চীনের প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশকে যে ‘বাংলাদেশ-মিয়ানমার-চীন অর্থনৈতিক করিডোর’-এর প্রস্তাবটি দিয়েছেন, তা বর্তমান ভূরাজনীতিতে আমাদের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। যদি আমরা গভীরভাবে লক্ষ করি, তবে দেখতে পাব, এই করিডোরটি আমাদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে একটা বিশেষ ব্লেসিং বা আশীর্বাদ। সূত্র: ইনকিলাব
পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায়, বিভিন্ন দেশেÑ আফ্রিকা এবং মধ্যপ্রাচ্যে চীন এ ধরনের করিডোর তৈরি করেছে। আফ্রিকান দেশগুলোর বেলায় আমরা দেখেছি, সেখানে যুদ্ধ বা অনেকটা অশান্ত পরিবেশ থাকার পরও চীন বিভিন্ন দেশকে রেললাইনে ও রাস্তায় সংযুক্ত করেছে। যেসব দেশে ব্যাপকভাবে গৃহযুদ্ধ হয়, সেখানেও চীনের এই উন্নয়ন কাজে কোনো বাধা হয়নি; একবার শুরু হওয়ার পর তা সফলভাবে এগিয়ে গেছে। একইভাবে, লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশেও চীন এভাবে রাস্তাঘাট তৈরি করে দিয়েছে।
আমাদের এই অঞ্চলের কাছাকাছি ইরানের দিকে তাকালে দেখা যায়, ইরান থেকে চীন পর্যন্ত যে করিডোর, তা বেশ দীর্ঘ এবং বিপজ্জনক। তা সত্ত্বেও চীন সেখানে কাজ করেছে। এমনকি আমাদের দক্ষিণ এশিয়াতে নেপালের মতো দুর্গম পাহাড়বেষ্টিত দেশে সুদূর তিব্বতের লাসা থেকে কাঠমান্ডু পর্যন্ত রেলসংযোগ গড়ে দিয়েছে চীন। এই রেলসংযোগের শেষ বাধাটা ছিল সবচেয়ে বিপজ্জনক। কারণ, সেখানে বড় ধরনের ভূমিকম্প (আর্থকোয়েক) হয় এবং নানারকমের অত্যন্ত কঠিন ও উঁচু স্তরের পর্বতমালার ভেতর দিয়ে এই রেলসংযোগ নিয়ে যেতে হয়েছে, যা এখন প্রায় শেষ হওয়ার পথে।
ভূরাজনীতিতে চীনের এই দূরদর্শিতার আরেকটি বড় উদাহরণ হলো ‘ওয়াখান করিডোর’। পাকিস্তানের সাথে তাজিকিস্তান আর আফগানিস্তানকে সেপারেট করা এই ন্যারো স্ট্রিপ অব ল্যান্ডটি আফগানিস্তানের সাথে চীনের একমাত্র যোগাযোগ মাধ্যম। চীন একসময় অনেক ভয় পেত যে, এই করিডোর গড়া হলে আফগানিস্তান থেকে ইসলামিক ফ্যানাটিকস বা চরমপন্থীরা ঢুকে পড়বে। কিন্তু সেই ভয় উতরে গিয়ে এখন আফগানিস্তানেরই চাপে ও উদ্যোগে চীন সেই রাস্তাকে অত্যন্ত সুন্দরভাবে গড়ছে, যাতে চীন আফগানিস্তানের থ্রুতে সরাসরি ইরানে প্রবেশ করতে পারে। এটি হবে অন্যতম শর্টকাট রুট, যা ইরান থেকে সরাসরি বন্দর আব্বাসে যাওয়ার পথ সুগম করবে। এই যে ভূরাজনৈতিক ফিউচারিস্টিক গ্রিম্পস বা দূরদর্শী চিন্তা, এগুলো আগে কেউ ভাবতেও পারত না।
অনেকেই ইচ্ছাকৃতভাবে বাংলাদেশ-মিয়ানমার-চীন করিডোরকে অনিশ্চিত করার জন্য নানা যুক্তি দেন; তারা বলেন, মিয়ানমারের সিভিল ওয়ার (গৃহযুদ্ধ) না থামা পর্যন্ত এই করিডোর করা সম্ভব হবে না। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এই ধরনের সিভিল ওয়ার মিয়ানমারে অনেক বছর ধরে চলছে এবং আগামী ১০০ বছর ধরেও তাদের এই ধরনের দ্বন্দ্ব চলতে পারে। তাই বলে তো রাস্তা বা করিডোরের কনস্ট্রাকশন থেমে থাকতে পারে না। মিয়ানমারের সাথে থাইল্যান্ডের রাস্তার সংযোগ রয়েছে, যে সংযোগ স্বয়ং ভারত মিজোরামের মাধ্যমে মিয়ানমারে ঢুকে থাইল্যান্ডে যাওয়ার জন্য স্থাপন করেছে। সুতরাং, আমাদের সাথে যে সংযোগটি হবে, তা যদি কক্সবাজার হয়ে নাফ নদী বা ল্যান্ড বাউন্ডারির (স্থলসীমানা) উপর দিয়ে যায়, তবে তা অত্যন্ত কার্যকর হবে। আমাদের রেললাইন অলরেডি কক্সবাজার পর্যন্ত রয়েছে, এটা কিন্তু এমনি এমনি হয়নি। সেখান থেকে নাফ নদীর ওপর দিয়ে ব্রিজ গড়ে এবং আরাকান মাউন্টেনস বা পর্বতমালা পার হয়ে এই পথ সোজা চীনের দিকে চলে যাবে, যা মোটেও কোনো কঠিন বিষয় নয়। মিয়ানমার অংশ থেকে চীন পর্যন্ত সংযোগ অলরেডি অনেক আগে থেকেই স্থাপিত হয়ে গেছে। এখন চীন মূলত বাংলাদেশের পোরশন বা অংশের সাথে সংযোগ স্থাপন করে দেওয়ার কাজটি করবে।
.
অনেকে মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও সিভিল ওয়ারের যে অজুহাত তুলছেন, তা সম্পূর্ণ অবাস্তব ও আত্মঘাতী। কারণ, মিয়ানমারের ভেতর দিয়ে কীভাবে পথ তৈরি হবে, কীভাবে সিকিউরিটি এনশিওর্ড বা নিশ্চিত হবে, সেটা সম্পূর্ণ চীনের চিন্তা। চীনে নিজেই এনশিওর করবে, যেন এই পুরো লিংকটি টোটালি সিকিউর থাকে। এই করিডোরের স্বার্থেই চাইনিজরা তখন বাধ্য হয়ে মায়ানমারে আরও বেশি করে পিস ইনিশিয়েটিভ বা শান্তিপ্রক্রিয়া গ্রহণ করবে। আর এটি সম্ভব ও নিরাপদ বলেই চীনের প্রেসিডেন্ট নিজে বাংলাদেশের কাছে এই অনুরোধ জানিয়েছেন।
আমাদের বর্তমান ভূরাজনৈতিক অবস্থান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বাংলাদেশ তিন দিক থেকে ভারত দ্বারা বেষ্টিত। এই বাস্তবতায় তাত্ত্বিকভাবে বা থিওরিটিক্যালি বহুমুখী পররাষ্ট্রনীতি (মাল্টিল্যাটারাল পলিসি) কিংবা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইসলামিক দেশগুলোর সংস্থা ও ভারতের সাথে একটি স্বাভাবিক ওয়ার্কিং রিলেশনশিপ বজায় রাখার ধারণাটি আইডিয়াল বা চমৎকার মনে হতে পারে, কিন্তু প্র্যাক্টিক্যালি তা কতটা প্রাসঙ্গিক, তা ভাববার বিষয়। প্রতিটি দেশ, যাদের ভূরাজনৈতিক লোকেশন ভালনারেবল (ঝুঁকিপূর্ণ), যেমন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া বা মধ্যপ্রাচ্যÑ তাদের কিন্তু একটি ‘প্যারেন্ট অ্যালাই’ বা প্রধান সামরিক মিত্র প্রয়োজন হয়। উদাহরণস্বরূপ কাতার বা সৌদি আরবের মতো দেশগুলো সাম্প্রতিক যুদ্ধে আমেরিকার বিট্রেয়াল (বিশ্বাসঘাতকতা) এবং ইসরাইলের প্রতি তাদের অন্ধ সমর্থন দেখার পরও, নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে মার্কিন মিত্রতার বন্ধন থেকে বের হওয়া নিরাপদ মনে করছে না।
.
বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও এই প্যারেন্ট মিত্রের প্রয়োজনীয়তা এখন অনস্বীকার্য। কারণ, গত কয়েক বছরে আরএসএস-বেজড বিজেপি ভারতে ক্ষমতায় আসার পর তাদের যে অভিজ্ঞতা হয়েছে, তাতে তারা এখন একটি সুনির্দিষ্ট আইডিয়ায় কমিটেড। তারা মূলত বাংলাদেশকে একটি ‘সাবঅর্ডিনেট স্টেট’ বা অধীনস্থ রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়। তারা মনে করে, এটি না করতে পারলে উত্তর-পূর্ব ভারতের (সেভেন সিস্টার্স) নিরাপত্তা ও অস্তিত্ব বিঘিœত হবে। ফলে আমাদের সামনে এখন একটি চরম বাস্তবতা এসে দাঁড়িয়েছে। এই কথাটিকে আপাতদৃষ্টিতে এক্সপ্যানশনিস্ট বা উগ্র মনে হতে পারে, কিন্তু ভারতকে আমাদের গিলে খাওয়া থেকে যদি ঠেকাতে হয়, তবে চীনকে সর্বাত্মক সামরিক মিত্র হিসেবে গ্রহণ করার কোনো বিকল্প নেই। অতীতে (পাঁচ বা তিন বছর আগে) হয়তো এই কথাটি বলার প্রয়োজন হতো না, কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে এটিই বাস্তব।
ভারত আসলে কোনো কিছুই মেনে নিতে চায় না। আমাদের উত্তরবঙ্গে চীনের ইনভলভমেন্ট, বিভিন্ন ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট কিংবা চীনকে ইকোনমিক জোন দেওয়ার মতো বিষয়গুলো নিয়ে ভারত যেভাবে হইচই শুরু করে, তা আগে কখনো দেখা যায়নি। কারণ, ওদের মাইন্ডসেটই হয়ে গেছে, বাংলাদেশকে সম্পূর্ণভাবে ইন্ডিয়ান ডমিনেশন বা ভারতের নিয়ন্ত্রণে রাখা।
এই অর্থনৈতিক করিডোরটি আমাদের জন্য অস্তিত্ব রক্ষার মাধ্যম। কারণ, আমরা পুরোপুরি ভারতবেষ্টিত এবং আমাদের বের হওয়ার আর কোনো বিকল্প সংযোগ নেই। এই করিডোরের মাধ্যমে যখন চীনের বঙ্গোপসাগরে পৌঁছানোর সুযোগ ঘটবে এবং তারা চট্টগ্রাম পোর্টসহ আমাদের অন্যান্য পোর্ট ব্যবহার করতে পারবে, তখন আমাদের শিল্পাঞ্চল এবং পোর্ট অঞ্চলগুলো প্রচুর সমৃদ্ধি অর্জন করবে। আশেপাশের অন্যান্য দেশও তখন চীনে যাওয়ার ব্যাপারে এই সংযোগ ব্যবস্থা ব্যবহার করবে।
তাছাড়া, আমাদের পার্বত্য চট্টগ্রামের নিরাপত্তার জন্য এই করিডোর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বর্তমানে পার্বত্য চট্টগ্রামে ইনসার্জেন্ট বা বিদ্রোহী গ্রুপগুলো যেভাবে সক্রিয় হয়ে উঠছে এবং আমাদের সেনাবাহিনীর সাথে লড়াই করছে, তা রাষ্ট্র হিসেবে আমাদের জন্য অনেক ব্যয়বহুল। চীনকে আমরা যদি এই করিডোরে নিয়ে আসতে পারি, তবে বাংলাদেশে চীনের যে বিশাল ইনভেস্টমেন্ট বা বিনিয়োগ রয়েছে, তা রক্ষার স্বার্থেই চীন মিয়ানমার ও বাংলাদেশ দুই দেশকেই এই ধরনের বিদ্রোহী দমনে নিজে থেকে সাহায্য করবে এবং তারা আন্তর্জাতিকভাবে আমাদের পক্ষেই থাকবে।
রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানেও এই করিডোর চীনের সরাসরি সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করবে। অতীতে যখনই রোহিঙ্গা সমস্যা দেখা দিয়েছে, অনেকেই সামরিক শক্তি বা বলপ্রয়োগের কথা ভেবেছিলেন। কিন্তু আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কৌশলগত কারণে কোনোভাবেই বলপ্রয়োগ করতে চায়নি। তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী যুক্তি ছিল, চীনের সাথে আমাদের আরও অনেক বড় স্বার্থ রয়েছে, তাই রোহিঙ্গা ইস্যু টেনে এনে আমাদের সেই বৃহত্তর স্বার্থের ক্ষতি করা যাবে না।
অনেক সিনিয়র কূটনীতিক ও ফরেন সার্ভিস অফিসারদেরও দাবি ছিল যে, সরাসরি চীনে যেতে হলে অবশ্যই মিয়ানমার সরকারের সাথে সুসম্পর্ক রাখতে হবে। অতীতে চীন সবসময় বলত যে, রোহিঙ্গা প্রলেবমটি একটি মাইনর বা ছোট ইস্যু, এটি মূলত মায়ানমারের অভ্যন্তরীণ সমস্যা। চীনের মূল ফোকাস ছিল মায়ানমারের মাধ্যমে চীনের সাথে সড়ক যোগাযোগ স্থাপন করা, যা ছিল তাদের বিগার ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট। আর সেই কারণে রোহিঙ্গারা যাতে শান্তিপূর্ণভাবে ফেরত যায় এবং ওখানকার বিদ্রোহ যাতে দমন করা সম্ভব হয়, সেই ব্যাপারে আমরা মিয়ানমার সরকারকে পূর্ণ আশ্বাস দিয়েছিলাম এবং মায়ানমার জান্তার সাথে বন্ধুত্ব বজায় রেখেছিলাম। সুতরাং, চীনে যাওয়ার এই বৃহত্তর নীতি অনেক আগে থেকেই প্রতিষ্ঠিত এবং তখন আমরাই চীনকে অনুরোধ জানাবার জন্য ব্যাকুল হয়েছিলাম। এখন যখন চীনের প্রেসিডেন্ট নিজে এই করিডোরের প্রস্তাব দিয়েছেন, তখন আমাদের জন্য এটি অত্যন্ত সৌভাগ্যের।
এই করিডোর প্রতিষ্ঠা পেলে ভারত বাংলাদেশ ও মায়ানমারের ওপর তার নিয়ন্ত্রণ হারানোর আশঙ্কায় ভুগছে। ভারত চেয়েছিল একটি এশিয়ান হাইওয়ে করতে, যেখানে মায়ানমারের পাশাপাশি ভারতও ইনক্লুডেড বা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। কিন্তু ভারতকে নিয়ে আমাদের পক্ষে কোনো কিছু করা সম্ভব নয়; ভারতকে নিয়ে স্বপ্ন দেখা মানে মূলত ভূরাজনৈতিক আত্মহত্যা করা, যার বড় প্রমাণ হলো মৃতপ্রায় ‘সার্ক’। ভারত কখনোই আমাদের চীনের সাথে এই রাস্তা তৈরিতে অ্যালাও বা অনুমতি দেবে না; তারা এই প্রক্রিয়ায় ঢুকলে কেবলই ‘ডিলে’ বা বিলম্ব ঘটাবে।
বর্তমানে আমাদের দেশের ভেতর যে ভারতপন্থী জার্নালিস্ট বা ভারতপন্থী মিডিয়া চ্যানেলগুলো রয়েছে, তারা এই করিডোর থেকে আমাদের লাভ-ক্ষতি নিয়ে নানারকম সংশয় প্রকাশ করে হইচই শুরু করেছে। কিন্তু এই ধরনের প্রপোজাল আসার পর আমাদের হ্যাঁ, হু বা পরীক্ষা করে দেখবÑ এসব বলে সময় নষ্ট করা চরম ভুল। আমাদের উচিত কোনো প্রকার ডিলে না করে স্ট্রেইটওয়ে এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানানো। চীনকে এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত করার মাধ্যমে আমরা ভারতের অসৎ উদ্দেশ্যকে সীমিত করতে পারব। এর ফলে চীন আমাদের ওপর নতুন আস্থা পাবে এবং উত্তরবঙ্গে চীনের সাথে উন্নয়নমূলক যে সম্ভাবনার সৃষ্টি হয়েছে, তা আরও বেশি গতি পাবে।
পরিশেষে বলা যায়, পূর্ববর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কার নতজানু ও একক ভারতমুখী পলিসির দিকে আবার ফেরত যাওয়া আমাদের জন্য বড় ধরনের সর্বনাশ ডেকে আনবে। বর্তমানে বিএনপির জন্য এটি একটি বিরাট রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সুযোগ। সুতরাং, ভারতের ইচ্ছা-অনিচ্ছার দিকে মনোযোগ না দিয়ে বরং আমাদের অর্থনীতির স্বার্থে চীনের সাথে এই সংযোগটা গড়ে তোলা আমাদের জন্য এই মুহূর্তের সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার (হাইয়েস্ট প্রায়োরিটি)। এটিকে কেবল সাধারণ কোনো যোগাযোগ বা অর্থনৈতিক করিডোর হিসেবে দেখলে চলবে না, বরং এটি বর্তমান ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের জন্য একটি অস্তিত্বজনিত সুবিধা বা ‘এক্সিসটেন্সিয়াল রিয়ালিটি’।
লেখক: অধ্যাপক এম শাহীদুজ্জামান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক এবং নিরাপত্তা বিশ্লেষক