ববি বিশ্বাস: [২] বৃহস্পতিবার নিজেদের ওয়েবসাইটে বৈশ্বিক গণতন্ত্র সূচকের তালিকা প্রকাশ করেছে লন্ডনভিত্তিক এই গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি। ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (ইআইইউ) মূলত ইংল্যান্ডের দি ইকোনমিস্ট গ্রুপের গবেষণা ও বিশ্লেষণ বিভাগ হিসেবে কাজ করে।
[৩] ইআইইউ প্রকাশিত গণতন্ত্র সূচক প্রতিবেদনে ১৬৫টি স্বাধীন দেশ ও দু’টি অঞ্চলের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এই প্রতিবেতদনে দেখা যায় ২০২২-২০২৩ সালে বিশ্বে ‘গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের’ সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও গণতন্ত্র সূচকের গড় পতন ঘটেছে। ইআইইউ’র গণতন্ত্র সূচক অনুযায়ী ২০২২ সালে বিশ্বে গণতন্ত্রের গড় মান ছিলো ৫ দশমিক ২৯ যার পতন ঘটে ২০২৩ সালে ৫ দশমিক ২৩ গড় মানে দাড়ায়।
[৪] ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট এর রিপোর্ট অনুযায়ী, গোটা বিশ্বে একমাত্র পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলো ছাড়া অন্যান্য সকল দেশেরই গণতন্ত্র সূচকের পতন হয়েছে। ইআইইউ’র প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী গণতন্ত্র সূচকের দিক দিয়ে শীর্ষে রয়েছে নরওয়ে, নিউজিল্যান্ড ও আইসল্যান্ড। এই তালিকার সর্বনিম্নে রয়েছে আফগানিস্তান, উত্তর কোরিয়া ও মিয়ানমার।
[৫] ইআইইউ এর গণতন্ত্রের সূচক অনুযায়ী, বিশ্বের জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক মানুষ কোনো না কোনো গণতান্ত্রিক দেশে বাস করে যা পরিমাণে শতকরা ৪৫.৪ শতাংশ। অপরদিকে মাত্র ৭.৮ শতাংশ মানুষই একটি ‘পূর্ণ গণতন্ত্র’এ বাস করে। এই সূচকে ‘পূর্ণ গণতন্ত্র’ মান হিসেবে ৮.০০ বা তার অধিক মানকে গণ্য করা হয়েছে। এছাড়া ইআইইউ প্রকাশিত সূচকে বলা হয় বৈশ্বিক জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশের বেশি মানুষ কর্তৃত্ববাদী শাসনের অধীনে বাস করে যা পরিমাণে শতকরা ৩৯ দশমিক ৪ শতাংশ।
[৬] ইআইইউ’র তালিকায় বিভিন্ন রাষ্ট্র ব্যবস্থাকে ‘পূর্ণ গণতন্ত্র’, ‘ত্রুটিপূর্ণ গণতন্ত্র’, ‘মিশ্র শাসন ব্যবস্থা’, ‘স্বৈরাচারী শাসন ব্যবস্থা’ নামক একাধিক শ্রেণীতে ভাগ করা হয়েছে।
[৭] গত কয়েকবছরের তুলনায় এবারের গণতন্ত্র সূচকে দুই ধাপ পিছিয়ে পড়েছে বাংলাদেশ। বর্তমানে বিশ্বের ১৬৭টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৭৫তম যা ২০২২ সালে ছিলো ৭৩তম অবস্থানে। সূচক অনুযায়ী বাংলাদেশের প্রাপ্ত নম্বর ৫ দশমিক ৩৩।
[৮] বিপরীতে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থান ধরে রেখেছে ভারত। বর্তমান সূচক অনুযায়ী তালিকায় ভারতের অবস্থান ৪১তম। তবে তালিকায় দেশটিকে রাখা হয়েছে ‘ত্রুটিপূর্ণ গণতন্ত্র’ বিভাগে। মূলত দেশটিতে অর্থনৈতিক বিকাশের সম্ভাবনা তৈরি ও গণতন্ত্রের মান পূর্বের চেয়ে উন্নত হওয়ায় এই অবস্থান অর্জন করেছে। সূচক অনুযায়ী ভারতের প্রাপ্ত নম্বর ৭ দশমিক ১৮।
[৯] অপরদিকে শ্রীলঙ্কা ৭০তম, ভূটান ৮১তম, নেপাল ৯৮তম ও পাকিস্তান ১১৮তম অবস্থানে রয়েছে।
[১০] প্রতিবেদনে এশিয়ার উদীয়মান মোড়ল চীনের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির কথা উল্লেখ করা হলেও এর গণতন্ত্র সূচক নিচের দিকে। তালিকায় চীনের অবস্থান ১৪৮তম এবং প্রাপ্ত মান ২ দশমিক ১২।
[১১] তবে এবারের প্রকাশিত তালিকায় চমকপ্রদ বিষয় গণতন্ত্র সূচকে উত্তর আমেরিকাকে পেছনে ফেলে পশ্চিম ইউরোপের শক্ত অবস্থান তৈরি। তালিকার তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ, লাতিন আমেরিকা, উত্তর আফ্রিকা ও পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক।
[১২] গণতান্ত্রিককাঠামো স্থাপনের দিক থেকে উন্নতি সাধন করেছে গ্রিস। দেশটি আংশিক গণতন্ত্র থেকে পূর্ণ গণতন্ত্রে উন্নীত হয়েছে। মিশ্র শাসন ব্যবস্থার দেশ পাপুয়া নিউ গিনি ও প্যারাগুয়ে ত্রুটিপূর্ণ গণতন্ত্রে উন্নীত হয়েছে। স্বৈরাচারী শাসন ব্যবস্থার দেশ আঙ্গোলা বর্তমানে মিশ্র শাসন ব্যবস্থার দেশে পরিণত হয়েছে। সম্পাদনা: রাশিদ
বিবি/আর/এনএইচ