শিরোনাম
◈ ইরানের জনগণের অধিকার মেনে নিতে হবে যুক্তরাষ্ট্রকে, বন্ধ করতে হবে আগ্রাসন ও দাদাগিরি: প্রেসি‌ডেন্ট পে‌জেশ‌কিয়ান ◈ সৌদি আরব থেকে মার্কিন কর্মকর্তাদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ যুক্তরাষ্ট্রের ◈ শেষ মুহূর্তের গোলে বায়ার্নের মাঠে পয়েন্ট উদ্ধার আর্সেনালের ◈ এবার ইতা‌লির ক্লাব কোমোর কা‌ছে হারলো ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ◈ নেপাল প্রিমিয়ার লি‌গে শেখ মেহেদী, এক দলে খেল‌বেন ৪ বাংলাদেশি ক্রিকেটার ◈ ‘রোনাল্ডো ডুবিয়েছিলেন ইউনাইটেডকে, আমাকেও’ ◈ হাজার কোটি টাকার ইভিএম নিয়ে বিপাকে নির্বাচন কমিশন ◈ বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট, কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে বাংলাদেশের পোশাকশিল্প : টাইম ◈ বুকিং ডটকমে ভুয়া তালিকা ও ফিশিং প্রতারণা ঠেকাতে ইইউর কড়া নির্দেশ, পেইড তালিকায় স্বচ্ছতার তাগিদ ◈ মানিকগঞ্জে গ্যাস অনুসন্ধানে নতুন কূপ খনন করবে বাপেক্স, সম্ভাবনা ঢাকায় গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর

প্রকাশিত : ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৬ দুপুর
আপডেট : ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৬ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

দাপ্তরিক শৃঙ্খলা ফেরানোর উদ্যোগ

সচিবালয়ে কে কখন আসছেন, নিজেই দেখছেন প্রধানমন্ত্রী

বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই প্রশাসনিক তৎপরতা বাড়িয়েছে। সরকারি দপ্তরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্ধারিত সময়ে উপস্থিতি নিশ্চিত করা, কর্মস্থলে শৃঙ্খলা ফেরানো এবং সাধারণ মানুষকে কাঙ্ক্ষিত সেবা দেওয়াই এর মূল উদ্দেশ্য। এ লক্ষ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে অফিসে উপস্থিতি ও প্রস্থানের সময় মেনে চলার নির্দেশনাও জারি করা হয়।

সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে কর্মরতদের প্রতিদিনের হাজিরা সিস্টেম তদারকি করেছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা আমার দেশকে বলেন, ৪৩টি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ডিজিটাল হাজিরা সিস্টেম ম্যানেজমেন্ট করে আইসিটি ডিভিশন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিজেও ডিজিটাল হাজিরা দেন। তিনি দেখতে চেয়েছিলেন ডিজিটাল হাজিরা সিস্টেমটা কেমন। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত সপ্তাহে মন্ত্রিপরিষদ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের হাজিরার প্রেজেন্টেশন দেখানো হয়েছে।

সেখানে আমাদের প্রশাসনের অতিরিক্ত সচিব ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

Advertisement

এই কর্মকর্তা আরো বলেন, ডিজিটাল হাজিরার সিস্টেমের এক্সেস মন্ত্রিপরিষদ সচিব, মুখ্য সচিব এবং আইসিটি বিভাগের সচিবকে দেওয়া আছে। তিনি বলেন, ‘স্যারেরা চাইলে যে কোনো সময় যে কোনো মন্ত্রণালয়ের অফিসারদের অবস্থান দেখতে পারবেন যে, তারা কখন অফিসে আসছেন আবার কখন অফিস ত্যাগ করে চলে যাচ্ছেন।’

সচিবালয়, সরকারি হাসপাতাল ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ঝটিকা পরিদর্শন করছেন প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা। তাদের এসব আকস্মিক পরিদর্শনে উঠে আসছে দাপ্তরিক উপস্থিতি, সেবার মান ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার নানা দিক।

সরকারের এই তৎপরতায় সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে সময়মতো কর্মস্থলে উপস্থিতি নিশ্চিত করা। শুধু নির্দেশনা জারি করেই দায়িত্ব শেষ না করে সরেজমিনে পরিস্থিতি যাচাই, হাজিরা খাতা দেখা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জবাবদিহির আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

সরকারি অফিসে সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নিজেই তদারকিতে নেমেছেন। চলতি বছরের ২৯ মার্চ সকালে তিনি সচিবালয়ে গিয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দপ্তর আকস্মিক পরিদর্শন করেন। সকাল ৯টার কিছু পর সচিবালয়ে পৌঁছে তিনি হেঁটে বিভিন্ন ভবনে যান এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতির খোঁজ নেন।

এ সময় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের কক্ষে গিয়ে তাদের কর্মস্থলে উপস্থিতি ও দাপ্তরিক কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজ-খবর নেন প্রধানমন্ত্রী। পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে অফিস শুরুর সময় থেকেই কর্মকর্তাদের নিজ নিজ কর্মস্থলে থাকার বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট হয়। দাপ্তরিক কাজে গতি আনা, অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ ব্যবহার কমানো এবং অফিসের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার বিষয়েও তিনি গুরুত্ব দেন।

সচিবালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কেন্দ্রের দপ্তরে প্রধানমন্ত্রী নিজে গিয়ে উপস্থিতি যাচাই করায় সরকারি কর্মচারীদের সময়ানুবর্তিতা নিয়ে সরকারের প্রত্যাশা নতুন করে আলোচনায় আসে। এতে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে দায়িত্বশীলতা বাড়ানোর বার্তাও যায়

আকস্মিক হাসপাতাল পরিদর্শন

সরকারের তদারকি শুধু সচিবালয় বা মন্ত্রণালয়ের দপ্তরে সীমাবদ্ধ নেই। সাধারণ মানুষের সরাসরি সেবা পাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ জায়গা সরকারি হাসপাতালও আকস্মিক পরিদর্শন করছেন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী।

গত ৭ মার্চ গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঝটিকা পরিদর্শনে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল। পরিদর্শনে চিকিৎসক ও কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতিসহ বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়টি সামনে আসে। হাসপাতালের ওয়ার্ড ও শৌচাগারের পরিচ্ছন্নতা এবং প্রয়োজনীয় সামগ্রী থাকার বিষয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন মন্ত্রী।

এরপর ২৩ মার্চ ঈদুল ফিতরের ছুটির মধ্যে সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কার্যক্রম আকস্মিকভাবে পরিদর্শন করেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। তৃণমূল পর্যায়ে চিকিৎসাসেবার বাস্তব অবস্থা যাচাই করাই ছিল এ উদ্যোগের উদ্দেশ্য। এরপর ২৪ মার্চ দক্ষিণ সুরমা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কার্যক্রমও ভিডিওকলে পর্যবেক্ষণ করেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী। এ সময় হাজিরা খাতাসহ হাসপাতালের কার্যক্রমের বিষয়ে খোঁজ নেন তিনি। এসব উদ্যোগে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসক ও কর্মীদের উপস্থিতি, সেবার মান এবং রোগীদের ভোগান্তির বিষয়গুলো সামনে এসেছে।

এ ছাড়া ২৬ আগস্ট মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আকস্মিক পরিদর্শন করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত তদারকি এবং দায়িত্ব পালনে অনিয়ম শনাক্ত করার ক্ষেত্রে এসব অভিযান সরকারের নজরদারি কার্যক্রমেরই অংশ।

এলজিইডিতে ঝটিকা পরিদর্শন

সরকারি অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্ধারিত সময়ে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে ৬ এপ্রিল সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে (এলà¦