শিরোনাম
◈ সাকিব আল হাসানকে দলে ফেরানোর উদ্যোগ নিয়েছে বিসিবি ◈ শান্তিপ্রিয় বাংলাদেশকে ভারত সবসময় সমর্থন করবে: প্রণয় ভার্মা ◈ পোস্টাল ব্যালট সংরক্ষণ-গণনা নিয়ে ইসির পরিপত্র জারি ◈ আইসিসি আমাদের অনুরোধে সাড়া দেয়নি, কিছু করার নেই: বিসিবি  ◈ আইসিসি প্রকাশ করল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের নতুন সূচি, বাংলাদেশকে নিয়ে দিলো বার্তা ◈ বাংলাদেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হলে জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় আসতে পারবে না : হর্ষবর্ধন শ্রিংলা (ভিডিও) ◈ নিরপেক্ষ থেকে নির্বাচনে দায়িত্ব পালনে আইজিপির নির্দেশ ◈ সাফ ফুটসালের শেষ ম্যাচে নেপালের কাছে পরা‌জিত বাংলা‌দেশ ◈ আচরণবিধি লঙ্ঘন, সারজিস আলম ও নওশাদকে শোকজ ◈ ‘বাংলাদেশের প্রতি অবিচার করেছে আইসিসি’

প্রকাশিত : ২৫ অক্টোবর, ২০২৫, ১০:০৫ রাত
আপডেট : ১৯ জানুয়ারী, ২০২৬, ১০:০০ রাত

প্রতিবেদক : মনিরুল ইসলাম

সাংবাদিকদের ন্যূনতম বেতন ৩৫ হাজার টাকাসহ ২১ দফা দাবি বিএফইউজের, ১ নভেম্বর দেশব্যাপী বিক্ষোভ ঘোষণা

মনিরুল ইসলাম: 'নো ওয়েজবোর্ড নো মিডিয়া’ নীতি কার্যকর, সাংবাদিকদের সর্বনিম্ন বেতন ৩৫ হাজার টাকা নির্ধারণ, সাংবাদিক সুরক্ষা নীতিমালা প্রণয়ন, সব ধরনের গণমাধ্যমের জন্য অভিন্ন ওয়েজবোর্ড গঠনসহ ২১ দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে)।

আজ শনিবার (২৫ অক্টোবর) সকালে কক্সবাজারে বিএফইউজে নির্বাহী পরিষদের সভায় এসব দাবি জানানো হয়। এসব দাবি সামনে রেখে আগামী ১ নভেম্বর সারাদেশে সাংবাদিকদের বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠানের ঘোষণা দেওয়া হয় সভায়।

বিএফইউজের সভায় ঘোষিত অন্যান্য দাবির মধ্যে রয়েছে প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ার জন্য নবম ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়ন ও দশম ওয়েজ বোর্ড গঠন, সাংবাদিকদের সাপ্তাহিক ছুটি দুই দিন নির্ধারণ, সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনিসহ সব সাংবাদিক হত্যার বিচার, গণমাধ্যমের স্বাধীনতাবিরোধী সব কালাকানুন বাতিল, আইন অনুযায়ী সাংবাদিকদের ন্যায্য পাওনা আদায়ের জন্য পৃথক শ্রম আদালত স্থাপন।

বিএফইউজের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীনের সভাপতিত্বে ও মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় আলোচনায় অংশ নেন বিএফইউজের কর্মকর্তারা এবং দেশের বিভিন্ন জেলা ও মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি/ সাধারণ সম্পাদক।

সভায় সংবাদপত্র, রেডিও, টেলিভিশন, অনলাইন এমনকি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোর জন্য একটি সমন্বিত জাতীয় গণমাধ্যম নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানানো হয়। এই সমন্বিত নীতিমালার আওতায় প্রতিটি ভিন্ন গণমাধ্যমের জন্য ভিন্ন নীতিমালা থাকবে। অনেকগুলো নীতিমালা প্রণয়ন না করে একটি পূর্ণাঙ্গ ও সমন্বিত নীতিমালা প্রণয়ন করা হলে সেটি প্রয়োগ করা ও মেনে চলা সহজ হবে বলে সভায় মত প্রকাশ করা হয়।

বাংলাদেশে এ পর্যন্ত গণমাধ্যমের জন্য ৫০টি আইন, নীতিমালা ও বিধিবিধান রয়েছে যা বিশ্বের কোথাও নেই। এই তথ্য উল্লেখ করে সভায় বলা হয়, অথচ এদেশে এখনো একটি পূর্ণাঙ্গ ও সমন্বিত গণমাধ্যম নীতিমালা করা যায়নি।

সভার এক প্রস্তাবে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিকদের জন্য নবম ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়নের কথা বলা হলেও কার্যত তা হচ্ছে না। অথচ দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েই চলেছে। তাই বর্তমান সরকারকে দ্রুত নবম ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়ন এবং দশম ওয়েজ বোর্ড গঠনের বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সংবাদপত্র, অনলাইন, টেলিভিশন, রেডিও ও মাল্টিমিডিয়ার জন্য অভিন্ন ওয়েজবোর্ড গঠনের দাবি জানানো হয়।

সভায় সাংবাদিকদের সপ্তাহিক ছুটি ২ দিন নির্ধারণ করার দাবি জানিয়ে সভায় বলা হয়, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো সপ্তাহে ২ দিন ছুটি ভোগ করে। অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানেও ২ দিন ছুটির ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সাংবাদিকদের কাজের কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিন সাপ্তাহিক ছুটিও পান না। এতে তাদের ওপর শারীরিক ও মানসিক চাপ বাড়ছে।

সংবাদপত্রের স্বাধীনতাকে যেকোনো মূল্যে সুরক্ষা দেওয়ার তাগিদ দিয়ে সভার এক প্রস্তাবে বলা হয়, আইনি কাঠামো দ্বারা সুরক্ষা না দিলে সাংবাদিক সমাজ প্রতিনিয়ত রাষ্ট্রযন্ত্র দ্বারা নিগৃহীত হতে থাকবে। বর্তমান সময়ে প্রতিনিয়ত এমনটাই হচ্ছে।

সভায় বলা হয়, রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের সব স্তরে এবং আইন প্রণয়ন ও নীতি নির্ধারণে সাংবাদিক সমাজের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। যত দিন না রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে সাংবাদিক সমাজের অংশগ্রহণ নিশ্চিত না হবে তত দিন স্বাধীন সাংবাদিকতাও সম্ভব হবে না। বর্তমানে ব্যাপক হারে সাংবাদিকরা পেশাগত দায়িত্ব সম্পাদনে রাষ্ট্রযন্ত্র দ্বারা নিগৃহীত হচ্ছে এবং মামলা-গ্রেপ্তারে পিষ্ট হচ্ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

বিএফইউজের সভায় বলা হয়, সংবাদপত্রের ওপর আরোপিত করপোরেট ট্যাক্সের উচ্চহার (২৭ দশমিক ৫ শতাংশ) এই শিল্পকে বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিচ্ছে বলে মনে করে এ-সংক্রান্ত কমিশন। তারা বলছে, তৈরি পোশাকশিল্পে এই হার ১৫ শতাংশ। করপোরেট ট্যাক্সের উচ্চহার ও অগ্রিম কর আদায়ের ধারা অব্যাহত থাকলে অনেক প্রতিষ্ঠিত সংবাদপত্র আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই বন্ধ হয়ে যাবে। এটি শক্তিশালী গণমাধ্যম গড়ে তোলার পথে বড় ধরনের প্রতিবন্ধক। এ জন্য তা অচিরেই অপসারণ করা উচিত।

সভায় বক্তব্য দেন বিএফইউজের সহ-সভাপতি এ কে এম মহসিন, সহকারী মহাসচিব বাছির জামাল, ড. সাদিকুল ইসলাম স্বপন ও এহতেশামুল হক শাওন; সাংগঠনিক সম্পাদক এরফানুল হক নাহিদ, কোষাধ্যক্ষ শহীদুল ইসলাম, দফতর সম্পাদক মো. আবু বকর, প্রচার সম্পাদক শাজাহান সাজু, নির্বাহী সদস্য শাহীন হাসনাত, অপর্ণা রায়, মো. আবু হানিফ।

আরও বক্তব্য দেন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম, সাংবাদিক ইউনিয়ন কক্সবাজারের সভাপতি নুরুল ইসলাম হেলালী ও সাধারণ সম্পাদক এস এম জাফর, সাংবাদিক ইউনিয়ন ময়মনসিংহের সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল ইসলাম, খুলনা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. আনিসুজ্জামান, সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোরের সভাপতি মো. আকরামুজ্জামান ও সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ, বগুড়া সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক এস এম আবু সাঈদ, রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুল আউয়াল, দিনাজপুর সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মাহফিজুল ইসলাম রিপন, সিলেট সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মোহাম্মদ বদরুদ্দোজা বদর।

এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জ সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক এ কে এম মাহফুজুর রহমান, রংপুর সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি সালেকুজ্জামান সালেক গাজীপুর সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি এইচ এম দেলোয়ার, সাংবাদিক ইউনিয়ন মুন্সিগঞ্জের সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন মানিক, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন সাধারণ সম্পাদক সালেহ নোমান, কুমিল্লা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আবদুল জলিল ভূঁইয়া, ফেনি সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি সিদ্দিক আল মামুন প্রমুখ বক্তব্য দেন।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়