ডিজিটাল জগৎ বর্তমান সময়ের শিশু-কিশোরদের জ্ঞানার্জন ও যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম হলেও, এতে লুকিয়ে আছে নানান ঝুঁকি।
অপমানজনক মন্তব্য, ‘সাইবার বুলিং’, ভয় দেখানো বা অস্বস্তিকর কনটেন্ট— এসবের যে কোনোটি সন্তানের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।
এমন পরিস্থিতিতে অভিভাবকের সঠিক ভূমিকাই সন্তানের আত্মবিশ্বাস ও মানসিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সবচেয়ে বেশি কার্যকর।
জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউট’য়ের অধ্যাপক ডা. ফারজানা রহমান দিনা এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন।
তিনি বলেন, “সন্তান যখন অনলাইনে কোনো খারাপ অভিজ্ঞতার কথা জানায়, তখন প্রথম কাজ হল- মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং তাকে পুরোপুরি বিশ্বাস করা। দোষারোপ বা ভয় দেখানোর পরিবর্তে বলা উচিত, ‘তুমি আমাকে এটা জানিয়ে খুব ভালো করেছ।’ এতে সন্তান বুঝতে পারে যে, সে একা নয় এবং তার কথা গুরুত্ব পাচ্ছে।”
সন্তানের অনুভূতিকে কখনই হালকাভাবে নেওয়া যাবে না। অনলাইনের কোনো ঘটনা অভিভাবকের কাছে ছোট মনে হলেও, শিশুর কাছে তা বড় আঘাত হতে পারে।
তার ভয়, লজ্জা বা দুঃখকে স্বীকার করে বলতে হবে যে- এসব অনুভূতি স্বাভাবিক এবং সে যখনই চাইবে তখনই খোলাখুলি কথা বলতে পারে।
একই সঙ্গে সন্তানকে আশ্বস্ত করা জরুরি যে, অভিভাবক হিসেবে আপনি তার পাশে আছেন এবং তাকে নিরাপদ রাখাই আপনার প্রধান দায়িত্ব।
অনলাইনে যা ঘটেছে, তা তার দোষ নয়— এই বার্তা স্পষ্টভাবে পৌঁছে দিতে হবে।
পরের ধাপ হল প্রমাণ সংরক্ষণ। অপমান, হুমকি বা বুলিংয়ের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মেসেজ, ছবি বা মন্তব্যের স্ক্রিনশট রেখে দিন। এগুলো পরে প্ল্যাটফর্মে রিপোর্ট করা বা প্রয়োজনে আইনি পদক্ষেপের কাজে লাগবে।
সন্তানকে নিজে নিজে বিরক্তিকর অ্যাকাউন্ট ব্লক করা বা কনটেন্ট রিপোর্ট করার পদ্ধতি শিখিয়ে দিন। প্রয়োজনে স্কুল কর্তৃপক্ষ বা সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মের সহায়তা নেওয়া যেতে পারে।
অভিভাবকদের আরও সতর্ক থাকতে হবে, বিশেষ করে সন্তানের আচরণ পরিবর্তন হচ্ছে কিনা সেদিকে নজর দিতে হবে। হঠাৎ চুপচাপ হয়ে যাওয়া, ঘুমের সমস্যা, পড়াশোনায় মনোযোগহীনতা বা অনলাইন এড়িয়ে চলা— এসব লক্ষণ মানসিক চাপের ইঙ্গিত দিতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত।
যদি খারাপ অভিজ্ঞতার প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হয় বা সন্তানের দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত হয়, তাহলে দেরি না করে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
ডা. দিনা বলেন, “অনলাইনের নেতিবাচক অভিজ্ঞতা শিশুর জন্য খুবই বাস্তব ও কষ্টদায়ক হতে পারে। অভিভাবকের দায়িত্ব দোষারোপ করা নয়- বরং শোনা, বোঝা এবং নিরাপত্তার আশ্বাস দেওয়া।”
এই সহানুভূতিশীল সমর্থনই সন্তানকে মানসিকভাবে শক্তিশালী করে তুলতে পারে।
সূত্র: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম