ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ অন্যান্য আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো সক্রিয়ভাবে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। আজ সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব পাওয়ার পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথম বৈঠক করলাম। এটা সৌজন্য একটি বৈঠক। এখানে কী ধরনের সমস্যা রয়েছে তা জানলাম। আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় এসব সমস্যা কীভাবে মোকাবিলা করা যায়, সে বিষয়ে আলোচনা হলো।
তিনি আরও বলেন, এখন পর্যন্ত বর্তমান ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রমের ব্যাপারে প্রশ্ন তোলার মতো কোনো দিক পাইনি। পেলে নিশ্চয়ই আমরা দেখব। তবে এখানে আসা বিভিন্ন মামলা নিয়ে আমরা যাচাই-বাছাই করছি। অপরাধ যদি হয়ে থাকে সেটার বিচারের জন্য মামলার সংখ্যা বাড়ানো মুখ্য বিষয় নয়। ন্যায়বিচার হচ্ছে কিনা- সেটাই আমাদের কাছে চ্যালেঞ্জের বিষয়। আমরা ন্যায়বিচার নিশ্চিতে যা করার তাই করব। প্রসিকিউশনের বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, মব পদ্ধতিগত বা সুপরিকল্পিত হামলা নয়, বরং এটি তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া।
সুপ্রিম কোর্টের এজলাস কক্ষে সাংবাদিক প্রবেশে প্রধান বিচারপতির বাধার প্রশ্নে আইনমন্ত্রী বলেন, এটি প্রধান বিচারপতির প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত। বিচারিক কোনো সিদ্ধান্ত নয়। কেন নিয়েছেন সেটি তিনি ভালো জানেন। সাংবাদিকদের মানববন্ধনের বিষয়টি আমার দৃষ্টিতে এসেছে। প্রধান বিচারপতির নজরে এসেছে বলেও বিশ্বাস করি। তাই মেধা, প্রজ্ঞা ও অভিজ্ঞতা দিয়ে তিনি এটি পুনর্বিবেচনা করবেন বলে আমি আশা করি।
বিচারপতিদের অবসরের বয়স ৬৭ থেকে কমিয়ে ৬৫ বছরে নামিয়ে আনার বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে এ প্রস্তাবের পক্ষে নন। তবে এ নিয়ে কোনো উদ্যোগ এলে তা গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হবে।
এ সময় ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম, প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ, মঈনুল করিম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।