আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী, গবেষক ও বিদেশি সাংবাদিকদের ভিসায় নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার মার্কিন সরকারের নতুন নিয়ম সাময়িকভাবে স্থগিত করেছেন একটি ফেডারেল আদালত। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) থেকে নিয়মটি কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও সোমবার আদালতের আদেশে তা আপাতত আটকে গেছে।
ম্যাসাচুসেটসের ফেডারেল জেলা আদালতের বিচারক এফ. ডেনিস সেলর চতুর্থ নতুন নিয়মের কার্যকারিতা স্থগিত করে প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। ‘প্রেসিডেন্টস অ্যালায়েন্স অন হায়ার এডুকেশন অ্যান্ড ইমিগ্রেশন বনাম ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি’ মামলায় এ আদেশ দেওয়া হয়।
দশকের পর দশক ধরে এফ ভিসাধারী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী এবং জে ভিসাধারী এক্সচেঞ্জ ভিজিটররা ‘ডুরেশন অব স্ট্যাটাস’ ব্যবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের সুযোগ পেয়ে আসছেন। অর্থাৎ নির্ধারিত শিক্ষাক্রম বা কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার শর্তে তারা দেশটিতে থাকতে পারেন।
গত ১৭ জুলাই ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি প্রকাশিত নতুন নিয়মে এ ব্যবস্থার পরিবর্তে নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়। এতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য সাধারণত সর্বোচ্চ চার বছর এবং বিদেশি সাংবাদিকদের জন্য ২৪০ দিনের মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছিল।
নির্ধারিত সময়ের বেশি থাকতে হলে শিক্ষার্থীদের ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেসের কাছে মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করতে হতো। এতে দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা বা পিএইচডিতে থাকা শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও গবেষণা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।
নতুন নিয়মের পক্ষে সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা ও ভিসা জালিয়াতি প্রতিরোধের যুক্তি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিচারক সেলর। তিনি বলেন, সরকার যেসব ঘটনার কথা উল্লেখ করেছে, সেগুলোর কোনোটিই চার বছরের নির্দিষ্ট ভিসা মেয়াদ চালু করলে প্রতিরোধ করা সম্ভব হতো না।
মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলে আপিলের সুযোগ না থাকার বিষয়টিও সমালোচনা করেন তিনি। তাঁর মতে, এতে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পর্যাপ্ত জবাবদিহিতা ছাড়াই বিদেশি নাগরিকদের শিক্ষাজীবন ব্যাহত করার সুযোগ তৈরি হতো।
মামলার বাদীরা আদালতে যুক্তি দেন, নিয়মটি কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থা ও অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। প্রায় ৬০০টি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিত্বকারী প্রেসিডেন্টস অ্যালায়েন্সও সতর্ক করে বলেছিল, নতুন নীতির কারণে মেধাবী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে আসতে নিরুৎসাহিত হতে পারেন।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১৬ লাখ এফ ভিসাধারী এবং ৫ লাখ জে ভিসাধারী রয়েছেন। তাদের অনেকেই বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিতসহ বিভিন্ন গবেষণার সঙ্গে যুক্ত।
স্থগিত হওয়া নিয়মে পড়াশোনা বা কর্মসূচি শেষ হওয়ার পর অতিরিক্ত অবস্থানের সুযোগ ৬০ দিন থেকে কমিয়ে ৩০ দিন করা এবং বিশ্ববিদ্যালয়, মেজর বা শিক্ষার স্তর পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও নতুন বিধিনিষেধ আরোপের প্রস্তাব ছিল।
তবে আদালতের এই আদেশে নিয়মটি স্থায়ীভাবে বাতিল হয়নি। মামলাটির পরবর্তী শুনানি ও স্ট্যাটাস কনফারেন্স আগামী ২ অক্টোবর বোস্টনে হওয়ার কথা রয়েছে। মার্কিন সরকার জেলা আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।