শিরোনাম
◈ স্পেনের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে আশা টিকিয়ে রাখলো জার্মানি ◈ চীনে শি জিনপিংয়ের পদত্যাগের দাবিতে প্রকাশ্যে বিক্ষোভ ◈ টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌপথে জাহাজ চালু না হলে দ্বীপে ধর্মঘট! ◈ বড় জয় দিয়ে শেষ ষোল নিশ্চিত করলো ক্রোয়েশিয়া ◈ ঘুষ নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল, সেই ভূমি কর্মকর্তা বরখাস্ত ◈ ভারত মহাসাগর নিয়ে ১৯ দেশের বৈঠকে চীন, নেই ভারত ◈ জুলুম-নির্যাতন করে জনবিষ্ফোরণ ঠেকাতে পারবে না সরকার: মির্জা ফখরুল ◈ রাজনৈতিক অস্থিরতা ও করোনায় পিছিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর ◈ বিএনপির সঙ্গে জোট করার প্রশ্নই আসে না: রওশন এরশাদ ◈ সালাম মুর্শেদীর বাড়ি নিয়ে দুর্নীতি হলে কাউকে ছাড় নয়: হাইকোর্ট

প্রকাশিত : ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ০২:২২ রাত
আপডেট : ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ০২:২২ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

শেখ হাসিনা : চির উন্নত মম শির

মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী

মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী: ১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাঁর পিতা আমাদের রাষ্ট্রের পিতা, মাতা আমাদের কাছে বঙ্গমাতা নামে পরিচিত। তিনি বঙ্গবন্ধু এবং বঙ্গমাতার প্রথম সন্তান, তাঁদের অনুপস্থিতিতে বাংলাদেশের রাষ্ট্র ও রাজনীতির কান্ডারিরূপে আবির্ভূত হয়েছেন। ইতিহাস তাঁকে এমন এক কঠিন দায়িত্ব অর্পণ করেছে সে দায়িত্ব তিনি গত ৪১ বছর ধরে পালন করে আসছেন। এটি তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের চাইতেও বাংলাদেশ রাষ্ট্র এবং জনগণের জন্য অপরিহার্য ছিল। তিনি সে অপরিহার্যতার প্রমাণ দিয়েছেন। কেননা আমাদের জাতি এবং রাষ্ট্র ১৫আগস্টের পর যে নেতৃত্ব শূন্যতা অনুভব করছিল সেটি পূরণ করার যথার্থ উত্তরাধিকারের প্রমাণ অনেকেই দিতে পারেননি। ফলে বাংলাদেশ এক চরম আদর্শ শূন্য রাজনীতির গহ্বরে পড়েছিল। সেখান থেকে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে বাংলাদেশকে ফিরিয়ে আনা মোটেও সহজ কোনো কাজ ছিল না। মুক্তিযুদ্ধ পঁচাত্তরের পর থেকে পরিত্যাজ্য বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। মুক্তিযোদ্ধারা মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারেননি। ক্ষমতাসীনরা রাষ্ট্র ও রাজনীতির চরিত্রকে বদলে ফেলার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছিল। সেই  অপধারা থেকে মুক্ত হয়ে বাংলাদেশকে আদর্শগতভাবে মুক্তিযুদ্ধের ধারায় এবং সোনার বাংলায় প্রতিষ্ঠা করার  লক্ষ ও পরিকল্পনায় ফিরিয়ে আনা আদৌ সম্ভব হতো কিনা সে প্রশ্নের উত্তর জানা নেই।

বাংলাদেশটাকে ৭৫ পরবর্তী সরকারগুলো স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্র, অর্থনৈতিক উন্নয়ন থেকে বহুদূরে সরিয়ে যেখানে নিয়ে যাওয়ার রাস্তা তৈরি করেছিল সেটি একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পতিত হওয়ার পথ ছাড়া ভিন্ন কিছু ছিল না। সে কারণেই ইতিহাসের অপরিহার্যতাকে আলিঙ্গন করে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে বঙ্গবন্ধুর রেখে যাওয়া অসমাপ্ত রাষ্ট্র ও রাজনীতির হাল ধরতে হয়েছে। ১৯৮১ সালে তিনি যখন সেই তরীর বৈঠা হাতে নিলেন তখন তরীটি ছিল একেবারেই বিপজ্জনক ঘূর্ণিঝড়ের আবর্তে টলটলায়মান। ধীরে ধীরে শেখ হাসিনা রাজনীতির সেই তরীকে নিয়ন্ত্রণে আনতে শুরু করেন। রাজনীতিতে মাথা তুলে দাঁড়াতে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধের অসাম্প্রদায়িক ধারা এই ধারাটি  পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের পর উৎপাটিত করা হয়েছিল। ফলে যাত্রাটি ছিল প্রবল প্রতিকূল অবস্থাকে অতিক্রম করার। সেটি ১৯৮১ সাল থেকে আজ অবধি রাজনীতিতে বহাল আছে। কিন্তু সেই প্রতিকূল অবস্থাকে মোকাবেলা করেই শেখ হাসিনা প্রথমে দলকে সংগঠিত করেন এবং পরে জনগণের সমর্থন নিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন। ৭৫’র ঘাতক এবং তাদের উত্তরাধিকাররা ঘোষণা দিয়েছিল এদেশের মাটিতে আর কোনোদিন আওয়ামী লীগ স্থান পাবে না এর অর্থ মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের ধারায় বাংলাদেশ পরিচালিত হওয়ার কোনো সুযোগ তারা দেবে না। সেই অপচেষ্টা তাদের এখনো অব্যাহত আছে। শেখ হাসিনা ১৯৯৬ থেকে ২০০১ শাসনকালে প্রমাণ করেছিলেন যে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের ধারায় বাংলাদেশে ফিরে আসলে স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এবং আধুনিক রাষ্ট্রের চরিত্র অর্জনে বাংলাদেশের একদিকে যেমন উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে, অন্যদিকে যারা এতদিন ভিন্নখাতে বাংলাদেশকে পরিচালিত করেছিল তারা বাংলাদেশকে সত্যিকার অর্থেই একটি তলাবিহীন ঝুড়ি রাষ্ট্রে পরিণত করে রেখেছে। তাদের হাতে এবং তাদের রাজনীতিতে বাংলাদেশের কোনো মুক্তির সম্ভাবনা ছিল না এবং এখনও নেই। 

২০০১ থেকে ২০০৬ সালে বাংলাদেশের পরস্পরবিরোধী দুই মেরুর রাজনৈতিক শক্তির পরিচয় আরো উন্মোচিত হয়ে গেলো। সে সময়ে ক্ষমতাসীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার আওয়ামী লীগ, অসাম্প্রদায়িক শক্তি এবং সংখ্যালঘুদের সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করার মিশন বাস্তবায়ন করছিল। একুশে আগস্টের নির্মম হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে তারা তাদের রাষ্ট্রপরিচালনার পথ সুগম করতে চেয়েছিল। শেখ হাসিনা মৃত্যুর মুখোমুখি থেকে ফিরে এসে বাংলাদেশের রাজনীতিতে আরও দৃঢ়ভাবে মুক্তিযুদ্ধের রাজনৈতিক আদর্শকে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। ২০০৯ সাল থেকে তার শেকড় অর্থাৎ প্রত্যয় এর পরিচয় পাওয়া যায়; যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ গ্রহণ, অর্থনৈতিকভাবে দেশকে স্বাবলম্বী করে তোলা এবং বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশকে একটি সম্মানজনক জায়গায় নিয়ে যাওয়া। সেই কাজটি তিনি অনেক প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও দৃঢ়ভাবে অগ্রসর করে নিতে থাকেন এর ফলে বাংলাদেশ এখন একটি স্বল্পোন্নত দেশ থেকে মধ্যম আয়ের দেশে পদার্পণ করতে পেরেছে। বাংলাদেশ বিশ্ব দরবারে স্বাবলম্বী রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিতি ও  স্বীকৃতি পেয়েছে। বাংলাদেশ এখন আর অন্ধকার গহ্বরে  নিমজ্জিত হবার অবস্থানে নেই। এসবই সম্ভব হয়েছে শেখ হাসিনা রাজনীতিতে ফিরে আসা, হাল ধরা এবং রাষ্ট্রব্যবস্থায় স্বাধীনতা-মুক্তিযুদ্ধ এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের নীতি-কৌশল গ্রহণ ও বাস্তবায়নে প্রজ্ঞার পরিচয় দেয়ার কারণে। শেখ হাসিনা হয়ে উঠলেন বাংলাদেশের ভিশনারি-মিশনারি রাজনৈতিক নেতৃত্বের এক অপরিহার্য নামে।

বঙ্গবন্ধু এবং জাতীয় চার নেতা হত্যার পর যে শূন্যতা বাংলাদেশের রাষ্ট্র ও রাজনীতির সংস্কৃতি পররাষ্ট্রনীতি ইত্যাদিতে তৈরি হয়েছিল সেখান থেকে দ্বিতীয় কোন নেতা দেশকে মুক্ত করার জন্য এতটা দৃঢ়তা এবং আদর্শের প্রতি অবিচল নিষ্ঠা প্রকাশ ঘটাতে পারেননি; যতটা পেরেছেন শেখ হাসিনা। বঙ্গবন্ধু এবং বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিবের রক্তের উত্তরাধিকারের পাশাপাশি শেখ হাসিনা জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক আদর্শের যোগ্য নেতৃত্ব দেওয়ার চরম পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। তাঁর এই দীর্ঘ পথ চলা সোনার চামচ মুখে নিয়ে ঘটেনি বরং মৃত্যুর ঝুঁকি মাথায় নিয়ে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়ন কঠিনতম সংগ্রাম করে তিনি বাংলাদেশকে উন্নত সমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত করার সম্ভাবনাময় অবস্থানে নিয়ে এসেছেন। 

আমাদের আর কোনো নেতৃত্ব এই দুরূহ কাজটি করার জন্য নিজেকে এতটা  উৎসর্গ করতে পারেননি যতটা শেখ হাসিনা ৪১ বছরের হাল ধরার রাজনীতিতে দেখাতে পেরেছেন। তার এই অদম্য সাহস এবং রাষ্ট্রকে নির্মাণের মতো কঠিন দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে তিনি আমাদের জন্য বাংলাদেশকে শুধু বসবাসের যোগ্যই নয় বরং ভবিষ্যতকে নির্মাণেরও পথ প্রশস্ত করে দিয়েছেন। বঙ্গবন্ধু এবং জাতীয় চার নেতা আমাদের জন্য একটা সোনার বাংলা রেখে গিয়েছিলেন কিন্তু সেই সোনার বাংলা নির্মাণ বেহাত হয়ে গিয়েছিল সেখান থেকে শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু এবং তার আদর্শের হাতেই যেন তুলে নিয়েছিলেন। সে কারণে বাংলাদেশ বেহাত থেকে স্বহাতে আসতে পেরেছে, তবে এই ফিরে আনাটি চরম বৈরী এক রাজনৈতিক প্রতিকূলতাকে মোকাবেলা করেই আজকের অবস্থানে উন্নীত হতে পেরেছে। শেখ হাসিনা না থাকলে এই অর্জনটি সম্ভব হতো কিনা তা নিয়ে এখন আর প্রশ্ন করারও  সুযোগ নেই। কারণ ৭৫ পরবর্তী রাজনীতি আমাদের সম্পূর্ণরূপে ভিন্ন পথে নিয়ে যাওয়ার রথে চড়িয়ে দিয়েছিল। সেই অপশক্তি এখনো রাজনীতির মাঠে গণতন্ত্রের  জন্য মায়া কান্না করে। কিন্তু তাদের আমাদের চেনা যথেষ্ট সুযোগ হয়েছে সে কারণেই ভবিষ্যৎ বাংলাদেশকে মুক্তিযুদ্ধের ধারায় পরিচালিত করার জন্য শেখ হাসিনার নেতৃত্ব এখনো অপরিহার্যতা হারায়নি। যতদিন তিনি রাষ্ট্রনায়কের দৃঢ় অবস্থানে দেশকে পরিচালিত করতে পারবেন ততদিন আমরা এবং বাংলাদেশ আস্থার সঙ্গে ভবিষ্যতের দিকে তাকাতে পারবো।

এবার তাঁর ৭৫তম জন্মবার্ষিকী পূরণ হলো এ যেন এক হিরন্ময় জন্মজয়ন্তী। যা দেশকে দিয়ে যাচ্ছে অনেক কিছু। আশা করি তাঁর উত্তরাধিকার রাজনীতিতে যথাসময়ে তাঁর মতোই দৃঢ়ভাবে নেতৃত্বের হাল ধরবে। আজকের এই হীরক জন্মজয়ন্তীতে তাঁর  শতায়ু কামনা করি, পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশের যথার্থ নেতৃত্ব দেওয়ার উত্তরাধিকার গড়ে ওঠবে সেটি আমাদের এবারের শেখ হাসিনার হীরক জন্মজয়ন্তীর বিশেষ কামনা। তাহলেই বঙ্গবন্ধুর  দীর্ঘত্যাগ, জীবন উৎসর্গ এবং চার জাতীয় নেতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ আমাদের হাতের মুঠোয় থাকবে। লেখক : শিক্ষক ও কলামিস্ট

  • সর্বশেষ