শিরোনাম

প্রকাশিত : ৩০ আগস্ট, ২০২৫, ০৮:০৪ রাত
আপডেট : ৩১ আগস্ট, ২০২৫, ০৭:০০ সকাল

প্রতিবেদক : মনজুর এ আজিজ

নতুন আইন শ্রমিকের অধিকার রক্ষায় ব্যর্থ হতে পারে

নিজস্ব প্রতিবেদক : শিল্প খাতে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে চলার প্রয়োজনীয়তা আছে। কিন্তু দেশের বাস্তবতা ও সক্ষমতা উপেক্ষা করে নতুন আইন চাপিয়ে দেওয়া হলে শ্রমবাজার ও বিনিয়োগ উভয় ক্ষেত্রেই নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাছাড়া সামাজিক সংলাপ ছাড়া শ্রম আইন সংশোধন টেকসই হবে না; বরং নতুন আইন শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষায় ব্যর্থ হতে পারে বলে মনে করেন বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের নেতারা।

শনিবার দুপুরে রাজধানীর গুলশানের মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) কার্যালয়ে বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের (বিইএফ) এক সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা।

বিইএফের সভাপতি ফজলে শামীম এহসান বলেন, পাঁচ হাজার শ্রমিকের কারখানায় যদি মাত্র ২০ জন মিলে ট্রেড ইউনিয়ন গঠন করে, তবে তা পুরো শ্রমিকের প্রতিনিধিত্ব করবে না। আবার সর্বোচ্চ পাঁচটি ইউনিয়ন করার সুযোগ থাকলে পাঁচ হাজার শ্রমিকের বিপরীতে সর্বোচ্চ ১৫০ সদস্য মিলেও পাঁচটি ইউনিয়ন হয়ে যাবে।

তিনি বলেন, শ্রম আইন সংশোধনের কিছু প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে শিল্পে অস্থিতিশীলতা তৈরি হতে পারে। আইন সংশোধনের কারণে যদি অস্থিরতা তৈরি হয়, তাহলে সময়মতো ক্রয়াদেশ সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে। এতে বৈশ্বিক বাজারে দেশের প্রতিযোগিতার সক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। তাছাড়া নানা কারণে বারবার শ্রম বিরোধ দেখা দেবে, তবে বিনিয়োগকারীরা বিকল্প গন্তব্য বেছে নেবেন। অতীতে এমন অস্থিতিশীলতার কারণে কম্বোডিয়ায় বিনিয়োগ কমেছিল, ভিয়েতনাম সেই সুযোগ কাজে লাগিয়েছে।

বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, শ্রমিক ও মালিক উভয় পক্ষ যখন এ ধরনের প্রস্তাবের বিপক্ষে, তখন কার স্বার্থে এমন পরিবর্তন আনা হচ্ছে? তিনি আরও বলেন, প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ ভিয়েতনাম ও ভারতে এ ধরনের চাপ নেই। অথচ বাংলাদেশের ক্ষেত্রে বিষয়টি জোর করে চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। ভিয়েতনামে মাত্র একটি রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত ট্রেড ইউনিয়ন রয়েছে। এমনকি সেখানকার শিল্পকারখানার জিএম নিজেই ট্রেড ইউনিয়নের সভাপতি। তবুও শ্রমিকদের অধিকার অক্ষুন্ন আছে।

মোহাম্মদ হাতেম বলেন, প্রস্তাবিত আইনে বলা হচ্ছে, ১০০ শ্রমিক থাকলেই ভবিষ্য তহবিল চালু করতে হবে। এ ধরনের প্রস্তাবনা কতটা যৌক্তিক, তা আবার ভাবা উচিত।

এমসিসিআইয়ের সভাপতি কামরান টি রহমান বলেন, বর্তমানে দেশের শ্রমবাজারে প্রায় সাড়ে ছয় কোটি মানুষ রয়েছেন। এর মধ্যে মাত্র ১ কোটি থেকে ১ কোটি ২০ লাখ শ্রমিক আনুষ্ঠানিক খাতে কাজ করছেন। অন্যরা অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ করছেন। অথচ বিদ্যমান শ্রম আইন মূলত আনুষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় সীমাবদ্ধ।

বিইএফের সাধারণ সম্পাদক ফারুক আহমেদ বলেন, শ্রম আইন সংশোধন নিয়ে সামাজিক সংলাপের অভাব ছিল। শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়নের ক্ষেত্রে একাধিক দুর্বল সংগঠন তৈরি করার চেয়ে একটি বা দুটি কার্যকর শ্রমিক সংগঠন বাস্তবসম্মত।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিইএফের সাধারণ সম্পাদক ফারুক আহমেদ, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) ও বিজিএমইএর শ্রমবিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান এ এন এম সাইফুদ্দিন প্রমুখ।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়