শিরোনাম
◈ ইংল‌্যান্ড কাউন্টি চ‌্যা‌ম্পিয়ন‌শিপ, বাংলা‌দে‌শের হাসানের ৭ উইকেটের কল‌্যা‌ণে জিত‌লো কেন্ট ◈ বহুমুখী সংকটে দেশের গ্যাস খাত, ৫০০ কোটির এলএনজি এখন ১২০০ কোটি টাকা ◈ কিয়েভে তিনদিনের জন্য হামলা বন্ধের নির্দেশ দিলেন পুতিন ◈ কোটি টাকা চুরি চীনা ব্যবসায়ীর, ‘দুঃখিত’ খুদে বার্তা দেওয়া সেই চালকসহ গ্রেপ্তার ৩ ◈ বিনা সুদে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ডিজিটাল ঋণ, বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন উদ্যোগ ◈ পেনশনের আওতায় আসছেন পোশাকশিল্পের ৫০ লাখ শ্রমিক ◈ নেকড়ে হত্যা বৈধতার পথে ট্রাম্প, সিদ্ধান্ত আসতে পারে ৯০ দিনে ◈ বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকটে দেশবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ঘোষণা ◈ ‘স্ত্রী মেরেছেন তাই মদ পান’, ভিডিও ভাইরালের পর নারায়ণগঞ্জে নৌ পুলিশের এসআই প্রত্যাহার ◈ স্থানীয় নির্বাচনে পোস্টার-মিছিল নিষিদ্ধ, এআইতেও কড়াকড়ি ইসির

প্রকাশিত : ১১ অক্টোবর, ২০২২, ০৭:৩১ বিকাল
আপডেট : ১১ অক্টোবর, ২০২২, ০৭:৩১ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

২০২২ সালের অর্থনীতির নোবেল পুরষ্কার

ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ

ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ (ফেসবুক): এ বছর আর্থিক খাতের বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে অবদান রাখার জন্য যে তিনজন অর্থনীতিবিদ নোবেল পুরষ্কার পেয়েছেন তাঁরা সবাই অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের সঙ্গে ব্যাংকিং খাতের ব্যবস্থাপনার সম্পর্ক নিয়ে কাজ করেছেন। তিনজনের বয়সই সত্তুরের কাছাকাছি এবং এ বিষয়ে তাঁদের গবেষণার শুরু আশীর দশকের প্রথম থেকে। শুধু উন্নত দেশের জন্যই নয়, স্বল্পোন্নত দেশের ব্যাংকিং খাতের ব্যবস্থাপনার নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রেও তাঁদের গবেষণা থেকে দিকনির্দেশনা পাওয়া যেতে পারে। 

এর আগেও আর্থিক খাতের বিশ্লেষণের জন্য ১৯৯৭ সনে দুজন এবং ২০১৩ সনে তিনজন অর্থনীতিবিদকে যৌথ ভাবে নোবেল পুরষ্কার দেয়া হয়েছিল। কিন্তু তাঁদের সবারই গবেষণা ছিল শেয়ার বাজারের গতি-প্রকৃতি ও উত্থান-পতন নিয়ে। ওই সব বিশ্লেষণ শেয়ার বাজারের বিপর্যয় ঠেকাতে বা এ নিয়ে সঠিক পূর্বাভাষ দিতে খুব কাজে দেয় নি বলে মনে করা হয়। কারণ শেয়ার বাজারের কেনা-বেচার ধরণ শুধু অর্থনীতির যৌক্তিক আচরণ দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না, যে কারণে স্নায়ু-অর্থনীতি বা neuro-economics নামে নতুন ধারার অর্থনীতি নিয়ে এখন গবেষণা হচ্ছে। 

কিন্তু এবারের নোবেল বিজয়ীদের কাজ আর্থিক খাতের বাণিজ্যিক ব্যাংকের ভূমিকা নিয়ে এবং তাঁদের বিশ্লেষণ অনেক বেশী বাস্তবমুখী, যা ব্যাঙ্ক ব্যবস্থার সম্ভাব্য ধ্বস ঠেকাতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। তাঁরা যে বিষয়গুলো নিয়ে বিশ্লেষণ করেছেন তার মধ্যে আছে ব্যাঙ্ক ব্যবস্থার প্রতি আমানতকারীদের আস্থার সঙ্কট, ঋণ মঞ্জুর করার ব্যাপারে যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার গুরুত্ব, ব্যাঙ্কের তারল্য ও মূলধন ঘাতটির বিষয়ে সতর্কতা, সঙ্কটাপর্ণ ব্যাঙ্ককে বাঁচিয়ে রাখতে আমানতের উপর যথেষ্ট অঙ্কের বীমার ব্যবস্থা, এবং যথা সময়ে সতর্ক না হবার খেসারত হিসাবে পরবর্তীতে দেউলিয়া ব্যাঙ্ককে বাঁচাতে সরকারের বড় অঙ্কের ব্যায়ের বোঝা বহন। 

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের ব্যাঙ্ক খাতের জন্য এই সবগুলো বিষয়েই সতর্কতা জরুরী। যতদূর মনে পড়ে আমাদের ব্যাঙ্কগুলোতে গচ্ছিত আমানতপ্রতি মাত্র এক লক্ষ টাকা বীমাকৃত। ইতিমধ্যে ব্যাঙ্কের দেউলিয়া হওয়া থেকে উদ্ধার করার ঘটনা দেখা গেছে, অনেক ব্যাঙ্কের ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার দক্ষতার ঘাটতি নিয়েও অনেক আলোচনা হয়েছে ও হচ্ছে, কিন্তু অবস্থার খুব উন্নতি হচ্ছে বলা যাবে ন। ব্যাঙ্কে টাকা আমানত রাখার তেমন কোন বিকল্প নাই বলে ব্যাংক খাতের সমস্যা সহজে দৃষ্টিগোচর হয় না; কিন্তু যখন কোন বিপর্যয় ঘটে তখন তার জন্য পুরো অর্থনীতিকে অনেক মূল্য দিতে হয়। এবারের নোবেল পুরষ্কার অনেক দেশের ব্যাঙ্ক ব্যবস্থাপনার জন্য হুঁশিয়ারি বার্তা বহন করে এনেছে।

ডব্লিউএম/এইচএ

  • সর্বশেষ