শিরোনাম
◈ মাস্টার প্যানের অংশ হিসেবে মধ্যরাতে বিএনপি কার্যালয়ে ডিবি প্রধানের অভিযান: রিজভী ◈ আমার দুই সন্তান বাপ ডাকবে কাকে ◈ রাতে নয়াপল্টনে বিএনপির কার্যালয়ে ডিবির অভিযান, গ্রেপ্তার ৭ ◈ আজ কোটা আন্দোলনকারীদের গায়েবানা জানাযা ও কফিন মিছিল ◈ বিশ্ব গণমাধ্যমে কোটাবিরোধী আন্দোলনে প্রাণহানির খবর ◈ সারা দেশে সব বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা, শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ ◈ বৃহস্পতিবারের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত ◈ দেশের সব স্কুল-কলেজ বন্ধ ঘোষণা করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ◈ বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ডাবলু মারা গেছেন ◈ ঢাকা, চট্টগ্রাম, বগুড়া, রংপুরে ও রাজশাহীতে বিজিবি মোতায়েন

প্রকাশিত : ১২ জুন, ২০২৪, ০১:৪৬ রাত
আপডেট : ১২ জুন, ২০২৪, ০১:৪৬ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

দলের প্রবল বিপর্যয়েও ডাগ আউটে বসে বত্রিশখানা দন্ত বিকশিত করা হাসি!

সাদাত হোসাইন

সাদাত হোসাইন: প্রেস ব্রিফিংয়ে কিংবা ইন্টারভিউতে শান্তর যে অ্যাটিচ্যুড ঠিক, এই একই বা আরও খানিক নির্লিপ্ত ও উদ্ধত অ্যাটিচ্যুড দেখা গেছে লিটনের ক্ষেত্রেও। যে কদিন সে ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক ছিল, তার চোখেমুখে এমন এক নির্লজ্জ নির্বিকারত্ব দেখতাম যেন ম্যাচের পর ম্যাচ হারা, প্রতি ম্যাচে চূড়ান্ত ইনসেন্সিবল শট খেলে আউট হওয়া তার মৌলিক অধিকার এবং এই নিয়ে কেউ তাকে প্রশ্ন করলে সে যেন তেড়েফুঁড়ে তাকে নাজেহাল করতে উদ্যত ফণা তুলে ছোবল মারতে চাইত। পাল্টা প্রশ্নে বিব্রত করতে চাইত। একবার এক সাংবাদিক সেইবছরে তার ২২ (সম্ভবত) এভারেজ নিয়ে প্রশ্ন করায় সে সেই একই ঔদ্ধত্য নিয়ে পাল্টা প্রশ্ন করল , কেন? ২২ এভারেজ কেন খারাপ?

একজন টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান যদি সত্যি এটা ভাবেন, আমার মনে হয় ঠিক ওই মুহূর্তে সর্বোচ্চ পর্যায়ে ক্রিকেট খেলার, দেশের প্রতিনিধিত্ব করার নৈতিক অধিকার তার শেষ হয়ে যায়। একজন ব্যাটসম্যান ঠিক কোন পর্যায়ের দায়িত্বজ্ঞানহীন হলে এই ধরনের ভাবনা ভাবতে পারেন? ১০ জুন ম্যাচে ডাগ আউটে হৃদয়, মাহমুদউল্লাহকে দেখলাম। প্রবল হতাশা, দুঃখবোধ তাদের ঘিরে ধরেছে। অথচ শান্ত, সে দলের ক্যাপ্টেন, তাকে দেখে মনে হচ্ছিল, পাড়ার মাঠে চানাচুর-মুড়ি খেতে খেতে ক্রিকেট খেলা হচ্ছে। হারলেও সমস্যা নেই। ফানটাই আসল। কী নির্লিপ্ত হাসিহাসি মুখে সে অনবরত কথা বলছিল। এমনকি, এরকম ভয়াবহ একটা ম্যাচ যখন হেরে গেলো, যখন মাঠে উপস্থিত দর্শক সহ ১৮ কোটি মানুষ প্রবল দুঃখ ও হতাশায় নিমজ্জিত, তখনও সে ওই নির্বিকার ভঙ্গিতেই বললো, ক্রিকেটে এমন হতেই পারে। আশা করছি দর্শকরা তাদের এমন সমর্থন সামনেও অব্যাহত রাখবে।
একবারের জন্যও দুঃখপ্রকাশ করলেন না দর্শকদের উদ্দেশে। নিজেদের এমন কাণ্ডজ্ঞানহীন পারফর্মেন্স নিয়ে সামান্য বিষাদও চোখে পড়ল না। না আচরণে, না মুখভঙ্গিতে, না কথায়।  অথচ কত কোটি কোটি মানুষের হৃদয় ভেঙে তারা রক্তাক্ত করেছেন, যন্ত্রণাকাতর নির্ঘুম রাতের কারণ হয়েছেন। সাকিবকেও দেখলাম হাসছেন। তা হাসুন। তিনি অন্য ধাতুতে গড়া। সেটা তিনি অনেকবার প্রমাণ করেছেন। তিনি আমাদের মতো অতি আবেগী নন। হয়তো সেটিই তিনি টিম মেম্বারদের মধ্যে ছড়াতে চাইছেন। কিন্তু টিম মেম্বাররা তার কাছ থেকে যদি কেবল ঔদ্ধত্য কিংবা নির্বিকার ভঙ্গিতে কেবল অন্যদের অনুভূতিকে থোড়াই কেয়ার করাটাই শেখেন, পাত্তা না দেয়াটাই শেখেন, তাহলেতো সমস্যা। তাদেরতো সেই নির্বিকারত্ব নিয়ে মাঠে পার্ফরম করাটাও শিখতে হবে। নাকি আজকাল উল্টোটা হচ্ছে। টিমমেটরা তার কাছ থেকে নির্লিপ্ততা, নির্বিকারত্ব এবং ঔদ্ধত্য শিখছে। আর তিনি টিমমেটদের কাছ থেকে শিখছেন দায়িত্বজ্ঞানহীন ক্রিকেট এবং ধারাবাহিক ফর্মহীনতা?

ক্রিকেটটা নিশ্চয়ই তারা আমাদের চেয়ে ভালো বোঝেন। কিন্তু তাদের আচরণে এই যে দায়বদ্ধতার লেশমাত্র প্রকাশ পায় না, দেশ, দল ও সমর্থকদের প্রতি প্রবল অনুভূতিহীনতা প্রকট হয়ে ওঠে, এটাতো আর কোনো দলে দেখি না? এই নামিবিয়া, পাপুয়ানিউগিনি, উগান্ডা থেকে শুরু করে ভারত, পাকিস্তান, এমনকি রোবোটিক অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়দেরও দেখি এরকম ম্যাচ হেরে গিয়ে দুঃখিত হতে। আহত ও অপরাধি বোধ করতে। তাহলে এরা ঠিক কোন মন্ত্রবলে, কাজে ও কথায় এমন থোড়াই কেয়ার মানসিকতার হয়ে উঠছে? এমন উদ্ধত কিংবা নির্বিকার হয়ে উঠছ্নে? যদি দেশের প্রতি, দেশের মানুষের প্রতি সামান্য নিবেদনও কাজ করে, সিরিয়াসনেস কাজ করে, তাহলে কীভাবে  ম্যাচের পর ম্যাচ হেরেও, ইনিংসের পর ইনিংস দায়িত্বজ্ঞানহীন শট খেলে আউট হয়েও এমন নির্লজ্জ আচরণ এরা করে যান? কোনো আত্মদহন কাজ করে না। কোনো  আত্মসমালোচনা নেই। দায়বদ্ধতা নেই।  বরং  ইন্টারভিউতে, সংবাদ সম্মেলনে বেহায়ার মতো হাসি হাসি মুখে খামখেয়ালি সব উত্তর দিতে থাকেন। দলের প্রবল বিপর্যয়েও ডাগ আউটে বসে বত্রিশখানা দন্ত বিকশিত করে হাসতে থাকেন।

কিন্তু তারা কি জানেন, সব হাসিই সুন্দর নয়। কিছু কিছু হাসি জগতের সবচেয়ে নির্মম হাসি। কুৎসিত ও কদাকার হাসি। লেখক: কথাসাহিত্যিক। ১১-৬-২৪। ফেসবুক থেকে 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়