আন্তর্জাতিক ডেস্ক : কর্মীদের বিক্ষোভ, তীব্র জনবল সংকট এবং মার্কিন জ্বালানি সরবরাহকারী বিমানগুলোর উপস্থিতির কারণে বিমানবন্দরে পার্কিং ও অবতরণের জায়গার সংকট দেখা দেওয়ায় অধিকৃত ভূখণ্ডের বেন-গুরিয়ন বিমানবন্দর বন্ধ হয়ে গেছে।
ইরানের বার্তা সংস্থা ইরনার বরাতে পার্সটুডে জানিয়েছে, ইসরায়েলি টেলিভিশন চ্যানেল কান-১১-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, শ্রমিক অসন্তোষ তীব্র হওয়া এবং কর্মীদের কাজ বন্ধ করে দেওয়ার পর বেন-গুরিয়ন বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে ইসরায়েলি ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে নতুন করে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে।
ইসরায়েলি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শ্রমিক কমিটির তত্ত্বাবধানে কর্মক্ষেত্রে ‘ব্যাঘাত’ সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে বিমান সংস্থাগুলোকে জানানো হয়েছে যে স্থানীয় সময় দুপুর ২টা থেকে বিমান অবতরণ বন্ধ থাকবে।
কান-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিমান থেকে যাত্রীদের লাগেজ ওঠানো-নামানোর দায়িত্বে থাকা কর্মীরা জনবল সংকট ও কাজের চাপ ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ায় প্রতিবাদে নামেন। এর ফলে চেক-ইন কাউন্টারও বন্ধ হয়ে যায়, কারণ লাগেজ গ্রহণ ও পরিবহনের জন্য পর্যাপ্ত কর্মী ছিল না।
কান-এর সঙ্গে কথা বলা এক যাত্রী বিমানবন্দরের চরম বিশৃঙ্খলার কথা জানান। তিনি বলেন, লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে আসার পর যাত্রীদের বিমানেই অবস্থান করতে বলা হয়েছিল, কারণ বিমানটিকে যাত্রী ওঠানামার সেতুর সঙ্গে সংযুক্ত করার মতো পর্যাপ্ত কর্মী ছিল না।
এদিকে, ইসরায়েলি পরিবহনমন্ত্রী মিরি রেগেভ, যিনি বর্তমানে ছুটি কাটাতে মরক্কোতে অবস্থান করছেন, বিক্ষোভকারী কর্মীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। তিনি শ্রমিক কমিটির বিরুদ্ধে শ্রম আদালতে মামলা করার নির্দেশ দেন। রেগেভ বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কয়েক হাজার যাত্রীকে ‘জিম্মি’ করার অভিযোগ তুলে বলেন, যারা এই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিতে জড়িত, তাদের ‘চড়া মূল্য’ দিতে হবে।
তবে ইসরায়েলের সাধারণ শ্রমিক ফেডারেশন হিস্তাদ্রুত কাজ বন্ধের নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সংগঠনটি বলেছে, সংকটের মূল কারণ কোনো শ্রমিক সংগঠনের ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত নয়; বরং দীর্ঘদিনের তীব্র জনবল সংকট এবং ব্যবস্থাপনা ও পরিবহন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আগের সতর্কতাগুলো উপেক্ষা করা।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই বেন-গুরিয়ন বিমানবন্দরে ফ্লাইট বিলম্ব, দীর্ঘ সারি এবং লাগেজ পেতে যাত্রীদের দীর্ঘ অপেক্ষার বিষয়ে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
সমালোচনার জবাবে ইসরায়েলি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের প্রধানও বিমানবন্দরের ওপর অতিরিক্ত চাপ এবং বেসামরিক অংশে মার্কিন জ্বালানি সরবরাহকারী বিমানগুলোর উপস্থিতিকে সমস্যার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার মতে, এসব বিমান পার্কিংয়ের জায়গা দখল করে রাখায় বিমানবন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
তিনি আরও সতর্ক করে বলেছেন, বিকল্প একটি বিমানবন্দর চালু করা না হলে ভবিষ্যতে বেন-গুরিয়ন বিমানবন্দর গুরুতর সক্ষমতা সংকটে পড়বে। আর এই সমস্যা সমাধানের জন্য মন্ত্রিসভা পর্যায়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।