শিরোনাম
◈ স্কুলে ভর্তিতে বয়স নির্ধারণ, কোন শ্রেণিতে কত বছর হতে হবে যা জানাগেল ◈ কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্ব, সেক্রেটারির গাড়ি ভাঙচুর-হামলা ◈ ডেঙ্গু প্রতিরোধে সপ্তাহে দুদিন ঘরবাড়ি পরিষ্কারের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ◈ এভিয়েশন খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী ইতালি, বাংলাদেশে গড়তে চায় এমআরও হাব ◈ রাশিয়ার পর বাংলাদেশের পারমাণবিক বিদ্যুৎ খাতে চীন-যুক্তরাষ্ট্রের নজর ◈ বুক কাঁপছে আতঙ্কে, তবু থামছে না জীবিকার লড়াই : জীবিকার টানে সৌদি ফিরছেন প্রবাসীরা ◈ রাত গভীর হলেই বাড়ে বিদ্যুতের চাহিদা, ৩ হাজার মেগাওয়াট যাচ্ছে কোথায়? ◈ ঢাকা-কক্সবাজার রুটে নতুন ট্রেন মহানগর এক্সপ্রেস, ওঠা যাবে যেসব স্টেশন থেকে ◈ ওয়ান‌ডে সি‌রি‌জে অ‌স্ট্রেলিয়ার কা‌ছে হোয়াইট ওয়াশ বাংলাদেশ নারী দল  ◈ দেশের আট বিভাগে হচ্ছে ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব, বাড়বে সাইবার অপরাধ দমনের সক্ষমতা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশিত : ০৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:৫৩ দুপুর
আপডেট : ২২ আগস্ট, ২০২৬, ০৮:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ডিভোর্সের পর বাচ্চা ভবিষ্যৎ নষ্ট হওয়ার শঙ্কায় সন্তানকে নিতে চান না মা: আদালতে মায়ের বক্তব্যে স্তব্ধ বিচারক

ময়মনসিংহ জেলার একটি পরিবারে পারিবারিক কলহের জেরে স্বামী-স্ত্রীর বিচ্ছেদ ঘটে। তাদের প্রথম সন্তানের বয়স তখন চার বছর। বিচ্ছেদের আগেই জন্ম নেয় আরেকটি সন্তান, যার বয়স মাত্র ৯০ দিন। বিচ্ছেদের পর সন্তানের হেফাজত নিয়ে আদালতে হাজির হন মা।

বিচ্ছেদের পর সন্তানকে ঘিরে এক হৃদয়বিদারক ঘটনা নাড়িয়ে দিয়েছে দেশজুড়ে। ডিভোর্সের মামলায় আদালতে হাজির হয়ে এক মা স্পষ্ট ভাষায় জানালেন, এই বাচ্চা আমি চাই না, আমার ভবিষ্যৎ নষ্ট হয়ে যাবে। মায়ের এমন বক্তব্যে মুহূর্তেই স্তব্ধ হয়ে যান আদালতে উপস্থিত বিচারকসহ সংশ্লিষ্ট সবাই।

আদালতে মা দাবি করেন, নবজাতক সন্তানকে নিজের কাছে রাখতে তিনি অপারগ। তার ভাষায়, আমার একটা ভবিষ্যৎ আছে। এই বাচ্চা নিলে আমার জীবন শেষ হয়ে যাবে। 

বিচারক ও জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার বারবার অন্তত দুই বছর পর্যন্ত শিশুটিকে মায়ের কাছে রাখার অনুরোধ জানালেও মা সোজাসাপ্টা বলেন, এই সন্তানের বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।

Advertisement

শিশুটির ভবিষ্যৎ, মানবিকতা এবং মাতৃত্বের দায়িত্ব নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে বোঝানোর চেষ্টা করা হয়। কিন্তু মায়ের চোখে সন্তানের চেয়ে বড় হয়ে ওঠে নিজের ভবিষ্যৎ। বিষয়টি শুনে আদালত কক্ষে নেমে আসে নীরবতা।

শেষ পর্যন্ত বিচারক কঠোর অবস্থান নেন। সন্তানের কল্যাণের কথা বিবেচনা করে শিশুটিকে মায়ের কাছেই রাখতে বাধ্য করা হয়। পাশাপাশি সন্তানের মাসিক ভরণপোষণ বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়, যা পিতা বিনা আপত্তিতে মেনে নেন।

এই ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। কেউ প্রশ্ন তুলছেন—মাতৃত্ব কি পরিস্থিতির উপর নির্ভরশীল? আবার কেউ বলছেন—সমাজ কি আদৌ মায়েদের পাশে দাঁড়াতে পারছে? যে শহরে হাজারো দম্পতি সন্তানের জন্য বছরের পর বছর অপেক্ষা করেন, সেখানে এক মা নিজের ৯০ দিনের শিশুকে রাখতে না চাওয়ার দৃশ্য অনেককেই নাড়া দিয়েছে।

তবে প্রশ্ন রয়ে যায়, ডিভোর্সের পর বাবা-মা নতুন করে জীবন শুরু করতে পারলেও মাঝখানে পড়ে যাওয়া এই শিশুগুলোর ভবিষ্যৎ কে নিশ্চিত করবে? এই ৯০ দিনের শিশুটির দোষটাই বা কী?

  • সর্বশেষ