শিরোনাম

প্রকাশিত : ২২ জুন, ২০২২, ১০:৩৫ রাত
আপডেট : ২২ জুন, ২০২২, ১০:৩৫ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

বিশ্বে দেশের ভাবমুর্তি উজ্জল করেছে পদ্মা সেতু

পদ্মা সেতু

মনিরুল ইসলাম: জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যরা বলেছেন, করোনা মোকাবেলাসহ মেগা প্রকল্পগুলোর সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকার দেশকে এগিয়ে নিচ্ছে। আর সরকারের এই অভূতপূর্ব উন্নয়নে দিশেহারা একটি মহল মিথ্যাচারে লিপ্ত। তারা নানামুখী ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে। এই মিথ্যাচার ও ষড়যন্ত্র সম্পর্কে দেশবাসীকে সতর্ক থাকতে হবে।

বুধবার (২২ জুন) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে ওই আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী ও প্যানেল সভাপতি এ বি তাজুল ইসলাম। আলোচনায় অংশ নেন স্বাস্থ্য মন্ত্রী জাহিদ মালেক, রেলপথ মন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন, বিমান প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুর আলী, ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খান, হুইপ শামসুল হক চৌধুরী, আওয়ামী লীগের আবুল কালাম আজাদ, শহীদুজ্জামান সরকার, এ বি তাজুল ইসলাম, মৃণাল কান্তি দাস, নজরুল ইসলাম বাবু, বজলুল হক হারুন, ছলিম উদ্দিন তরফদার, বদরুদ্দোজা মো. ফরহাদ হোসেন, আতাউর রহমান খান, ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাহ, কুজেন্দ্রনাথ ত্রিপুরা, আনোয়ার হোসেন খান, মো. আয়েন উদ্দিন, আশেক উল্লাহ রফিক, নজরুল ইসলাম চৌধুরী, গাজী মো. শাহনেওয়াজ, নাহিদ ইজাহার খান, শামীমা আক্তার খান, উম্মে ফতেমা নাজমা বেগম ও বেগম শামসুন নাহার, জাসদের শিরীন আকতার এবং বিরোধী দল জাতীয় পার্টির ডা. রুস্তম আলী ফরাজী, নাসরিন জাহান রত্না ও নুরুল ইসলাম তালুকদার, বিএনপির গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ।

রেলপথ মন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন বলেন, ১৯৮১ সালে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা দেশে ফিরেছিলেন বলেই আজকের এই উন্নয়ন। তিনি দেশে ফিরেছিলেন বলেই জাতিপর পিতা হত্যাকাণ্ড ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হয়েছে। তিনি বলেন, টেকসই উন্নয়নের জন্য অবকাঠামো উন্নয়ন জরুরী। কিন্তু বিগত দিনে রেলপথ ও নৌপথকে অবজ্ঞা করা হয়েছিলো। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসে রেলপথ উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেন। পদ্মা সেতৃর সঙ্গে রেলপথ যুক্ত করা হয়েছে। নৌ, সড়ক ও বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। 

সরকারি দলের আবুল কালাম আজাদ বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনা  আওয়ামী লীগ ও সরকারের হাল ধরার কারণে বাংলদেশ বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল। জাতীয় বাজেটের আকার বাড়ছে। বিভিন্ন খাতে বরাদ্দও বাড়ছে। তবে করোনাকালে যে সফলতা দেখিয়েছি, এই সফলতা ধরে রাখতে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়াতে হবে। তিনি বলেন, এখন আগের মতো বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বাজেট নিয়ে আলোচনা হয় না। আলোচনার প্রধান বিষয় পদ্মা সেতু। এই সেতুর কারণে দেশের অর্থনীতির ব্যাপক উন্নতির পাশাপাশি সারাবিশ্বে দেশের ভাবমুর্তি উজ্জল হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুর আলী বলেন, প্রধানমন্ত্রী প্রণোদনা দেওয়ার কারণে করোনাকালে সংকট মোকাবেলা করে বিমান লাভজন্ক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল উদ্বোধনের পর বিমানবন্দর আধুনিকায়নের কাজে শেষ হবে। আগামী বছরে প্রধানমন্ত্রীতা উদ্বোধন করতে পারবেন বলে আশা করছি। তিনি আরো বলেন, পর্যটন শিল্পের বিকাশে ব্যাপক কর্মসূচী নেওয়া হয়েছে। পদ্মা সেতুকে ঘিরে নতুন পর্যটন ব্যবস্থা গড়ে উঠবে। বিশ্বে ঐতিহ্য সুন্দরবনসহ অন্যান্য এলাকায় পর্যটকদের আকর্ষণে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হচ্ছে।

স্বপ্নের পদ্মা সেতু উদ্বোধনের দিনটি স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন বিরোধী দল জাতীয় পার্টির নাসরিন জাহার রত্না। তিনি বলেন, পদ্মা সেতুর এই সুফল জনগণের কাছে পৌছে দিতে বাজেটে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য কমানোর উদ্যোগ নিতে হবে। কারণ করোনা মহামারিকালে বিপুল সংখ্যেক মানুষ নিঃস্ব হয়ে গেছে, তেমনি এ সময়ে পাল্লা দিয়ে কোটিপতির সংখ্যাও বেড়েছে। অর্থমন্ত্রী দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচাররোধ করতে ব্যর্থ হয়েছেন। অথচ এখন যারা চুরি করে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার করেছে, তাদেরকে আবার দায়মুক্তি দেয়া হচ্ছে। এটা কোনভাবেই সমর্থনযোগ্য নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

জাসদের শিরীন আখতার বলেন, সারাদেশে অবকাঠামো উন্নয়ন হলেও দেশে ধনী দরিদ্রের বৈষম্য বাড়ছে। ধনী আরো ধনী হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, সাম্প্রদায়িক শক্তি ষড়যন্ত্র করছে। দুর্নীতি বন্ধে সরকারের ঘোষণা সত্ত্বেও দুর্নীতি চলছে। দুনীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। দুর্নীতি মোকাবেলা করেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।

এ বি তাজুল ইসলাম বলেন, করোনাকালে পৃথিবীর অনেক দেশে দুর্ভিক্ষ অবস্থা বিরাজ করছে। কিন্তু বাংলাদেশে সেই পরিস্থিতি হতে দেননি বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। তিনি আরো বলেন, শুধু পদ্মা সেতুর মতো মেগা প্রকল্প নয়, দুর্যোগে মানুষের পাশি দাড়িয়েছে বর্তমান সরকার। অনেকেই উৎসবের আয়োজন নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। কিন্তু আমরা বলতে চাই। আমরা উৎসবও করবো, আবার মানুষের পাশেও দাড়াবো।

আওয়ামী লীগের নজরুল ইসলাম বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় থাকাকালে প্রতিটি খাতে লুটপাট চালিয়ে দেশটাকে লন্ডভন্ড করে যায়। সেই দেশকে এগিয়ে উন্নয়নশীল কাতারে নিয়ে এসেছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি আরো বলেন, করোনা মহামারিকালে সরকার বিশাল অঙ্কের টাকা ভর্তুকি দিয়ে একদিকে দেশের মানুষের জীবনকে রক্ষা করেছেন, অন্যদিকে দেশের অর্থনীতির চাকাকে সচল রেখেছেন। অথচ নানাভাবে মিথ্যাচার চালিয়ে দেশবাসীকে বিভান্ত করা হচ্ছে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়