শিরোনাম
◈ ঢালাও ভিসা-মুক্ত প্রবেশ মেয়াদ কমাচ্ছে থাইল্যান্ড, ফিরছে কঠোর নিয়ম ◈ মোদিকে প্রশ্ন করে ভাইরাল হওয়া সেই সাংবাদিক সম্পর্কে যা জানা গেল (ভিডিও) ◈ রংপুরে গরুর থাকছে আবাসিক হোটেলে, মিলছে নিরাপদ আশ্রয়, গরুপ্রতি ৫০ টাকা নেওয়া হয় ◈ গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে কাজ করছে সরকার: আনসার-ভিডিপি সমাবেশে তারেক রহমান ◈ ভারতে যেভাবে কামাল মাওলা মসজিদ হয়ে গেল মন্দির: আল জাজিরা অনুসন্ধান ◈ ইরান কি বিশ্বকাপে খেলবে, কী করতে চাইছে ফিফা ও যুক্তরাষ্ট্র? ◈ চট্টগ্রাম-ঢাকা তেল পাইপলাইনের কাজ শেষ, জুনের শেষে পুরোদমে জ্বালানি সরবরাহ ◈ হাম ও হামের উপসর্গে আরও ১১ শিশুর মৃত্যু ◈ সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন কত, কোন গ্রেডে কী কী ভাতা ও সুবিধা ◈ প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় তিস্তা প্রকল্পে আসছে বড় সংশোধন

প্রকাশিত : ১৯ মে, ২০২৬, ০৬:১৪ বিকাল
আপডেট : ২০ মে, ২০২৬, ১২:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

রাগ হলে মহানবী (সা.) যেসব আমল করতে বলেছেন

রাগ বা ক্রোধ যদিও মহান আল্লাহ প্রদত্ত স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য, তবু এটা নিয়ন্ত্রণ করা ও নিজেকে সংবরণ করার মধ্যে আল্লাহ তাআলা প্রচুর কল্যাণ রেখেছেন। রাগ নিয়ন্ত্রণকারীকে আল্লাহর রাসুল (সা.) সফল ও শক্তিশালী বলেছেন।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা রাগ নিয়ন্ত্রণকারীকে ‘মুহসিন’ বান্দাদের মধ্যে গণ্য করেছেন। ইরশাদ করেন, ‘রাগ সংবরণকারী ও মানুষকে ক্ষমাকারী আর মহান আল্লাহ মুহসিন বান্দাদের ভালোবাসেন।’ (সুরা : আলে-ইমরান, আয়াত : ১৩৪)
রাগ না করার উপদেশ

হুমাইদ ইবনু আবদুর রহমান (রহ.) বলেছেন, একজন সাহাবি নবী করিম (সা.)-এর কাছে বলেন, হে আল্লাহর রাসুল, আমাকে উপদেশ দিন। নবীজি জবাবে বলেন, ‘রাগ কোরো না।

’ (অর্থাৎ রাগ করার স্বভাব বর্জন করো) সাহাবি বলেন, অতঃপর চিন্তা করতে লাগলাম, এমন উপদেশ আমাকে কেন দিলেন, পরে বুঝতে পারলাম বহু মন্দ কাজ রাগের মধ্যে আছে।’ (মুসনাদে আহমদ, হাদিস ৫/৩৭৩)  
রাগ আসে শয়তানের প্ররোচনায়

নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই রাগ শয়তানের প্ররোচনায় আসে, শয়তান হচ্ছে আগুনের তৈরি আর আগুন পানি দিয়ে নির্বাপিত হয়। তাই যখন তোমাদের কাউকে রাগান্বিত করা হয় তখন সে যেন অজু করে নেয়।’ (আবু দাউদ, হাদিস ৪৭৮৪ ও আল মুসনাদ, ৪/২২৬)  

দ্রুত প্রতিশোধ নয়

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘দ্রুত প্রতিশোধ নেওয়ার মধ্যে প্রাবল্য নেই, বরং শক্তিশালী সেই ব্যক্তি, যে রাগের সময় নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারে।

’ (সহিহ বুখারি, হাদিস ৬১১৪; সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২৬০৯) 
রাগ নিয়ন্ত্রণের বিনিময় জান্নাত

বিশ্বনবী মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, ‘যে রাগ প্রতিফলনে সক্ষম হওয়া সত্ত্বেও নিজের রাগ সংবরণ করে, আল্লাহ‌ তাআলা তার অন্তর ঈমান নিরাপত্তা দিয়ে পূর্ণ করে দেন।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৪৭৭৮) 

অন্যত্র ভিন্ন বর্ণনায় নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘যে সক্ষম হওয়া সত্ত্বেও নিজের রাগ নিয়ন্ত্রণ করবে, মহান আল্লাহ তাকে সব সৃষ্টির সম্মুখে আহ্বান করে তাকে জান্নাতের যেকোনো হুর ইচ্ছা গ্রহণ করার অনুমতি দেবেন।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৪৭৭৭; তিরমিজি, হাদিস : ২০২১ ও ২৪৯৩; ইবনু মাজাহ, হাদিস : ৪১৮৬) 

রাগান্বিত হয়ে বিচারকার্য না করা

রাগান্বিত অবস্থায় বিচারকাজ করা উচিত নয়, কেননা এতে ফায়সালার ক্ষেত্রে ইনসাফ করা কঠিন হবে। ফলত বিচার ত্রুটিপূর্ণ হওয়ার প্রবল আশঙ্কা আছে। এ ক্ষেত্রে আবু বাকরাহ নাফে ইবনু হারেস (রা.) বলেছেন, কখনো রাগান্বিত হয়ে দুজনের মধ্যে বিচার করবে না।

কেননা আমি আল্লাহর নবী মুহাম্মদ (সা.)-কে বলতে শুনেছি, ‘কোনো বিচারক যেন দুজন ব্যক্তির মধ্যে ক্রোধান্বিত অবস্থায় ফায়সালা না করে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৭১৫৮)
রাগ নিয়ন্ত্রণে রাসুল (সা.)-এর পরামর্শ

রাগ হওয়ার পর দ্রুত সেটা কমিয়ে ফেলা কিংবা নিয়ন্ত্রণ করা উত্তম। হাদিস শরিফে সে সম্পর্কে সুন্দর পদ্ধতি বলে দেওয়া হয়েছে। আবু জর গিফারি (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে কেউ যদি দণ্ডায়মান অবস্থায় রাগান্বিত হয় তাহলে সে যেন বসে যায়, অতঃপর যদি তার রাগ দূরীভূত না হয় তাহলে সে যেন শুয়ে পড়ে।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৪৭৮২)

রাগ সংবরণ শক্তিমত্তার পরিচয়

রাগের বশবর্তী হয়ে কারো ক্ষতি করে ফেলা বিরত্ব নয়; বরং বিরত্ব হলো, কঠিন রাগের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারা। রাসুল (সা.) বলেন, ‘সে ব্যক্তি শক্তিশালী নয়, যে ব্যক্তি কুস্তি লড়ে অন্যকে ধরাশায়ী করে, বরং প্রকৃতপক্ষে সে ব্যক্তিই শক্তিশালী, যে রাগের সময় নিজেকে সংবরণ করতে পারে।’ (বুখারি, হাদিস : ৬৮০৯)

কখনো কখনো মানসিক কারণেও মানুষের মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়। এ পরিস্থিতি থেকে বাঁচার জন্য নিম্নের আমলগুলো করা যেতে পারে।

আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা : দুই ব্যক্তি রাসুল (সা.)-এর কাছে বসে পরস্পর গালাগাল করছিল। তাদের একজনের চোখ লাল হয়ে উঠল ও গলার শিরা ফুলে গেল। তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আমি একটি বাক্য জানি, যদি সে তা পড়ে তবে তার এ অবস্থা কেটে যাবে। সে বাক্যটি হলো, আমি আল্লাহর কাছে অভিশপ্ত শয়তান থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।’ (মুসলিম, হাদিস : ৬৮১২)

চুপ থাকা : অর্থাৎ প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার চেষ্টা না করে চুপ হয়ে যাওয়া। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তোমরা শিক্ষা দাও এবং সহজ করো। কঠিন কোরো না। যখন তুমি রাগান্বিত হও তখন চুপ থাকো; যখন তুমি রাগান্বিত হও তখন চুপ থাকো; যখন তুমি রাগান্বিত হও তখন চুপ থাকো।’ (মুসনাদে আহমদ, হাদিস : ৪৭৮৬)

শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন : রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যখন তোমাদের কারো রাগ হয় তখন সে যদি দাঁড়ানো থাকে, তবে যেন বসে পড়ে। যদি তাতে রাগ চলে যায় ভালো। আর যদি না যায়, তবে শুয়ে পড়বে।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৪৭৮৪)

অজু করা : রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘নিশ্চয়ই রাগ শয়তানের পক্ষ থেকে। আর শয়তান আগুনের তৈরি। নিশ্চয়ই পানির দ্বারা আগুন নির্বাপিত হয়। সুতরাং তোমাদের কেউ যখন রাগান্বিত হয় সে যেন অজু করে।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৪৭৮৬)

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়