শিরোনাম
◈ জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছিল: রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন ◈ ভারতে থাকা শেখ হাসিনাকে ফেরাতে দিল্লির সঙ্গে আলোচনা চলছে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ◈ বেনাপোল বন্দরে প্রতারক চক্রের দৌরাত্ম্য, পাসপোর্টধারীর ৩০ হাজার টাকা ছিনতাই ◈ জুলাই আন্দোলনের শহীদ-আহতদের সন্তানদের বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষার নির্দেশ ◈ আওয়ামী শাসনামলের তিনটি নির্বাচনের পোস্টমর্টেম হওয়া প্রয়োজন: তথ্যমন্ত্রী ◈ সাকিব আল হাসান শুধু অবসরের জন্য নয়, ফিরলে দীর্ঘ সময়ের জন্য ফিরবেন, আশা হাবিবুল বাশার সুমনের ◈ জুলাই সনদ বাস্তবায়ন কোন পথে, উত্তপ্ত হতে পারে সংসদ ◈ সংসদে ১১ জুন নতুন বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী ◈ বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ দিলেন আসিফ নজরুল ◈ সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন মির্জা আব্বাসের শারীরিক অবস্থার উন্নতি

প্রকাশিত : ২৪ মার্চ, ২০২৬, ০৮:০১ রাত
আপডেট : ২৪ মার্চ, ২০২৬, ০৯:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

সৎ মায়ের নির্যাতনে অতিষ্ঠ শিশুর কান্না, মায়ের কবরের পাশে হৃদয়বিদারক দৃশ্য—প্রশাসনের হস্তক্ষেপ

শাহাজাদা এমরান, স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা : কুমিল্লার লালমাই উপজেলায় সৎ মায়ের নির্যাতনের শিকার এক এতিম শিশুকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। মায়ের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে শিশুটির কান্নার একটি ভিডিও ভাইরাল হলে বিষয়টি জনমনে তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয় এবং দ্রুত প্রশাসনের নজরে আসে।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকালে শিশুটিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে হাজির করা হয়। এ সময় তার সৎ মা আয়েশা আক্তার উপস্থিত হয়ে দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চান এবং ভবিষ্যতে এমন আচরণ আর করবেন না বলে মুচলেকা দেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১২ বছর বয়সী ছামিয়া আক্তার উপজেলার পোহনকুছা পশ্চিম পাড়া এলাকার বাসিন্দা। প্রায় চার বছর আগে তার মা মারা যাওয়ার পর তার বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করেন এবং বর্তমানে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। বাবার অনুপস্থিতিতে সৎ মায়ের সঙ্গে বসবাস করতে গিয়ে শিশুটি দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, সৎ মা প্রায়ই তাকে মারধর করতেন। এমনকি সম্প্রতি টানা দুই দিন ঘরের ভেতরে বেঁধে রেখে নির্যাতনের ঘটনাও ঘটে। বিষয়টি বাবাকে জানানো হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, শিশুটি তার মায়ের কবরের পাশে কান্নায় ভেঙে পড়ে আকুতি জানাচ্ছে—“আম্মু গো, আমাকে নিয়ে যাও… আমাকে কেন রেখে গেলে…”

হৃদয়বিদারক এই দৃশ্য দ্রুতই মানুষের সহানুভূতি কাড়ে এবং প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

ঘটনার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে তাহমিনা মিতু বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দেন। বাগমারা দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. লোকমান হোসেনকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

ইউএনও জানান, অভিযুক্ত আয়েশা আক্তারকে এক মাসের জন্য সতর্কতামূলক সময় দেওয়া হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে পুনরায় এমন অভিযোগ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, শিশুটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ঘটনাস্থলে লালমাই থানার ওসি মো. নুরুজ্জামানসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। তবে শিশুটির ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের আরও কার্যকর ও ধারাবাহিক পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়