শিরোনাম

প্রকাশিত : ০৬ অক্টোবর, ২০২২, ০৮:২০ সকাল
আপডেট : ০৬ অক্টোবর, ২০২২, ০৮:২০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

রাসুলুল্লাহ সা. এর আগমন

রাসুলুল্লাহ সা.

মুফতি খাঁন মোহাম্মদ মুহাইমিনুল তারিক : নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দুনিয়ায় পাঠানোর উদ্দেশ্য সম্পর্কে মহাগ্রন্থ কোরআনে কারিমে বলা হয়েছে, ‘তিনি মহান আল্লাহ, যিনি পাঠিয়েছেন তার প্রেরিত রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে হেদায়েত (পথনির্দেশ) ও সত্য দ্বীন (জীবনবিধান) সহকারে; যাতে প্রকাশ্য বিজয়ীরূপে স্থাপন করতে পারেন দ্বীন ইসলামকে সব দ্বীনের (বিধান ও মতবাদ) ওপর; আর সাক্ষী ও সাহায্যকারী হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট।’ -সুরা আল ফাতাহ: ২৮

মহানবী হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দুনিয়ায় পাঠানোর উদ্দেশ্য ব্যক্ত করে মহাগ্রন্থ কোরআন মাজিদে বিভিন্ন সুরা ও আয়াত নাজিল করা হয়েছে। আল্লাহতায়ালা আরও বলেন, ‘নিশ্চয়ই আমি আপনাকে পাঠিয়েছি সত্যসহ, সুসংবাদদাতা ও সাবধানকারী হিসেবে।’ -সুরা আল বাকারা : ১২৯

‘আমি আপনাকে সুসংবাদ প্রদানকারী ও সতর্ককারীরূপে পাঠিয়েছি।’ -সুরা বনি ইসরাঈল : ১০৫ ও সুরা আল ফুরকান : ৫৬

‘হে নবী (সা.)! নিশ্চয় আমি আপনাকে সাক্ষী, শুভ সংবাদ প্রদানকারী ও সতর্ককারী হিসেবে প্রেরণ করেছি।’ -সুরা আল আহজাব : ৪৫

‘অবশ্যই আপনাকে আমি সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে প্রেরণ করেছি।’ -সুরা আল ফাতির : ২৪

‘নিশ্চিতরূপেই আপনাকে আমি সাক্ষী, শুভ বার্তাবাহক ও সাবধানকারী হিসেবে পাঠিয়েছি।’ -সুরা আল ফাতহ : ৮

এসব আয়াতে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আগমনের উদ্দেশ্যের সঙ্গে সঙ্গে তার দাওয়াতি কর্মপদ্ধতি সম্পর্কে নির্দেশনা রয়েছে। তা হলোÑ অসুন্দর, অন্যায়, অপরাধ ও মন্দকাজের অশুভ পরিণতি সম্পর্কে মানুষকে সতর্ক করা এবং সুন্দর, ন্যায়, পরোপকার, কল্যাণকামিতা ও সত্য কাজের শুভ পরিণতি সম্পর্কে মানুষকে অবহিত করে মঙ্গল ও কল্যাণের প্রতি উদ্বুদ্ধ করা। যাতে মানুষ ইহজগতে চিরশান্তি, পরজগতে চিরমুক্তি, চিরকল্যাণ ও চিরমঙ্গল লাভ করতে পারে। এ প্রসঙ্গে স্বয়ং নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘আমি প্রেরিত হয়েছি মানবজাতির চারিত্রিক উৎকর্ষ সাধনের নিমিত্তে।’ -সুনানে তিরমিজি

এ জন্য প্রয়োজন ষড়রিপু কাম, ক্রোধ, লোভ, মদ, মোহ, মাৎসর্য নিয়ন্ত্রণ করা। নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন, ‘আমি আসলে শিক্ষকরূপেই প্রেরিত হয়েছি।’ -সহিহ মুসলিম

তাই তিনি হলেন বিশ্বশিক্ষক। নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আল্লাহতায়ালা শুধু দু-একটি ছোটখাটো সাধারণ উদ্দেশ্য নিয়ে দুনিয়ায় পাঠাননি; বরং বিশ্বমানবতার পরিপূর্ণ কল্যাণের মহতী উদ্দেশ্যে নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দুনিয়ায় পাঠানো হয়েছে। কোরআন মাজিদে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ঘোষণা দিয়েছেন, ‘হে নবী (সা.)! আমি আপনাকে বিশ্বজগতের জন্য রহমতস্বরূপ প্রেরণ করেছি।’ -সুরা আল আম্বিয়া : ১০৭

নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিশেষ কোনো জাতি কিংবা গোষ্ঠীর জন্য প্রেরিত হননি। তিনি কোনো বিশেষ দেশ বা অঞ্চলের জন্যও প্রেরিত হননি, তিনি প্রেরিত হয়েছেন সমগ্র বিশ্বজগতের জন্য। রাব্বুল আলামিন বলেন, ‘আর আমি আপনাকে পাঠিয়েছি সমগ্র মানবতার জন্য সুসংবাদদাতা ও সাবধানকারী হিসেবে; কিন্তু অধিকাংশ মানুষ জানে না।’ -সুরা আস সাবা : ২৮

কোরআন ও হাদিসের আলোকে আমরা জানতে ও বুঝতে পারি ইমামুল আম্বিয়া, সাইয়িদুল মুরসালিন, খাতামুন নাবিয়্যিন মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হলেন আল্লাহর প্রিয় হাবিব, প্রিয় বন্ধু। আল্লাহর ভালোবাসা ও সন্তুষ্টি পেতে হলে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনুগত্য স্বীকার করতে হবে। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘হে নবী (সা.)! আপনি বলুন, তোমরা যদি আল্লাহর ভালোবাসা পেতে চাও, তবে তোমরা আমার নবী (সা.)-এর অনুসরণ করো; তাহলেই আল্লাহতায়ালা তোমাদের ভালোবাসবেন।’ -সুরা আলে ইমরান : ৩১

সহজে বলা যায়, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসেছিলেন আল্লাহ ও বান্দার মধ্যে সেতুবন্ধ তৈরি করতে। এ বিষয়ে নবী কারিম (সা.) বলেন, ‘আমি আল্লাহর অতিপ্রিয় বন্ধু; গৌরব করি না।’ -সহিহ বোখারি

হজরত রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রহমত ও দয়া-করুণার আধার ও মাধ্যম। তিনিই আল্লাহর রহমত বণ্টনকারী। এই মর্মে তিনি বলেন, ‘আমি বণ্টনকারী, আল্লাহ দাতা।’ -তিরমিজি

তিনি শাফায়াতে কুবরার অধিকারী। সেই মর্মে তিনি ঘোষণা করেন, ‘আমার উম্মতের বড় বড় গোনাহগার অপরাধীদের জন্যই আমি সুপারিশ করব।’ -সহিহ্ বোখারি

সুপারিশ লাভের উপায় সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘যে আমার রওজা শরিফ জিয়ারত করল তার জন্য সুপারিশ করা আমার ওপর ওয়াজিব হয়ে গেল।’ -সহিহ বোখারি

আল্লাহর প্রিয় হাবিব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুনিয়ায় এসেছিলেন মানবতার মুক্তির জন্য। তিনি মানবতার মহান বন্ধু, সুহৃদ, সংস্কারক, কৌশলী সমাজবিজ্ঞানী ও দক্ষ রাষ্ট্রনায়ক। কিয়ামত পর্যন্ত আগত সমগ্র মানবজাতির দুনিয়ার শান্তি ও পরকালীন মুক্তি নিশ্চিত করতেই আল্লাহতায়ালা তার প্রিয় বন্ধুকে এই ধরায় প্রেরণ করেছিলেন। তাই এই অশান্ত পৃথিবীতে স্বর্গীয় শান্তির সুবাতাস আনয়নের স্বার্থে নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনদর্শন অনুশীলন এবং তার আচার-আচরণ অনুসরণ করা একান্ত অপরিহার্য। এ জন্য প্রয়োজন তার জীবনচরিত তথা কর্মময় জীবনের ব্যাপক অধ্যয়ন ও বিপুলভাবে চর্চা। রবিউল আউয়াল মাস হলো এর উপযুক্ত ও শ্রেষ্ঠ সময়।

আমরা জানি, নবী-রাসুলরা তিনটি মহান গুণের অধিকারী ছিলেন। ১. মুন্তাখাব মিনাল্লাহ তথা আল্লাহ কর্র্তৃক নির্বাচিত। তারা কোনো মানুষ দ্বারা মনোনীত নন। ২. মাসুম তথা নিষ্পাপ। সব নবী-রাসুলরা নবুওয়াত ও রিসালাত প্রকাশের আগে কিংবা পরে, ইচ্ছায়-অনিচ্ছায়, ছোট-বড় কোনো প্রকার কোনো গোনাহ করেননি। কারণ তারা আল্লাহ কর্র্তৃক নির্বাচিত। ৩. সাহিবুশ শারিয়া তথা বিধানপ্রণেতা। নবী-রাসুলরা যা চাইবেন আল্লাহতায়ালা তা মঞ্জুর করবেন। যেমন কিবলা পরিবর্তন (সুরা আল বাকারা : ১৪৪) ও হাশরে শাফায়াতে কুবরা বা মহা-সুপারিশের অধিকার। -সুরা লাইল : ৫ রিপোর্ট: দেশ রূপান্তর

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়