শিরোনাম
◈ এক বছরে নতুন করে দরিদ্র বেড়েছে প্রায় ২১ লাখ বাংলাদেশি, চাকরি হারাচ্ছেন নারীরা ◈ সরকারি কলেজের বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের বদলি-পদায়ন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত, জারি নতুন নির্দেশনা ◈ প্রতিটি শিশুর প্রতিভা বিকাশে খেলাধুলা ও সৃজনশীলতার সুযোগ দিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী ◈ রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিকে জোর করে পদত্যাগে স্বাক্ষরের অভিযোগ ◈ ভিসা আবেদনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য না দিলে অযোগ্য হতে পারেন: মার্কিন দূতাবাস ◈ ভারতীয় ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্টে নতুন নির্দেশনা, জেনে নিন বুকিংয়ের নিয়ম ◈ খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে চান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ◈ মেট্রোরেল লাইনে কুকুর ঢুকে বন্ধ ট্রেন চলাচল, পরে স্বাভাবিক ◈ ২০২৭ সাল থেকে চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে যুক্ত হচ্ছে ৪ নতুন বিষয়: শিক্ষামন্ত্রী ◈ হঠাৎ দিল্লি গেছেন দীনেশ ত্রিবেদী

প্রকাশিত : ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১০:৩৪ দুপুর
আপডেট : ১৮ জুলাই, ২০২৬, ০৭:০০ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

পৃথিবীতে প্রথম রোজা পালনকারী কে ছিলেন?

ইসলামের পাঁচটি মৌলিক স্তম্ভের একটি হলো রোজা। ইমান, নামাজ, জাকাত ও হজের পাশাপাশি মুসলিম জীবনে আত্মসংযম ও তাকওয়ার অনুশীলন হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত রোজা। তবে রোজা কেবল উম্মতে মুহাম্মাদির জন্যই নির্ধারিত— এমনটি নয়; বরং আগের নবি-রাসুল ও তাদের উম্মতের ওপরও রোজা ফরজ ছিল। তাহলে প্রশ্ন ওঠে— পৃথিবীতে প্রথম রোজা কে রেখেছিলেন? এ বিষয়ে কুরআন ইঙ্গিত দিলেও নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা সংখ্যার ব্যাপারে সুস্পষ্ট সহিহ দলিল পাওয়া যায় না।

কুরআনের নির্দেশনা

আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন—

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ

Advertisement

‘হে ইমানদারগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের আগের লোকদের ওপর—যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পার।’ (সুরা আল-বাকারা: আয়াত ১৮৩)

এ আয়াত স্পষ্ট করে যে, রোজা শুধু রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর উম্মতের জন্য নয়; বরং পূর্ববর্তী নবি-রাসুল ও তাদের অনুসারীদের জন্যও ফরজ ছিল।

প্রথম রোজাদার কে?

যেহেতু হজরত আদম (আ.) ছিলেন প্রথম মানুষ ও প্রথম নবি, তাই অনেক আলেমের ধারণা— তিনিই সম্ভবত পৃথিবীতে প্রথম রোজা পালনকারী। তবে এ বিষয়ে কুরআন বা সহিহ হাদিসে নির্দিষ্টভাবে তার নাম উল্লেখ নেই।

সুফি বর্ণনায় আদম (আ.) ও রোজা

কিছু সুফি-সাধক, বিশেষ করে আব্দুল কাদের জিলানি (রহ.)-এর বর্ণনায় উল্লেখ রয়েছে—

হজরত আদম (আ.) নিষিদ্ধ ফল খাওয়ার পর তাওবা করতে থাকেন। ৩০ দিন পর্যন্ত তার তাওবা কবুল হয়নি, কারণ তার দেহে ওই ফলের প্রভাব রয়ে গিয়েছিল। পরে যখন তিনি পবিত্র হন, তখন তার তাওবা কবুল হয়। এরপর তার সন্তানদের ওপর ৩০টি রোজা ফরজ করা হয়।

তবে প্রখ্যাত মুহাদ্দিস ইবনে হাজার আসকালানি (রহ.) তার গ্রন্থ ফতহুল বারি-তে উল্লেখ করেন—এ বর্ণনার কোনো সহিহ সনদ নেই এবং এর প্রমাণ পাওয়া কঠিন।

আইয়্যামে বিজ ও আরেক বর্ণনা

আব্দুল কাদের জিলানি (রহ.) তার গ্রন্থ গুনইয়াতুত ত্বলিবিন-এ আরেকটি বর্ণনা তুলে ধরেন। সেখানে বলা হয়—

হজরত যির ইবনে হুবাইশ (রা.) বলেন, তিনি সাহাবি আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.)-কে আইয়্যামে বিজ (চন্দ্রমাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন—

আদম (আ.) নিষিদ্ধ ফল খাওয়ার পর তার দেহের রং পরিবর্তিত হয়ে যায়। ফেরেশতারা তার জন্য দোয়া করলে আল্লাহ তাআলা তাকে নির্দেশ দেন— চন্দ্রমাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ রোজা রাখতে। তিনি তা পালন করলে তার দেহের রং উজ্জ্বল হয়ে যায়। এজন্য এ দিনগুলোকে ‘আইয়্যামে বিজ’ (উজ্জ্বল দিন) বলা হয়।

তবে এ ঘটনাতেও কুরআন-সুন্নাহর নির্ভরযোগ্য ব্যাখ্যা সুস্পষ্টভাবে পাওয়া যায় না।

সহিহ হাদিসে আইয়্যামে বিজ

হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত— ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) সফর বা অবস্থান— কোনো অবস্থাতেই আইয়্যামে বিজের রোজা পরিত্যাগ করতেন না।’ (নাসাঈ ২৪২০, মিশকাতুল মাসাবিহ)

এ হাদিস থেকে আইয়্যামে বিজের রোজার গুরুত্ব প্রমাণিত হয়, যদিও তা প্রথম রোজা ছিল—এমন সুস্পষ্ট প্রমাণ নেই।

সব মিলিয়ে বলা যায়, রোজা উম্মতে মুহাম্মাদির জন্য বিশেষ ইবাদত হলেও তা পূর্ববর্তী নবি-রাসুলদের শরিয়তেও ছিল—এ বিষয়ে কুরআনের ঘোষণা সুস্পষ্ট। তবে পৃথিবীতে সর্বপ্রথম কে রোজা রেখেছিলেন এবং কতটি রোজা পালন করেছিলেন—এ বিষয়ে সহিহ ও চূড়ান্ত দলিল নেই।

সূত্র: যুগান্তর