শিরোনাম

প্রকাশিত : ০৮ ডিসেম্বর, ২০২২, ০৪:৩৭ সকাল
আপডেট : ০৯ ডিসেম্বর, ২০২২, ১২:১১ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

২০৩০ সালের মধ্যে বৈশ্বিকভাবে প্রাকৃতিক ধ্বংস ঠেকানোই অন্যতম লক্ষ্য

কানাডায় বিশ্ব জীববৈচিত্র্য সম্মেলন শুরু

জাস্টিন ট্রুডো (বামে) আন্তোনিও গুতেরেস (ডানে)

মোশাররফ হোসাইন, শাখাওয়াত মুকুল (মন্ট্রিল, কানাডা থেকে): কানাডার মন্ট্রিলে শুরু হয়েছে জাতিসংঘের আয়োজনে বিশ্ব জীববৈচিত্র্য সম্মেলন ২০২২ (কপ-১৫)। স্থানীয় সময় বুধবার (৭ নভেম্বর) সকালে মন্ট্রিল সিটিতে এই সম্মেলন শুরু হয়। সম্মেলনে বিশ্বের ১৯৬ টি দেশের সরকার প্রধান, মন্ত্রী, এনজিও প্রতিনিধি, গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিসহ সাংবাদিক ডেলিগেটরা অংশগ্রহণ করেন। 

সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর প্রতিনিধিরা তাদের বক্তব্যে বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য ও জীব বৈচিত্র্য রক্ষায় শিল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে সেতু বন্ধন তৈরি করাই এবারের সম্মেলনের অন্যতম লক্ষ্য। 

সম্মেলনের মূল লক্ষ্য হিসেবে বলা হয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে প্রাকৃতিক ধ্বংস ঠেকানো এবং ২০৫০ সালের মধ্যে প্রকৃতির স্বাভাবিক ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার জন্য একটি নতুন বৈশ্বিক জীববৈচিত্র্য কাঠামোতে সকল দেশ নিজেদের মধ্যে মতৈক্যে পৌঁছানো।

এর আগে মঙ্গলবার (৬ নভেম্বর) যৌথভাবে  সম্মেলনের উদ্বোধন করেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো এবং জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।

প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো তার বক্তব্যে বলেছেন, প্রকৃতি হুমকিতে নয়, এটি আসলে আক্রমণের শিকার। তাই প্রকৃতি রক্ষায় কোনো মতবিরোধ থাকতে পারেনা। রাজনীতি ও রাষ্ট্র নিয়ে আমাদের মধ্যে মতভেদ থাকলেও  প্রকৃতি এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কোনো মতভেদ নেই। তাই এটি রক্ষায় সব দেশকে এগিয়ে আসতে হবে। পৃথিবীর সব নেতাদের এক টেবিলে বসে এ নিয়ে কাজ করতে হবে।

এসময় জাস্টিন ট্রুডো জীব বৈচিত্র্য রক্ষায় জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট তহবিলে ৪৫০ মিলিয়ন ডলার দেওয়ার ঘোষণা দেন। 

জাতিসংঘের মহাসচিব গুতেরেস তাঁর বক্তব্যে বলেন, এই সম্মেলন প্রকৃতির সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক গড়তে সহায়ক হবে। আমরা প্রকৃতির সঙ্গে যুদ্ধ নয় বরং প্রকৃতির সঙ্গে মানিয়ে চলতে হবে। জীবাশ্ম জ্বালানির আসক্তি আমাদের জলবায়ুকে বিশৃঙ্খলার মধ্যে ফেলে দিয়েছে। টেকসই উৎপাদন এবং দানবীয় ভোগের অভ্যাস আমাদের বিশ্বকে অধঃপতনের দিকে ঠেলে দিয়েছে। আমাদের উচ্চাভিলাষী জাতীয় কর্মপরিকল্পনা তৈরির আগে সকল দেশের সরকারকে জীববৈচিত্রের কথা ভাবতে হবে।

প্রাকৃতিক ভারসাম্যহীনতার কারণে বিভিন্ন প্রজাতির পশু-পাখি গণবিলুপ্তির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, এদের মধ্যে এক মিলিয়ন প্রজাতি ঝুঁকিতে রয়েছে আর চিরতরে অদৃশ্য হয়ে গিয়েছে অসংখ্য প্রজাতি। এই ধ্বংসের জন্য আমাদের অনেক বেশি মূল্য দিতে হবে। চাকরি হারানো, অর্থনৈতিক বিপর্যয়, ক্রমবর্ধমান ক্ষুধা, খাদ্য, পানি এবং শক্তির জন্য উচ্চ খরচ, জীবাশ্ম জ্বালানীর ব্যবহার আমাদের আভাসভূমি বসবাসের অযোগ্য বানিয়ে দিচ্ছে। এসব সমস্যা থেকে আমাদের বের হতে হবে শিগগিরই।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন মন্ট্রিল সিটি মেয়র ভেলেরি প্ল্যান্টি, চীনের পরিবেশবিষয়ক মন্ত্রী হুয়াং রুনকুইসহ দেশটির কুনমিং সিটি মেয়র লিও জিয়াচেন।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালে এই সম্মেলনের প্রথম পর্ব অনুষ্ঠিত হয় চীনের কুনমিংয়ে। করোনা মহামারির কারণে সেটি ছিল ভার্চুয়াল। এবার কানাডার মন্ট্রিলে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় পর্বের এই সম্মেলনে সশরীরে ছাড়াও ভার্চুয়ালি অনেকে যুক্ত হবেন। প্রায় দুই সপ্তাহব্যাপী চলা এই সম্মেলন শেষ হবে ১৯ ডিসেম্বর।

এমএএস

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়