প্রজননের ভরা মৌসুমে ইলিশ আহরণ থেকে বিরত রাখতে সাড়ে ৬ লাখ জেলে পরিবারকে ১ হাজার ৬৫৭ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দিয়েছে সরকার।
দেশের ৩৮ জেলার ১৬৮টি উপজেলার ৬ লাখ ৪৬ হাজার ২৯০টি জেলে পরিবারকে মানবিক সহায়তা হিসেবে এসব চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মৎস্য-২ শাখা থেকে গত ২৮ সেপ্টেম্বর জারি করা এক সরকারি আদেশে এ বরাদ্দ দেওয়া হয়। এতে পরিবারপ্রতি ২৫ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
সরকারি আদেশ অনুযায়ী, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে ২২ দিন (৬ অক্টোবর থেকে ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত) ইলিশ আহরণে বিরত থাকবেন সংশ্লিষ্ট জেলেরা। এ সময়ে তাদের জীবনযাত্রা নির্বাহে মানবিক সহায়তা হিসেবে ভিজিএফের এসব চাল বিতরণ করা হবে।
বরাদ্দের তালিকায় ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন জেলার পাশাপাশি শরীয়তপুর, মাদারীপুর, রাজবাড়ী, কিশোরগঞ্জ, মানিকগঞ্জসহ দেশের ইলিশ আহরণ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন জেলার জেলে পরিবার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
তালিকার উল্লেখযোগ্য বরাদ্দের মধ্যে শরীয়তপুরে ২৬ হাজার ১২৯টি পরিবারকে ৬৫৩ দশমিক ২২৫ মেট্রিক টন, মানিকগঞ্জে ৯ হাজার ২৬২টি পরিবারকে ২৩১ দশমিক ৫৫ মেট্রিক টন এবং রাজবাড়ীতে ৫ হাজার ৫৯২টি পরিবারকে ১৩৯ দশমিক ৮ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
রাজশাহী বিভাগের জন্য মোট ১৯ হাজার ৪১১টি জেলে পরিবারের অনুকূলে ৪৮৫ দশমিক ২৭৫ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে পাবনায় ৩ হাজার ৫০০টি পরিবারকে ৮৭ দশমিক ৫ মেট্রিক টন, বগুড়ায় ১ হাজার ৮৯০টি পরিবারকে ৪৭ দশমিক ২৫ মেট্রিক টন এবং নাটোরে ৭৫০টি পরিবারকে ১৮ দশমিক ৭৫ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
রংপুর বিভাগের কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার মোট ১৬ হাজার ১২৬টি জেলে পরিবারের জন্য ৪০৩ দশমিক ১৫ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কুড়িগ্রামে ৯ হাজার ৬১৬টি পরিবারকে ২৪০ দশমিক ৪ মেট্রিক টন এবং গাইবান্ধায় ৬ হাজার ৫১০টি পরিবারকে ১৬২ দশমিক ৭৫ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ রয়েছে।
সরকারি নির্দেশনায় বলা হয়েছে, জেলা প্রশাসকদের বরাদ্দ পাওয়া ভিজিএফ চাল নির্বাচিত ও প্রকৃত মৎস্যজীবীদের মধ্যে মানবিক সহায়তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন নির্দেশিকা অনুসরণ করে বিতরণ করতে হবে। ৭ অক্টোবরের মধ্যে চাল উত্তোলন ও বিতরণ সম্পন্ন করে নিরীক্ষার জন্য হিসাব সংরক্ষণ করতে হবে।
সময়ের স্বল্পতার কারণে জেলা প্রশাসকদের বরাদ্দ পাওয়ার এক কার্যদিবসের মধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের অনুকূলে উপ-বরাদ্দ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
একইভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের উপ-বরাদ্দ পাওয়ার দুই কর্মদিবসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের অনুকূলে ছাড়পত্র দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
বিতরণের সময় উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা বা তার প্রতিনিধি এবং ট্যাগ কর্মকর্তার উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। নিবন্ধিত বা কার্ডধারী জেলে ছাড়া অন্য কাউকে ভিজিএফ চাল দেওয়া যাবে না বলেও আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, মা ইলিশ সংরক্ষণ কার্যক্রমে ইলিশ আহরণ নিষিদ্ধকাল শুরুর আগে অর্থাৎ ৮ অক্টোবরের মধ্যে ভিজিএফ চাল বিতরণ সম্পন্ন করতে হবে।
বিতরণ শেষে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রকৃত বিতরণকৃত ভিজিএফের বিবরণী মৎস্য অধিদপ্তরের মাধ্যমে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে হবে। সূত্র: বাসস