সংসদের উচ্চকক্ষের আসন বণ্টন নিয়ে নতুন প্রস্তাব উঠেছে সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির বৈঠকে।প্রস্তাব অনুযায়ী, ১০৫ সদস্যের উচ্চকক্ষে ৫০টি আসন বণ্টন করা হবে সংসদীয় আসনের অনুপাতে, ৫০টি আসন রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে। বাকি পাঁচটি আসনে সদস্য মনোনয়ন দেবেন রাষ্ট্রপতি।
শনিবার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বিশেষ কমিটির বৈঠকে এ প্রস্তাব দেন একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের একজন শিক্ষক। বৈঠকে উপস্থিত সদস্যদের সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবটিতে অনেকে সমর্থন জানিয়েছেন।
প্রস্তাবদাতার মতে, এ পদ্ধতিতে উচ্চকক্ষ গঠন করা হলে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে।
বর্তমানে সংসদের উচ্চকক্ষ গঠনের পদ্ধতি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থানে পার্থক্য রয়েছে। সরকারি দল বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে সংসদীয় আসনের অনুপাতে উচ্চকক্ষ গঠনের প্রতিশ্রুতি রয়েছে।
অন্যদিকে প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে উচ্চকক্ষ প্রতিষ্ঠার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
বৈঠকে অংশ নেওয়া একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষাবিদও উচ্চকক্ষ গঠনের প্রস্তাবটিকে গ্রহণযোগ্য বলে উল্লেখ করেন। তিনি উচ্চকক্ষের স্পিকারের নেতৃত্বে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রস্তাব দেন।
তার প্রস্তাব অনুযায়ী, সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে ভাইস প্রেসিডেন্ট পদ সৃষ্টি করা যেতে পারে। উচ্চকক্ষের স্পিকার পদাধিকারবলে ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এ ছাড়া সরকার ও বিরোধী দলের মনোনয়নের ভিত্তিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অন্য উপদেষ্টাদের উচ্চকক্ষ থেকে নিয়োগ দেওয়ার প্রস্তাব করেন তিনি।
একই সঙ্গে সংসদের নিম্নকক্ষের মেয়াদ চার বছর এবং উচ্চকক্ষের মেয়াদ ছয় বছর করার প্রস্তাব দেন ওই শিক্ষাবিদ। তার মতে, এতে সরকারের মেয়াদ শেষ হলেও অন্তত একটি নির্বাচিত সংসদ বহাল থাকবে।
বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতির কাঠামো, প্রক্রিয়া ও কর্মপরিধি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। উচ্চকক্ষ গঠিত হলে সরকার ও বিরোধী দলের মতামতের ভিত্তিতে এর স্পিকারের নেতৃত্বে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রস্তাবও আলোচনায় এসেছে।
তিনি জানান, স্পিকার ছাড়া অন্য উপদেষ্টাদের সরকার ও বিরোধী দলের সম্মতিতে নিয়োগ দেওয়ার বিধান রাখার বিষয়ে মতামত এসেছে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। আরও প্রস্তাব পাওয়ার পর সেগুলো কমিটিতে উপস্থাপন করা হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কমিটির আরও এক বা দুটি বৈঠক বাকি রয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে বলে প্রস্তাবগুলো সংকলনের কাজ শুরু হয়েছে।
বৈঠকে সংবিধানের মৌলিক কাঠামো, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, বিচারক নিয়োগ, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠা এবং সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন নিয়েও আলোচনা হয়। তবে উচ্চকক্ষের আসন বণ্টনসহ আলোচ্য বিষয়গুলোতে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।