শিরোনাম
◈ গাজীপুরে শ্রমিক বিক্ষোভের মাঝেই গাজীপুরে কারখানার ঝুট গুদামে আগুন, যানজটে বিপাকে ফায়ার সার্ভিস ◈ তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় বান্ধবী দিশা গ্রেফতার, দীপের সংশ্লিষ্টতার প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ ◈ আগামী গ্রীষ্মে সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে লোডশেডিং কমানোর আশা বিদ্যুৎমন্ত্রীর ◈ মিরপুরে মজুরির দাবিতে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, বন্ধ মেট্রোরেলের ৫ স্টেশন ◈ শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনায় জাপানের যে ৪ কঠিন শর্তে সরকারের সম্মতি ◈ পল্টনে সাবেক সিআইডি প্রধানের গাড়ির ধাক্কায় রিকশাচালক গুরুতর আহত, চালকের পরিচয় নিয়ে ধোঁয়াশা ◈ ৩৪০ বাংলাদেশি হজযাত্রীর চিকিৎসা ব্যয়ের নামে আটকে রাখা ১০ কোটি টাকা ফেরত দিল সৌদি আরব ◈ ৩০ হাজার টাকা মজুরির দাবিতে মিরপুরে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ ◈ ৩০ হাজার টাকা মজুরির দাবির মধ্যেই পোশাক শ্রমিকদের জন্য নতুন মজুরি বোর্ড গঠন ◈ ডিসেম্বর ঘিরে আওয়ামী লীগের তৎপরতা, শেখ হাসিনার ফেরা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা প্রশ্ন

প্রকাশিত : ০৪ জুন, ২০২৩, ০৩:২৬ দুপুর
আপডেট : ০৪ জুন, ২০২৩, ০৩:২৬ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

বেঁচে যাওয়ারা বললেন, ‘দ্বিতীয় জীবন পেলাম’

হারানো বন্ধুর ছবিসহ আফজাল 

সাজ্জাদুল ইসলাম: ভারতের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় যারা বেঁচে গেছেন তাদের একজন হলেন মোহাম্মাদ আফজাল। কিন্তু তার দুশ্চিন্তা হচ্ছে তার বন্ধুকে নিয়ে। আফজাল ও সে একই বগিতেই ছিলেন। সূত্র: আল-জাজিরা

আফজাল(১৯) উডিষ্যার এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে যাচ্ছিলেন। এ রাজ্যেই শুক্রবার রাতে তিনটি ট্রেনের ত্রিমুখী সংঘর্ষ ঘটে। এ ভয়াবহ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারায় ২৯০ জন। আহত হয় এক হাজারেরও বেশি মানুষ। আফজাল তার বন্ধু মোহাম্মাদ মাজহারকে খুঁজছে। একই ট্রেনে উঠেছিল সমবয়েসি দু’বন্ধু।

পার্শ্ববর্তী রাজ্য পশ্চিম বঙ্গের কলকাতার বাসিন্দা মাজহার। তার পরিবারও সেখানে বাস করে। তার শোকাহত মা-বাবা, চাচা-মামা ও খালা-ফুফুরা ২০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে দুর্ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে মাজহারকে চারিদিকে তন্নতন্ন করে খুঁজেন।  দুর্ঘটনার পর ২০ ঘন্টা পার হওয়ার পরেও মাজহারের কোন সন্ধান পাননি তারা। সেখানে তখন লাশগুলো সাজিয়ে রাখা হয়েছিল। মৃতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে।

আফজাল বলেন, ‘আমরা দু’জনে সাধারণ বগিতে উঠি। পুরো বগি ছিল গাদাগাদি করে যাত্রীতে ভরা। বসার কোন জায়গা ছিল না তাই আমরা দাঁড়িয়েছিলাম।’ 

তিনি বলেন, ‘ ট্রেনে উঠার ৩০ মিনিট পর ট্রেনটি দুর্ঘটনায় পতিত হয়। আমরা বুঝতে পারছিলাম যে, আমাদের বগি অন্তত ৩ বার উলোটপালোট খেয়েছে।’

আফজাল যখন বগি থেকে বের হলেন তখন তিনি মাজহারকে খুঁজে পেলেন না। আফজাল বলেন, ‘আমি চার ঘন্টারও বেশি সময় ধরে ওকে খুঁজেছি। কিন্তু ওর কোন হদিস পাইনি। ওকে না পাওয়া পর্যন্তু আমি কোন শান্তি পাবো না।’

মাজহারের খালা আমেনা বেগম বলেন, ‘ও বেঁচে আছে, আমরা শুধু এ কথাটুকুই জানতে চাই। খবর পাওয়ার পরই আমরা এখানে চলে এসেছি। একদিন পার হয়ে গেছে। এখনো ওর কোন হদিস আমরা জানতে পারিনি।’

যারা দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে গেছেন তারা একে দ্বিতীয় জন্ম বলে অভিহিত করেছেন। মনোরঞ্জণ মালিকের (৪২) বাম পা ভেঙ্গে গেছে। দুর্ঘটনার ১২ ঘন্টা পর দুমড়েমুচড়ে যাওয়া বগি থেকে তাকে টেনে বের করা হয়।

তিনি বলেন, আমি বিরাট আঘাতের শব্দ শুনতে পেলাম। মাথায় প্রচন্ড আঘাত পাই। এরপর কি হলো তা বলতে পারবো না।’ মালিক বলেন, ‘জ্ঞান হারানোর পর অনেক সময় কেটে যায়। আমাকে টেনে বের করার সময় আমার জ্ঞান ফিরে আসে। চোখ খুলে আকাশ দেখতে পাই। তখনো বুঝতে পারি নি আমি কোথায় আছি। আমার মনে হল, আমি দ্বিতীয় জীবন লাভ করেছি।’

ট্রেন দুর্ঘটনাস্থলে উদ্ধার কাজ শেষ হয়েছে। মৃত ও জীবিত লোকদেরকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানায়, তাদের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো মরদেহগুলো সনাক্ত করা। আফজালের মতো লোকদের তাদের পরিবার, স্বজন ও বন্ধুদের সঙ্গে সংযোগ করে দেওয়া। সম্পাদনা: শামসুল হক বসুনিয়া

এসআই/এসএইচবি/এএ

  • সর্বশেষ