মনিরুল ইসলাম : শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত গণতন্ত্রকে অর্থবহ ও টেকসই করতে একটি কার্যকর সংসদ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেছেন, দেশের সব গণতন্ত্রকামী শক্তিকে ঐক্যবদ্ধভাবে সংসদীয় ব্যবস্থাকে কার্যকর করার উদ্যোগ নিতে হবে। এর মধ্য দিয়েই অর্জিত গণতন্ত্র পূর্ণতা পাবে।
আজ শনিবার ১০ অক্টোবর দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে ৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে শহীদ জেহাদ স্মৃতি পরিষদ আয়োজিত স্মরণসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত গণতন্ত্রকে একটি কার্যকরী সংসদের মাধ্যমেই পূর্ণতা দিতে হবে।’
তিনি বলেন, রাজনৈতিক কর্মীদের দায়িত্ব শুধু আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। দেশের মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করাই তাঁদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। তাই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের পাশাপাশি জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে রাজনৈতিক কর্মীদের।
৩১ দফা বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ
শহীদ জেহাদ, আবু সাঈদ ও মুগ্ধের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা বলেন, ফ্যাসিবাদের কবল থেকে দেশকে মুক্ত করে একটি আধুনিক ও বিজ্ঞানমুখী রাষ্ট্র গঠনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফা বাস্তবায়নের বিকল্প নেই।
তিনি বলেন, তারেক রহমানের ঘোষিত ৩১ দফায় ফ্যাসিবাদের বিলোপ ঘটিয়ে একটি আধুনিক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা রয়েছে। এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে অর্জিত গণতন্ত্রকে টেকসই রূপ দেওয়া সম্ভব।
জহির উদ্দিন স্বপন আরও বলেন, শুধু আন্দোলন ও আত্মত্যাগের ইতিহাসচর্চার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। শহীদদের রক্তের অঙ্গীকার বাস্তবায়নে একটি কার্যকর সংসদ প্রতিষ্ঠা এবং জাতীয় অর্থনীতিকে সচল করা এখন রাষ্ট্র ও রাজনৈতিক কর্মীদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।
বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে দেশের অগ্রগতিকে ত্বরান্বিত করতে হবে। আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়ন, কার্যকর গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান এবং শক্তিশালী জাতীয় অর্থনীতি গড়ে তোলা জরুরি।
তাঁর মতে, গণতন্ত্রকে কেবল রাজনৈতিক অর্জন হিসেবে দেখলে হবে না; বরং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা, সংসদীয় ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিশ্চিত করা এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে এর সুফল মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে।
স্মরণসভায় উপস্থিত ছিলেন যারা
শহীদ জেহাদ স্মৃতি পরিষদের সভাপতি আমানুল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে স্মরণসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, সংসদ সদস্য শিরীন সুলতানা, সাবেক সংসদ সদস্য নাজিমুদ্দিন আলম, হাবিবুর রহমান হাবিব ও খন্দকার লুৎফর রহমান।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকন।