শিরোনাম
◈ পর্যটনের ছোঁয়ায় বদলে যাচ্ছে খাগড়াছড়ির পাহাড়ি জনপদের অর্থনীতি ◈ কুয়েতে প্রবাসীদের কোটি টাকা নিয়ে উধাও ‘ইয়েপবিট’ ও ‘বনচ্যাট’ ◈ ইরান সংঘাতে দ্রুত ফুরাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ◈ রোহিঙ্গা ইস্যুতে নতুন কৌশল, আন্তর্জাতিক চাপেই সমাধান খুঁজছে বাংলাদেশ ◈ ভারতের বাংলা‌দেশ সফর নিশ্চিতে সরকারের সহায়তা চাইলো বিসিবি ◈ ফজলুর রহমানের কাঁধে এবার নতুন দায়িত্ব ◈ তারেক রহমানের ব্রিকস আমন্ত্রণ নিয়ে প্রশ্ন, এড়িয়ে গেলেন জয়সওয়াল ◈ প্রতিমন্ত্রীর ভিডিও ভাইরাল, মুখ খুললেন সেই তরুণী (ভিডিও) ◈ সিলেটে এনসিপির গাড়িবহরে ফের হামলা, আহত নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী (ভিডিও) ◈ ছুটির দিনে নিজেই গাড়ি চালিয়ে রাজধানীর সড়ক পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

প্রকাশিত : ০১ আগস্ট, ২০২৬, ০৭:৫৮ সকাল
আপডেট : ০১ আগস্ট, ২০২৬, ০৯:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ইরান সংঘাতে দ্রুত ফুরাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র

ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী যুদ্ধবিরতি ভেঙে নতুন করে শুরু হওয়া সংঘাত বিশ্বজুড়ে নতুন সংকটের জন্ম দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে তেহরানের ঘনঘন মিসাইল ও ড্রোন হামলা প্রতিরোধ করতে গিয়ে মার্কিন সামরিক বাহিনীর আকাশ প্রতিরক্ষা মিসাইলের মজুত আশঙ্কাজনক হারে কমে যাচ্ছে। ফলে যেকোনো বড় ধরনের আঞ্চলিক বা বৈশ্বিক যুদ্ধ সামলানোর ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

মার্কিন সামরিক বাহিনী সম্প্রতি জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহে তেহরান কর্তৃক চালিত একটি আকস্মিক হামলায় ছোঁড়া একাধিক ব্যালিস্টিক মিসাইল আকাশে ধ্বংস করেছে মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। তবে এ ধরনের প্রতিরোধ গড়ে তুলতে গিয়ে মার্কিন বাহিনী তাদের অন্যতম প্রধান আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাÑ‘পেট্রিয়ট’ এবং ‘থাড’-এর ইন্টারসেপ্টর মিসাইল দ্রুত হারিয়ে ফেলছে। মার্কিন সিনেটর ক্রিস ভ্যান হোলেন সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘আমাদের সেনাসদস্যদের সুরক্ষায় অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ইন্টারসেপ্টর মিসাইলের মজুত দ্রুত কমে আসছে। বিশ্বজুড়ে যেখানে আরও সম্ভাব্য সংঘাতের আশঙ্কা রয়েছে, সেখানে প্রতিদিন আমাদের এই অস্ত্র ভা-ার খালি হওয়া চরম উদ্বেগের।’ গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ’-এর সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বিগত পাঁচ মাসের লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ২,৩০০টিরও বেশি পেট্রিয়ট এবং ৪৫০টিরও বেশি থাড ইন্টারসেপ্টর মিসাইলের মজুত কমে প্রায় অর্ধেক বা তারও নিচে নেমে এসেছে। থিংক ট্যাংকটির সতর্কবার্তা অনুযায়ী, এই মিসাইলের ঘাটতি প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীনের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক যুদ্ধপ্রস্তুতিকে মাঝারি থেকে দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।

কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের পাল্টা হামলা : যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পাল্টা আঘাত হেনেছে ইরান। গতকাল দেশটির সশস্ত্র বাহিনী কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ‘আহমদ আল-জাবের’ এয়ারবেসে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। ইরানের আধা-সরকারি সংস্থা তাসনিম বার্তা সংস্থার বরাতে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্রের আগের দিনের হামলার জবাবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদনে জানা যায়, কুয়েতের ওই মার্কিন ঘাঁটির ড্রোন হ্যাঙ্গার, স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং সরঞ্জাম গুদাম লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়। ইরানের দাবি, সম্প্রতি কিসম দ্বীপে একটি আবাসিক ভবনে মার্কিন হামলার জবাবে তারা এই পদক্ষেপ নিয়েছে। কুয়েতের এই কেন্দ্রটি ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের আকাশপথে নজরদারি ও সামরিক অপারেশনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হাব হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। তবে এই হামলায় ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের সুনির্দিষ্ট তথ্য এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি এবং পেন্টাগন বা মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এর আগে বুধবার রাতে ইরানের বিভিন্ন স্থানে একযোগে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। কিসম দ্বীপে একটি আবাসিক ভবনে মার্কিন হামলায় তিনজন নিহত হন। এ ছাড়া পারস্য উপসাগরীয় ফার্স প্রদেশ, কিশ দ্বীপ, বুশেহর, খুজেনস্তান এবং হরমোজগান প্রদেশে বিকট বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়। এই হামলার পর আইআরজিসি কঠোর প্রতিশোধের অঙ্গীকার করে। অন্যদিকে, জর্ডান সেনাবাহিনী বৃহস্পতিবার সকালে ইরান থেকে ছোড়া পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই ধ্বংস করার দাবি করেছে। পাশাপাশি কুয়েতে একটি চীনা প্রতিষ্ঠানের ভবনে হামলায় একজন শ্রমিক নিহত হলেও এতে কোনো চীনা নাগরিক ক্ষতিগ্রস্ত হননি বলে জানিয়েছে বেইজিং।
৩ কৌশল নিয়ে আলোচনা ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর : ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণ এবং মধ্যপ্রাচ্যের চরম অচলাবস্থা নিরসনে তিনটি সম্ভাব্য পথ বা বিকল্প কৌশল নিয়ে আলোচনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। রয়টার্সকে উদ্ধৃত করে এক জ্যেষ্ঠ ইসরাইলি কর্মকর্তা এ কথা জানিয়েছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, গত মঙ্গলবার দুই নেতার মধ্যকার বৈঠকে কূটনৈতিক সমঝোতা, অর্থনৈতিক অবরোধ ও চাপ বৃদ্ধি এবং ইরানে বড় ধরনের সামরিক হামলাÑএই তিন বিকল্প নিয়ে আলোচনা হয়। ইসরাইলি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই তিন পথের যেকোনো একটির মাধ্যমে চলমান সংকট সমাধানের পথ দেখছেন। বৈঠকে নেতানিয়াহু সরাসরি ইরানের ওপর নতুন হামলার জন্য তাৎক্ষণিক চাপ সৃষ্টি না করলেও, ট্রাম্পের প্রস্তাবিত পরিকল্পনার সাথে নতুন কিছু কৌশলগত ধারণা যুক্ত করেছেন। উক্ত কর্মকর্তা মন্তব্য করেন, ইরানের সাথে চলমান এই দ্বন্দ্বে ট্রাম্প মূলত ‘সিনিয়র পার্টনার’ (প্রধান অংশীদার) হিসেবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন, আর নেতানিয়াহু পালন করছেন ‘জুনিয়র পার্টনার’-এর ভূমিকা।

চীন, ভারত ও রাশিয়ার প্রতিষ্ঠানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা : ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) এবং বিমান সংস্থা ‘মাহান এয়ার›-কে সামরিক ও লজিস্টিক সহায়তা দেওয়ার অভিযোগে চীন, ভারত, রাশিয়া ও ইরানের মোট ছয়টি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির ওপর নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। গতকাল মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের ‘অফিস অব ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল’ (ওএফএসি) এই নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করে।

মার্কিন অর্থ দপ্তরের তথ্যমতে, এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান মাহান এয়ারের সাধারণ বিক্রয় প্রতিনিধি এবং লজিস্টিক সহায়তাকারী হিসেবে কাজ করছিল। আইআরজিসির আঞ্চলিক সামরিক তৎপরতা বিঘিœত করতেই ওয়াশিংটন এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। মাহান এয়ার নিজেকে বেসামরিক বিমান সংস্থাক হিসেবে দাবি করলেও যুক্তরাষ্ট্র এটিকে আইআরজিসির অস্ত্র, সরঞ্জাম ও সেনা পরিবহনের মাধ্যম হিসেবে অভিযুক্ত করে বহু বছর আগে থেকেই নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রেখেছে। নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট এক বিবৃতিতে বলেন, “যারা আইআরজিসি কিংবা মাহান এয়ারকে লজিস্টিক, বাণিজ্যিক বা আর্থিক সেবা দিচ্ছে, তারা মূলত একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে টিকিয়ে রাখতে সাহায্য করছে। মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ এসব নেটওয়ার্ক উন্মোচন অব্যাহত রাখবে এবং তাদেরকে যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক ব্যবস্থা থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করবে।”

সূত্র : আল-জাজিরা, রয়টার্স, তাস।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়