শিরোনাম
◈ ৫-৭ দিনের মধ্যে গ্যাস পরিস্থিতি আরও স্বাভাবিক হবে: প্রধানমন্ত্রী (ভিডিও) ◈ অতিরঞ্জিত নয়, জনমতের বাস্তবতা মেনেই সরকারের কথা বলতে হবে: তারেক রহমান ◈ দিল্লি সফরে রাশিয়া থেকে ‘ফ্লাইং ক্রেমলিন’ ও ‘দুর্গসম’ লিমুজিন এনেছেন পুতিন, এর যত বৈশিষ্ট্য জানাগেল ◈ দেবিদ্বারে ব্যাংকের ভেতর গ্রাহকের ৪ লাখ টাকা চুরি করা সেই ব্যাক্তি ঝিনাইদহ থেকে গ্রেপ্তার ◈ মাকড়সার মতো লেজ, নেই কোনো হাড়: বিরল সাপের রহস্য উন্মোচনে চমকপ্রদ তথ্য ◈ মেয়ের পোষা ছাগল চুরির ঘটনা জীবনের অন্যতম হৃদয়বিদারক: সেই ছাগলকাণ্ড নিয়ে যা বললেন আসিফ নজরুল ◈ বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত : ট্রাম্পের হুমকি উপেক্ষা করে দিল্লিতে মুখোমুখি পুতিন, জিনপিং ও মোদী ◈ ভারতের সঙ্গে হওয়া ১০১ চুক্তি পর্যালোচনা করছে সরকার, জানালেন চিফ হুইপ ◈ নতুন ঋণের নির্ভরতা কমছে, পুরনো ঋণ পরিশোধে সরকারের জোর (ভিডিও) ◈ মাঠে জমে থাকা পানিতে ডুবে প্রাণ গেল ৩ শিশুর

প্রকাশিত : ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০১:০০ রাত
আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০১:১২ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

দিল্লি সফরে রাশিয়া থেকে ‘ফ্লাইং ক্রেমলিন’ ও ‘দুর্গসম’ লিমুজিন এনেছেন পুতিন, এর যত বৈশিষ্ট্য জানাগেল

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের ব্যক্তিগত বিমানে ভ্রমণ করা এখন বেশ সাধারণ বিষয়। তবে বিশ্বের সবচেয়ে কড়া নিরাপত্তাবেষ্টিত নেতাদের একজন পুতিন বিদেশ সফরে গেলেও সবসময় নিজের গাড়ি সঙ্গে নিয়ে যান। পুতিনের অরুস সেনাট বিশ্বের সবচেয়ে গোপনীয় এবং কঠোরভাবে সুরক্ষিত গাড়িগুলোর একটি। গত ২৫ বছর ধরে রাশিয়ার নেতৃত্বে থাকা পুতিনের সম্ভাব্য বহু শত্রু থাকার বিষয়টি বিবেচনায় নিলে এমন গাড়ি তাঁর জন্য বেশ উপযোগী।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে নয়াদিল্লিতে পৌঁছেছেন। তাঁর সঙ্গে এসেছে বিশাল নিরাপত্তা বহর। এই বহরের মধ্যে রয়েছে তাঁর নিজস্ব কৌশলে সাজানো প্রেসিডেনশিয়াল, যা প্রায়ই ‘ফ্লাইং ক্রেমলিন’ নামে পরিচিত। রয়েছে তাঁর সাঁজোয়া অরুস সেনাট লিমুজিনও।

গত বছর চীনে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও) সম্মেলনের সময় পুতিনের সঙ্গে গাড়িতে চড়েছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেই ঘটনার পরও গাড়িটি ব্যাপক আলোচনায় আসে।

পুতিনের গাড়ি

পুতিনের গাড়িবহরে সাধারণত প্রায় দুই ডজন গাড়ি থাকে। তবে বিদেশ সফরের সময় তিনি যে গাড়িটি ব্যবহার করেন, সেটি হলো বুলেটপ্রুফ ও বিস্ফোরণ প্রতিরোধী অরুস সেনাট। গাড়িটিকে প্রায়ই ‘চাকাচালিত দুর্গ’ বা ‘ফোর্ট্রেস-অন-হুইলস’ বলা হয়। এটি একটি বিলাসবহুল লিমুজিন। গাড়িটি তৈরি করেছে রাশিয়ার গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অরুস মোটরস। প্রতিষ্ঠানটি রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠান ন্যামি, সোলার্স জেএসসি এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের তাওয়াজুন হোল্ডিংয়ের যৌথ উদ্যোগ।

অরুস সেনাট ২০১৮ সালে বাজারে আসে। এটি রাশিয়ার ‘কোরতেঝ’ প্রকল্পের অংশ। এই প্রকল্পের লক্ষ্য ছিল সরকারি ব্যবহারের জন্য দেশীয় বিলাসবহুল ও সাঁজোয়া গাড়ি তৈরি করা। গাড়িটির নকশায় সোভিয়েত আমলের জিআইএস-১১০ লিমুজিনের প্রভাব রয়েছে। রাশিয়া এই গাড়ির একটি বেসামরিক সংস্করণও তৈরি করে। বছরে সর্বোচ্চ ১২০টি গাড়ি তৈরি করা হয়। এর দাম প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ রুবেল, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ রুপি।

অরুস সেনাটের বৈশিষ্ট্য

পুতিনের অরুস সেনাটে রয়েছে ৪.৪ লিটারের টুইন-টার্বোচার্জড ভি৮ ইঞ্জিন। এর সঙ্গে রয়েছে একটি হাইব্রিড সিস্টেম। ইঞ্জিনটি প্রায় ৫৯৮ হর্সপাওয়ার শক্তি এবং ৮৮০ নিউটন-মিটার টর্ক উৎপন্ন করতে পারে। গাড়িটিতে রয়েছে ৯-গতির স্বয়ংক্রিয় গিয়ারবক্স।

গাড়িটির দৈর্ঘ্য ৫ হাজার ৬৩০ মিলিমিটার, প্রস্থ ২ হাজার মিলিমিটার এবং উচ্চতা ১ হাজার ৭০০ মিলিমিটার। এর হুইলবেস ৩ হাজার ৩০০ মিলিমিটার। গাড়িটির সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় প্রায় ১৬০ কিলোমিটার। শূন্য থেকে ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার গতিতে পৌঁছাতে সময় লাগে প্রায় ৯ সেকেন্ড।

অত্যন্ত শক্তিশালী সাঁজোয়া এই গাড়িটি প্রেসিডেন্টের গাড়িবহরের জন্য সর্বোচ্চ পর্যায়ের নিরাপত্তা মান পূরণ করে। এর নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে অ্যাকটিভ ক্রুজ কন্ট্রোল, লেন ডিপার্চার ওয়ার্নিং, ইলেকট্রনিক ট্র্যাকশন কন্ট্রোল এবং উন্নত ব্রেকিং সিস্টেম।

গাড়িটির ভেতরেও রয়েছে বিলাসবহুল নানা সুবিধা। এতে ব্যবহার করা হয়েছে উচ্চমানের চামড়া, কাঠের ট্রিম এবং অত্যাধুনিক ইনফোটেইনমেন্ট ব্যবস্থা। এ ছাড়া চরম আবহাওয়ার মধ্যেও চলাচল করতে পারে এমনভাবে গাড়িটি তৈরি করা হয়েছে।

  • সর্বশেষ