শিরোনাম
◈ কলেরা প্রতিরোধে বাংলাদেশের বিজ্ঞানী ফিরদৌসী কাদরীর প্রশংসায় বিল গেটস!(ভিডিও) ◈ টাইগার শ্রফের গাড়িতে গুলির পর সালমান খানকে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের হুমকি, ভাইরাল অডিও ◈ ভারতীয় ভিসা পেতে বাংলাদেশিদের জন্য আসছে নতুন পরিবর্তন ◈ আজ দুপুর ২টায় পদত্যাগের চূড়ান্ত ঘোষণা দেবেন ইশরাক হোসেন ◈ তিন বছর পর ভারতে ফিরছে আইপিএল নিলাম, ১৬ ডিসেম্বর গোয়ায় বসছে ক্রিকেটার কেনাবেচার আসর? ◈ মোহাম্মদ রিজওয়ান এবার অ‌ধিনায়ক হ‌য়েই ফির‌ছেন পা‌কিস্তান দ‌লে ◈ বাংলাদেশের বিরু‌দ্ধে সিরিজ শুরুর আগে স্কোয়াডে পরিবর্তন আনলো ওয়েস্ট ইন্ডিজ ◈ প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ঢাকার ২০ জোনে বিশেষ নজরদারি কমিটি ◈ মৃত্যুর পরও রেহাই নেই : মর্গের হিমঘরে নারীর মরদেহের সঙ্গে বিকৃত যৌনাচারের অভিযোগ ◈ মন্ত্রিসভা থেকে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের নির্দেশ নিয়ে ধোঁয়া

প্রকাশিত : ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০৪ দুপুর
আপডেট : ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৩৪ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ভয়াবহ ভাঙনে সাগরে তলিয়ে যাচ্ছে ক্যালিফোর্নিয়ার বাড়িঘর

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের দক্ষিণাঞ্চলে ভয়াবহ ভাঙনের মুখে পড়েছে প্রশান্ত মহাসাগরের উপকূল। একের পর এক বাড়িঘর সাগরে ধসে পড়ছে, ভেঙে যাচ্ছে হাঁটার পথ, আর ঢেউয়ের পানিতে প্লাবিত হচ্ছে বসতবাড়ি। আবহাওয়া শান্ত থাকলেও রেকর্ড উচ্চতার জোয়ার ও শক্তিশালী ঢেউয়ের কারণে উপকূলীয় এলাকায় দেখা দিয়েছে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি। এর মধ্যে এল নিনোর সবচেয়ে তীব্র প্রভাব আসতে এখনও কয়েক মাস বাকি।

গত ৯ অক্টোবর রাত সাড়ে ৩টার দিকে লং বিচ শহরে নিজের চোখের সামনে এমন বিপর্যয় দেখেন শন কার্টিস। তার দুই তলাবিশিষ্ট সমুদ্রসৈকতসংলগ্ন আবাসিক ভবনের সামনের হাঁটার পথ ও প্রায় ২৫ ফুট চওড়া বালুর সৈকত সাগরে বিলীন হয়ে যায়। চারদিক থেকে নোনা পানি ঢুকতে থাকে। একপর্যায়ে ভবনটি কাত হয়ে সাগরের দিকে হেলে পড়ে।

নয় বছর ধরে ওই ভবনে বসবাস করছিলেন কার্টিস। তিনি জানান, ঘুম ভেঙে উঠে দেখেন দরজার কাঠামো ও জানালা বেঁকে গেছে। এরপর বিশাল ঢেউ আছড়ে পড়তে দেখেন। ঢেউয়ের পানি ভবনের দ্বিতীয় তলা পর্যন্ত উঠে যায়। আশপাশের বাসিন্দারাও ছাদ বেয়ে পানি পড়তে দেখেন।

কার্টিস বলেন, পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়ে উঠেছিল যে জীবন বাঁচাতে দ্রুত বেরিয়ে যেতে হয় তাকে ও তার সহবাসীকে। তাদের কাছে তখনই স্পষ্ট হয়ে যায়, ভবনটি আর রক্ষা করা সম্ভব নয়।

Advertisement

একের পর এক বাড়ি সাগরে বিলীন

গত ৯ থেকে ১১ অক্টোবরের মধ্যে লং বিচ উপদ্বীপে এক ডজনের বেশি বাড়ি সাগরে ধসে পড়েছে। গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড় র‍্যাচেলের অবশিষ্ট প্রভাবে উপকূলে প্রায় ১৭ ফুট উঁচু ঢেউ আছড়ে পড়ে। ঝুঁকির কারণে ১৩টি বাড়ি থাকা আটটি স্থাপনায় প্রবেশ অনিরাপদ ঘোষণা করা হয়েছে।

এছাড়া উপকূলের বিভিন্ন এলাকায় হাঁটার পথ ভেঙে পড়েছে এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলীয় মহাসড়কের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। লেগুনা বিচ এলাকায় সড়কের কয়েকটি অংশে ফাটল দেখা দেওয়ায় একটি অংশ এখনও বন্ধ রয়েছে। নিউপোর্ট বিচের কয়েকটি এলাকা প্লাবিত হয়েছে। লং বিচে একসময় প্রশস্ত বালুর সৈকত ও মজবুত হাঁটার পথ যেসব বাড়িকে সুরক্ষা দিত, সেসব বাড়ির বাসিন্দাদেরও সরিয়ে নিতে হয়েছে।

ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, লস অ্যাঞ্জেলেসের উপকূলীয় বন্যা গবেষণাগারের গবেষক টিমু গ্যালিয়েন বলেন, ভবিষ্যতে কী ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, বর্তমান বিপর্যয় তার সামান্য আভাস মাত্র।

কেন বাড়ছে উপকূলের ঝুঁকি?

বিজ্ঞানী ও সামুদ্রিক জীববিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে সতর্ক করে আসছেন, বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ছে। এর সঙ্গে জোয়ার ও ঝড়ের ঢেউ যুক্ত হলে উপকূলীয় বন্যা এবং ভূমিক্ষয়ের ঝুঁকি আরও বাড়ে।

এবার এসব পরিস্থিতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে শক্তিশালী এল নিনোর আশঙ্কা। এল নিনো একটি প্রাকৃতিক জলবায়ুগত পরিবর্তন, যা প্রশান্ত মহাসাগরের তাপমাত্রা ও আবহাওয়ার ধরনে পরিবর্তন ঘটায়। এর প্রভাবে বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাত, ঝড় ও সমুদ্রের ঢেউয়ের তীব্রতা বাড়তে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় মহাসাগরীয় ও বায়ুমণ্ডলীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, পানির নিচে শত শত মাইল পথ পাড়ি দেওয়া কেলভিন তরঙ্গও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়াতে পারে। একা এসব তরঙ্গ সাধারণত উপকূলীয় বন্যার কারণ হয় না। কিন্তু সাত ফুটের বেশি উচ্চতার জোয়ার ও ঝড়ের ঢেউয়ের সঙ্গে যুক্ত হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

জলবায়ুবিজ্ঞানী ড্যানিয়েল সোয়েইন বলেন, ঢেউ ও জোয়ারের উচ্চতা সামান্য কমলেও উপকূলীয় এলাকায় এখনও বন্যা চলছে। আগামী কয়েক মাস পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা কম। বরং আরও খারাপ হতে পারে। তার মতে, নভেম্বর ও ডিসেম্বর থেকে উত্তর ক্যালিফোর্নিয়াতেও একই ধরনের পরিস্থিতি দেখা দিতে পারে।

ঝড়ের পর ঝড়, বাড়ছে ক্ষয়ক্ষতি

গত শ্রমিক দিবসের ছুটির সময় হারিকেন মেরির অবশিষ্ট প্রভাবের কারণে দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূলে বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হয়। সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে হারিকেন পোলোর অবশিষ্ট প্রভাব এবং এরপর গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড় র‍্যাচেলের কারণে পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়।

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, চলতি বছরের বাকি সময়ে আরও কয়েক দফা উচ্চ জোয়ার দেখা দিতে পারে। এর সঙ্গে ঝড়ের ঢেউ যুক্ত হলে উপকূলীয় এলাকায় নতুন করে বন্যা ও ভূমিক্ষয় হতে পারে। আগামী বছরের শুরুর দিকে এল নিনোর প্রভাব সবচেয়ে তীব্র হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

লং বিচের মেয়র রেক্স রিচার্ডসন বলেন, শহরের অবকাঠামো এমন পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য তৈরি করা হয়নি। জোয়ারের উচ্চতা কম থাকলে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামতের কাজ চলবে।

এর আগে ঝড়ের কারণে হাঁটার পথের দেয়ালে তৈরি হওয়া গর্ত কাঠের তক্তা ও বালুভর্তি বস্তা দিয়ে মেরামতের চেষ্টা করেছিল শহরের কর্মীরা। কিন্তু সেগুলোও টেকেনি।

সাগরপাড়ের স্বপ্নের জীবন কি শেষ হতে চলেছে?

লং বিচ উপদ্বীপের বাসিন্দা ডানা মেরি লাজ্জারেশ্চি চার বছর আগে সেখানে ভাড়া বাসায় ওঠেন। প্রতিবেশীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং সমুদ্রের সৌন্দর্য তাঁকে আকৃষ্ট করেছিল। কিন্তু বাড়ির ছাদে ঢেউয়ের পানি আছড়ে পড়তে দেখে এখন সেখানে কত দিন থাকা সম্ভব, তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তিনি।

তিনি বলেন, এখন আর সেখানে বাড়ি কেনার কথা ভাববেন না। তবে জায়গাটির প্রতি তার ভালোবাসা এখনও রয়ে গেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, উপকূলীয় এলাকায় বসবাসের ঝুঁকি নতুন নয়। ১৯৮০-এর দশকের মাঝামাঝি এবং ১৯৯০-এর দশকের শেষ দিকের এল নিনোর সময়ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলীয় মহাসড়কে বন্যা ও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। তবে বর্তমান ক্ষয়ক্ষতির ব্যাপ্তি ঐতিহাসিকভাবে উল্লেখযোগ্য।

উপকূলীয় বন্যা গবেষক গ্যালিয়েন বলেন, সুন্দর উপকূলীয় এলাকায় বসবাসের আকর্ষণ থাকলেও বাড়ির মালিক, স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও প্রশাসনকে ঝুঁকি কতটা গ্রহণযোগ্য, তা ভেবে দেখতে হবে। প্রকৌশলগত ব্যবস্থার মাধ্যমে এসব স্থাপনা কতটা সুরক্ষিত রাখা সম্ভব, সেটিও বড় প্রশ্ন।

বাড়ি ধসে পড়ার প্রায় দুই সপ্তাহ আগে বাড়ির মালিককে বাসা ছেড়ে দেওয়ার ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন কার্টিস। মেরি ও পোলোর প্রভাবে প্রায় সাত ফুট উঁচু ঢেউ তার ভবনের সামনের হাঁটার পথের ক্ষতি করেছিল। সামনে এল নিনোর প্রভাব বাড়লে পরি