শিরোনাম
◈ স্প‌্যা‌নিশ লা লিগায় রিয়াল মা‌দ্রিদের টানা তৃতীয় জয়, খেলার আ‌গে নেপাল-তিব্বতে নিহতদের স্মরণ   ◈ ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক রাখলে চীনের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার হুমকি যুক্তরাষ্ট্রের ◈ হ‌কি বিশ্বকা‌পে স্পেনকে হারিয়ে আবারও চ্যাম্পিয়ন জার্মানি ◈ ফুটবল বিশ্বকাপ ফাইনালের পর মারামারি, ফিফার ১০ ম্যাচের শাস্তি নিয়ে প্রশ্ন তুল‌লেন আর্জেন্টিনার পারেদেস ◈ জুলাইয়ে বিদেশি ঋণ পাওয়ার চেয়ে প্রায় ৩ গুণ বেশি পরিশোধ ◈ পোশাকনির্ভর রপ্তানি কমাতে নতুন ৫ খাত খুঁজছে সরকার ◈ সৌরশক্তিতে বিনিয়োগ বাড়াতে প্রণোদনা : ইউনিটপ্রতি ১০ টাকা ৫০ পয়সা দেবে সরকার ◈ আ.লীগ প্রশ্নে দিল্লির মনোভাব কি পাল্টাচ্ছে? ◈ বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যার পর সৌদি যুবকের আত্মহত্যা ◈ মতপ্রকাশের ব্যাপারে সরকার ‘খুব উদার’: তথ্য উপদেষ্টা

প্রকাশিত : ২৪ মার্চ, ২০২৬, ০৮:০১ রাত
আপডেট : ২২ আগস্ট, ২০২৬, ০৭:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

সৎ মায়ের নির্যাতনে অতিষ্ঠ শিশুর কান্না, মায়ের কবরের পাশে হৃদয়বিদারক দৃশ্য—প্রশাসনের হস্তক্ষেপ

শাহাজাদা এমরান, স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা : কুমিল্লার লালমাই উপজেলায় সৎ মায়ের নির্যাতনের শিকার এক এতিম শিশুকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। মায়ের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে শিশুটির কান্নার একটি ভিডিও ভাইরাল হলে বিষয়টি জনমনে তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয় এবং দ্রুত প্রশাসনের নজরে আসে।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকালে শিশুটিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে হাজির করা হয়। এ সময় তার সৎ মা আয়েশা আক্তার উপস্থিত হয়ে দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চান এবং ভবিষ্যতে এমন আচরণ আর করবেন না বলে মুচলেকা দেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১২ বছর বয়সী ছামিয়া আক্তার উপজেলার পোহনকুছা পশ্চিম পাড়া এলাকার বাসিন্দা। প্রায় চার বছর আগে তার মা মারা যাওয়ার পর তার বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করেন এবং বর্তমানে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। বাবার অনুপস্থিতিতে সৎ মায়ের সঙ্গে বসবাস করতে গিয়ে শিশুটি দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, সৎ মা প্রায়ই তাকে মারধর করতেন। এমনকি সম্প্রতি টানা দুই দিন ঘরের ভেতরে বেঁধে রেখে নির্যাতনের ঘটনাও ঘটে। বিষয়টি বাবাকে জানানো হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, শিশুটি তার মায়ের কবরের পাশে কান্নায় ভেঙে পড়ে আকুতি জানাচ্ছে—“আম্মু গো, আমাকে নিয়ে যাও… আমাকে কেন রেখে গেলে…”

হৃদয়বিদারক এই দৃশ্য দ্রুতই মানুষের সহানুভূতি কাড়ে এবং প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

ঘটনার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে তাহমিনা মিতু বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দেন। বাগমারা দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. লোকমান হোসেনকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

ইউএনও জানান, অভিযুক্ত আয়েশা আক্তারকে এক মাসের জন্য সতর্কতামূলক সময় দেওয়া হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে পুনরায় এমন অভিযোগ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, শিশুটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ঘটনাস্থলে লালমাই থানার ওসি মো. নুরুজ্জামানসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। তবে শিশুটির ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের আরও কার্যকর ও ধারাবাহিক পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

  • সর্বশেষ