শিরোনাম
◈ জামিনে মুক্তি পেয়ে পুরোনো অপরাধে ফিরছেন দাগি আসামিরা ◈ অনলাইনে ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি ঠেকানো কঠিন: রেলমন্ত্রী ◈ বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগের সম্ভাবনা কতটা, কী কী শর্ত পূরণ জরুরি ◈ ৬৪৬ কোটি টাকার প্রকল্পে অগ্রগতি মাত্র ১৬ শতাংশ, দুই বছরেও শুরু হয়নি সিলেটের দুই গ্যাসকূপ খনন ◈ বাংলাদেশে ভ্যাকসিন উৎপাদন কারখানা স্থাপনে জাপানের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ◈ টঙ্গীতে শিশু নির্যাতন: দেশ ছাড়ার কথা জানালেন শিশুটির বাবা রুমি ◈ স্পেনের বাজারে রপ্তানি বাড়াতে বাংলাদেশি পণ্যের বহুমুখীকরণে জোর ◈ ট্রাম্পের অভিবাসন নীতিতে ৫ বড় পরিবর্তন, সীমান্ত বন্ধ ও গণবহিষ্কারে জোর ◈ মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নাম পরিবর্তন করে গেজেট প্রকাশ ◈ বাংলাদেশে হামের পর ডিফথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিওর ঝুঁকি, টিকাদান ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে সতর্কতা

প্রকাশিত : ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ০৮:২৯ সকাল
আপডেট : ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ০৮:৩০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

শরৎকালে বাড়ে রাসেলস ভাইপার ও কালাচের উপদ্রব, ঘর সুরক্ষিত রাখতে যা করবেন

এখন শরৎ কাল। এইসময়ে দুটো সাপের উপদ্রব বাড়ে। এরা হল চন্দ্রবোড়া বা রাসেল ভাইপার ও কালাচ বা কমন ক্রেইট। চন্দ্রবোড়া গরমের দিনে নিশাচর হলেও, শরৎকালের হালকা ঠান্ডা আবহাওয়ায় এরা দিনের বেলাতেও শিকারের খোঁজে বেরিয়ে পড়ে। সুযোগ পেয়ে ঢুকে পড়ে বাড়িতেও। বিশেষ করে আমন ধান কাটার মরশুমে ক্ষেতের ইঁদুর শিকার করতে এরা লোকালয় এবং ফসলি জমিতে চলে আসে।

বর্ষার ঠিক পরপরই অর্থাৎ শরতের শুরুতে সাপের ডিম ফুটে নতুন বাচ্চা বার হয়। এই বাচ্চা সাপগুলো খাবারের খোঁজে এবং নতুন আশ্রয়ের জন্য এদিক-ওদিক ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে কালাচ সাপ শিকার ধরতে ও উষ্ণতার খোঁজে মানুষের ঘরে ঢুকে পড়ে। বর্ষার জল নেমে যাওয়ার পর চারপাশের জঙ্গল ও ঝোপঝাড় শুকিয়ে আসে। বৃষ্টির কারণে গর্ত থেকে বেরিয়ে আসা সাপ তখন নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে লোকালয়ে বা বাড়িতে আশ্রয় নেয়।

শরৎকালে সক্রিয় হয়ে ওঠে সাপ। কারণ এরপরই তারা দীর্ঘ শীতঘুমে চলে যায়। শরৎকালে আবহাওয়া আস্তে আস্তে ঠান্ডা হতে শুরু করলে সাপেরা শীতের আশ্রয় খুঁজতে শুরু করে। শীতঘুমের জন্য শরীরে পর্যাপ্ত চর্বি জমাতে হবে। সেই কারণেই শরৎকালে বেশি করে খাবারের খোঁজে বার হয় সাপেরা। সাপের মূল খাবার হল ব্যাং, পোকামাকড়, ইঁদুর। খাবারের খোঁজে লোকালয় এবং বাড়িতেও ঢুকে পড়ে সাপেরা। এমনকি সাপ কিন্তু বেয়ে বেয়ে বাড়ির ছাদ, বারান্দাতেও উঠে আসে। জেনে নিন বাড়িতে সাপের ছোবল থেকে বাঁচতে কোন কাজ করতেই হবে--

বাগান, ঝোপঝাড় পরিষ্কার রাখুন-- বাগান পরিষ্কার রাখুন। ফাকা টব, জমিয়ে রাখা পুরনো বাক্স, ইঁটের পাঁজা, ডালপালা, শুকনো পাতা জমতে দেবেন না। বাড়িতে ইঁদুর থাকলে সাপ ঢুকে পড়ে কারণ ইঁদুরই হল সাপের মূল খাবার। ইঁদুরের মল ও মূত্রের গন্ধ সাপ বহুদূর থেকে পায়, সেই গন্ধের টানেই সাপ বাড়িতে ঢুকে পড়ে। বাড়ির যে-সমস্ত জায়গায় ইঁদুর লুকিয়ে থাকতে পারে যেমন বাগান, রান্নাঘর, আলমারির খাঁজ, গ্যারেজ, স্টোর রুম নিয়মিত পরিষ্কার করুন।

Advertisement

জমা জল-- খেয়াল রাখবেন, বাড়ির বাইরে, ভিতরে, ছাদে, বারান্দায় বা বাড়ির অন্য কোনও অংশেই যেন বৃষ্টির জল না জমে। কারণ জল জমলেই মশা, পোকামাকড় এবং ব্যাঙ আসবে। আর তাদের খেতে হানা দেবে সাপ।

সারা রাত আলো জ্বেলে রাখবেন না-- সারা রাত ছাদ বা বারান্দার আলো জ্বেলে রাখবেন না। কারণ আলোয় আকৃষ্ট হয়ে মশা, মাছি, পোকা মাকড় ধেয়ে-ধেয়ে আসেবে, আর তাদের খেতে আসবে সাপেরা।

বাগানের গাছের ডালপালা ছেঁটে ফেলুন-- যদি দেখেন কোনও গাছের ডাল আপনার বাড়ির বারান্দা বা ছাদ পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছে, তাহলে সেটি ছেঁটে ফেলুন। কারণ এই ডাল বেয়েই ছাদ, বারান্দায় পৌঁছে যাবে সাপ, সেখান থেকে সুরুৎ করে ঢুকে পড়বে বাড়ির অন্দরে।

ঘরোয়া টোটকায় অন্ধ-বিশ্বাস নয়-- রসুন, পেঁয়াজের রস, লবঙ্গর তেল, নিম তেল, ন্যাপথেলিন সাপ তাড়ানোর ঘরোয়া উপায়। বহু যুগ ধরে এই ঘরোয়া প্রতিকারের উপর মানুষ ভরসা করছেন। কিন্তু মাথায় রাখতে হবে, এগুলো কোনওটাই সাপ তাড়ানোর বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত উপায় নয়। কাজেই এগুলোর উপর অন্ধের মতো বিশ্বাস করবেন না।

দেওয়ালের ফাটল--বাড়ির মেঝে, দেওয়াল বা দরজার নীচে কোনও ফাঁকফোকর বা ফাটল থাকলে তা দ্রুত সিমেন্ট বা উপযুক্ত সিল্যান্ট দিয়ে বন্ধ করে দিন। এই ফাটল দিয়েই সাপ বা অন্য কোনও বিষাক্ত পোকা-মাকড় সহজেই ঘরের ভিতরে প্রবেশ করতে পারে। অনেক সময় দেখা যায়, দেওয়ালের গর্তের মধ্যে দিনের বেলায় সাপ লুকিয়ে থাকে, রাতের অন্ধকারে শিকারের খোঁজে বেরিয়ে আসে।

  • সর্বশেষ