শিরোনাম
◈ জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছিল: রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন ◈ ভারতে থাকা শেখ হাসিনাকে ফেরাতে দিল্লির সঙ্গে আলোচনা চলছে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ◈ বেনাপোল বন্দরে প্রতারক চক্রের দৌরাত্ম্য, পাসপোর্টধারীর ৩০ হাজার টাকা ছিনতাই ◈ জুলাই আন্দোলনের শহীদ-আহতদের সন্তানদের বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষার নির্দেশ ◈ আওয়ামী শাসনামলের তিনটি নির্বাচনের পোস্টমর্টেম হওয়া প্রয়োজন: তথ্যমন্ত্রী ◈ সাকিব আল হাসান শুধু অবসরের জন্য নয়, ফিরলে দীর্ঘ সময়ের জন্য ফিরবেন, আশা হাবিবুল বাশার সুমনের ◈ জুলাই সনদ বাস্তবায়ন কোন পথে, উত্তপ্ত হতে পারে সংসদ ◈ সংসদে ১১ জুন নতুন বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী ◈ বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ দিলেন আসিফ নজরুল ◈ সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন মির্জা আব্বাসের শারীরিক অবস্থার উন্নতি

প্রকাশিত : ২৪ মার্চ, ২০২৬, ০৭:২৩ বিকাল
আপডেট : ২৪ মার্চ, ২০২৬, ১০:৫২ রাত

প্রতিবেদক : মহসিন কবির

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন কোন পথে, উত্তপ্ত হতে পারে সংসদ

মহসিন কবির: গণভোটে পাস হওয়া জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে সংসদ উত্তপ্ত করতে পারে জামায়াত-এনসিপি জোটের সংসদ সদস্যরা। রাজনৈতিক টানাপড়েনের মধ্যেই সংসদ বসতে যাচ্ছেন ২৯ মার্চ। ছাড়া তেলে বিষয়টি নিয়ে সংসদে আলোচনা হতে পারে, সেখোনেও উত্তাপ ছাড়াতে পারে।  

সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনায় ৮৪টি বিষয়ে একমত রাজনৈতিক দলগুলো। প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য, পিআর পদ্ধতিসহ মৌলিক কয়েকটি বিষয়ে আছে মত-দ্বিমত। তবে ঐকমত্য কমিশনের সবচেয়ে বড় সংকট এখন সনদ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া নিয়ে।

কমিশনের সংবিধান সংক্রান্ত প্রস্তাবগুলো আগামী জাতীয় সংসদে বাস্তবায়নের পক্ষে বিএনপি। জামায়াতে ইসলামী চায়, নির্বাচনের আগে রাষ্ট্রপতির বিশেষ আদেশ বা গণভোট। আর এনসিপি এক্ষেত্রে গণপরিষদ গঠনের পক্ষে।

জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি বা বাস্তবায়নের বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলো একমত না হলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সরকার। সেক্ষেত্রে রাজনৈতিক দল ও বিশেষজ্ঞ কমিটির প্রস্তাব সরকারের কাছে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন ঐকমত্য কমিশনের সদস্য বদিউল আলম মজুমদার।

তবে, সনদ বাস্তবায়ন হবে কোন প্রক্রিয়ায়? সংবিধান আদেশ জারি, গণভোট, গণপরিষদ গঠন নাকি নির্বাচিত সংসদে, এ নিয়ে প্রস্তাব থাকলেও মুখ খুলতে চায় না কমিশন। যদিও অন্তর্বর্তী সরকারের 'জুলাই ঘোষণাপত্রে' বলা হয়েছে, নির্বাচিত সংসদই বাস্তাবয়ন করবে সংস্কার প্রস্তাব।

বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, যদি সবগুলো দল একত্রিত হয়, তাহলে সনদে স্বাক্ষর হবে। আমরা আশা করি যে, তা ঘটবে। এরপর এটা কীভাবে বাস্তবায়িত হবে এ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো ঐকমত্যে পৌঁছলে তো ভালো। তা না হলে সরকারকে সেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

জানা গেছে, রাজনৈতিক দল ও বিশেষজ্ঞ কমিটির সাথে আলোচনার ভিত্তিতে সনদ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে 'সংবিধান আদেশ জারি'ও 'গণভোটে'র ওপর জোর দিচ্ছে কমিশন । নতুনভাবে আলোচনা হচ্ছে আপিল বিভাগের মতামতের ভিত্তিতে গণপরিষদ গঠনের প্রস্তাবও।

বদিউল আলম মজুমদার বললেন, এখনও এগুলো চূড়ান্ত হয়নি। প্রশ্ন হয়তো দুইটি হতে পারে, যেমন যেগুলোতে আপত্তি নেই, সেগুলো নিয়ে একটা হ্যাঁ/না প্রশ্ন। আরেকটা হলো যেগুলোতে আপত্তি আছে, সেগুলোতে হ্যাঁ/না। এখনও এগুলোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. এ এম মহিউদ্দিন গণমাধ্যমকে বলেছেন, জুলাই সনদের বিষয়গুলো কিন্তু কারও কাছে স্পষ্ট নয়, সাধারণ মানুষের কথা বলছি। যদি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক বা আইনজীবীকে জিজ্ঞাসা করেন সেটা ভিন্ন বিষয়। জুলাই সনদের প্রত্যেকটা ধারা ভোটারকে বুঝতে হবে, জানতে হবে। অন্যথায় যদি গণভোট অনুষ্ঠিত হয়, তাহলে সেটার যে ফলাফল সেটা আসলে প্রকৃত ফলাফল হবে না।

বিশেষজ্ঞের মতে, আপত্তির জায়গাগুলো সমাধান না করে গণভোট দেয়াটা হবে অযৌক্তিক। সেক্ষেত্রে ভোটের পর সনদ কতটা কার্যকর হবে এ নিয়ে প্রশ্ন আছে তাদের।

ড. এ এম মহিউদ্দিন গণমাধ্যমকে বলছেন, গণভোটও দেয়া হলো, সংবিধানেও অন্তর্ভুক্ত করা হলো। পরবর্তীতে কোনও এক সময় যদি কোনও সরকারের মনে হয় যে জুলাই সনদের কোনও অংশ তাদের জন সহনীয় নয়, তাহলে সেগুলোকে তারা সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে বাদ দিয়ে দিতে পারবে। সংবিধান সংস্কারের চেয়েও বেশি জরুরি হচ্ছে যে রাজনৈতিক দলগুলোকে সংস্কার। রাজনৈতিক দলগুলোর যদি সংস্কার না হয়, তাহলে জুলাই সনদকে সংবিধানের উপরে স্থান, তফসিলে স্থান দেয়া হলেও তাতে কিছু যায় আসে না। তার মতে, গণভোট করে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করে তারপর যদি নির্বাচন হয়, তাহলে রাজনৈতিক সংকট আরও বৃদ্ধি পাবে।

এ দিকে সংসদের কার্যপ্রণালী বিধির ৪৭ বিধি অনুযায়ী প্রথম অধিবেশন চলাকালে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রশ্নোত্তরের দিনও অস্থায়ীভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে। সংসদ সচিবালয় সূত্র জানায়, আগামী ১৫ মার্চ থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত এই সূচি কার্যকর থাকবে এবং সাপ্তাহিক ও সরকারি ছুটি বাদে অধিবেশন চলবে। আগের মতোই সংসদে প্রতি সপ্তাহের বুধবার প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হবে। এ দিন প্রথম ৩০ মিনিট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জন্য নির্ধারিত থাকবে, যেখানে সংসদ সদস্যরা বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের বিষয়ে প্রশ্ন করতে পারবেন।

সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১ এপ্রিল অনুষ্ঠিতব্য প্রশ্নোত্তর পর্বে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়, আইন ও বিচার বিভাগ, লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন সচিবালয় সম্পর্কিত বিষয়ে প্রশ্ন করা যাবে। এসব প্রশ্ন জমা দেয়ার জন্য আগামী ১৬ মার্চ পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংসদ সদস্যরা নির্দিষ্ট ফরমে প্রশ্ন জমা দিতে পারবেন।

পরবর্তী সপ্তাহে ৮ এপ্রিল অনুষ্ঠিতব্য প্রশ্নোত্তর পর্বে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত বিষয়ে প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠিত হবে।

অন্য দিকে ১৫ এপ্রিল অনুষ্ঠিতব্য প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রী পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয়, ভূমি মন্ত্রণালয়, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত প্রশ্নের উত্তর দেবেন।

জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা ও ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি থেকে বর্তমান সরকার ও বিএনপি ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পারওয়ার। এটিকে রাজনৈতিক ‘দ্বিচারিতা’ হিসেবে আখ্যা দেন তিনি। এসময় জনগণের অভিপ্রায়ই সর্বোচ্চ আইন হওয়া উচিত বলেও জানান জামায়াতের এ নেতা।

সোমবার, ২৩ মার্চ দুপুর ২টার দিকে কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

মিয়া গোলাম পারওয়ার বলেন, ‘সহস্রাধিক প্রাণ আর হাজারো মানুষের পঙ্গুত্বের বিনিময়ে যে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন আমরা দেখেছিলাম, সরকার গঠন করার পর সেই আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। বিশেষ করে বিএনপি জুলাই সনদ বাস্তবায়নের যে অঙ্গীকার করেছিল, এখন তারা সেখান থেকে সরে এসে ভিন্ন পথে হাঁটছে।’

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘জুলাই সনদকে চ্যালেঞ্জ না করার প্রতিশ্রুতি থাকলেও পরোক্ষভাবে একটি পক্ষকে দিয়ে আদালতে রিট করিয়ে বিষয়টিকে “সাব-জুডিস” বা বিচারাধীন করা হয়েছে।’

জামায়াতের এ নেতা বলেন, ‘সরকারের পরোক্ষ মদদে এটি করা হয়েছে যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। একদিকে জনগণের কথা বলা, অন্যদিকে নেপথ্যে ভিন্ন কৌশল নেয়া—একে দ্বিচারিতাই বলা হয়।’

বক্তব্যে তিনি গণভোট প্রসঙ্গ তুলে বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোটের চেয়ে গণভোটের পক্ষে জনসমর্থন ছিল বেশি। আইন মানুষের জন্য, মানুষ আইনের জন্য নয়। তাই পার্লামেন্টের সংখ্যাগরিষ্ঠতার দোহাই দিয়ে জুলাই সনদকে অস্বীকার করা গণতন্ত্রকামী দলের কাজ হতে পারে না।’

জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল বর্তমান রাজনৈতিক সংকট নিরসনে সরকারকে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দেন।

তিনি বলেন, ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নিন এবং জুলাই জাতীয় সনদকে প্রেসিডেন্সিয়াল অর্ডারের মাধ্যমে সংবিধানের তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করুন। এটাই এখন সংকট নিরসনের একমাত্র পথ।’

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়