রাষ্ট্রের ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ বা ভিভিআইপি মর্যাদা সাম্প্রতিক সময়ে আবার আলোচনায় এসেছে। সদ্য সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দুই দিন আগে প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ ঘোষণা করা হয়। তিনি এক বছর বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনীর (এসএসএফ) নিরাপত্তা সুবিধা পাবেন।
তবে ড. ইউনূসের আগেও এই তালিকায় গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নেতা ও রাষ্ট্রীয় অতিথিরা ছিলেন।
বেগম খালেদা জিয়া: ২০২৫ সালের ১ ডিসেম্বর সরকার প্রজ্ঞাপন জারি করে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ ঘোষণা করে। সে সময় বার্ধক্যজনিত নানা স্বাস্থ্য জটিলতার কারণে তিনি কয়েকদিন ধরে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সদস্যরা
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২০২১ সালের ১৬ নভেম্বর সংসদে ‘বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী (স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স) বিল-২০২১’ পাস হয়। বিল অনুযায়ী বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা, তাদের সন্তানাদি, ক্ষেত্রমতো সন্তানাদির স্বামী বা স্ত্রী এবং তাদের সন্তানরাও নিরাপত্তার আওতায় থাকবেন।
আইনে কী বলা আছে: বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী আইন, ২০২১-এর ধারা ২ অনুযায়ী সরকার সরকারি গেজেট প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে কোনও বিদেশি রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধান বা সরকারপ্রধানকে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ ঘোষণা করতে পারে। এছাড়া আইন অনুযায়ী, সরকার যাকে প্রয়োজন মনে করবে, তাকেও একই মর্যাদা দিতে পারবে। উদাহরণ হিসেবে, সম্প্রতি ভুটানের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ সফরে এলে তাকে তিন দিনের জন্য গেজেটের মাধ্যমে ভিভিআইপি ঘোষণা করা হয়েছিল।
তবে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী বা অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার মতো পদাধিকারভুক্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে আলাদা প্রজ্ঞাপন প্রয়োজন হয় না; তাদের ভিভিআইপি মর্যাদা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্ধারিত। বর্তমানে এই ঘোষণা প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে দেওয়া হয়।
কী সুবিধা পান: আইন অনুযায়ী ঘোষিত ভিভিআইপি’র নিরাপত্তা নিশ্চিত করে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ)। তারা পূর্ণকালীন শারীরিক নিরাপত্তা দেয়, সম্ভাব্য হুমকি সম্পর্কে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও সমন্বয় করে, প্রয়োজনে বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতার করতে পারে এবং চরম পরিস্থিতিতে প্রাণঘাতী ব্যবস্থা নিতে পারে।
রাষ্ট্রীয় অতিথি, জাতীয় নেতা বা সংবেদনশীল সময়ের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা জোরদার ও দেশের ভাবমর্যাদা রক্ষার স্বার্থেই এই ঘোষণা দেওয়া হয়। এটি কেবল সম্মানসূচক নয়, আইনগত সুরক্ষাও নিশ্চিত করে। উৎস: বাংলাট্রিবিউন।