকার একটি বৈশিষ্ট্য আমি  রাজনীতি ও আন্দোলন করতে গিয়ে রপ্ত করেছিলাম, যার প্রেরণা আমি পেয়েছিলাম একটি উপন্যাস পড়ে। তাই, ভয়ে হিতাহিত জ্ঞানশূন্য না হয়ে, টলতে টলতে কোনোক্রমে বারান্দায় এসে দাঁড়ালাম। লক্ষ করলাম প্রচণ্ড চিৎকার ও দৌড়াদৌড়িতে সকলই পালাচ্ছে। আধো আলো-আঁধারিতে আমি বুঝলাম অন্তত একজন নীচের কোনো একটি ফ্লৌর থেকে লাফ দিয়েছে (পরে জেনেছি সে আহত হয়েছিলো, নিহত হয়নি)। 

আমি তখন ডাইয়েরি লিখতাম এবং ডাইয়েরিটি আমার পড়ার টেইবলেই থাকতো। মাঝে-মাঝে ইলেক্ট্রিসিটি চলে যেতো বলে মোমবাতিও ছিলো। আর, তখন ধুমপান করতাম বলে জিন্সের পকেটেই একটা লাইটার ছিলো। তাই, মোমবাতি জ্বালিয়ে ঘটনাটি ডাইরিতে লিখলাম। পরিস্থিতি শান্ত হলে ও  বিদ্যুত ফিরে এলে ধীরে ধীরে প্রায় সবাই ফিরে এলো। আমার ছ’তলার প্রতিবেশীরাও ফিরে এলো এবং আমাকে মোমের আলোতে পড়ার টেইবলে বসে থাকতে দেখে বিস্মিত বেশ কয়েকজন আমাকে জিজ্ঞেস করেছিলো আমার কি মরণের ভয় আছে কি-না। আমি বললাম, আছে। কিন্তু ভূমিকম্পের মধ্যে ছয়তলা থেকে দৌড়ে নেমে আমি কীভাবে বাঁচতাম, যদি বিল্ডিংটি ভাঙ্গতে শুরু করতো? এর চেয়ে স্থির থেকে পরিস্থিতি বুঝে বাঁচার চেষ্টা করাই কি ভালো নয়? মিছিলে পুলিস আক্রমণ করলে আমি কখনও আগে দৌঁড়াতাম না। আমার কমরেডদের নিরাপদে পালানো নিশ্চিত করার পরই আমি সবার শেষে দৌড়াতাম। এতে একটা সুবিধা হতো এই যে, পেছন থেকে কেউ আমার গায়ের পড়ার সুযোগ থাকতো না একমাত্র পুলিসের লাঠি বা হাত ছাড়া, যা আমি ক্ষিপ্রতার সাথে সহজেই এড়াতে পারতাম।

আবেগ নিশ্চয় থাকবে, কিন্তু সে-আবেগকে হতে হবে বোধের নিয়ন্ত্রণে। ইংলিশ সংস্কৃতিতে আবেগপ্রবণ হওয়া অপরিপক্কতার লক্ষণ হিসেবে বিবেচিত। ইংরেজিভাষায় কাউকে ইমৌশন্যাল বলার অর্থ হচ্ছে তাকে অপরিপক্ক হিসেবে নির্দেশ করা। আমার মনে হয়, পরিপক্কতা ও অপরিপক্কতা ব্যক্তির বিকাশগত ধাপকে যেমন নির্দেশ করে, তেমন একটি জাতিরও বিকাশের স্তরকে নির্দেশ করে। অর্থাৎ, ব্যক্তির মতো একটি জাতিও পরিপক্ক কিংবা অপরিপক্ষ হতে পারে। পারে না? পরিশেষে, আবেগ মানুষের প্রকৃতি, আর এর নিয়ন্ত্রিত প্রকাশ হচ্ছে সংস্কৃতি। আনন্দ হোক, কিংবা ভয় হোক, কিংবা ঘৃণা হোক, আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে শেখাই সভ্য ও সংস্কৃতিবান হওয়া।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়