শিরোনাম
◈ নিউইয়র্কে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজকে প্রবাসীদের কটূক্তি ও হেনস্তার অভিযোগ (ভিডিও) ◈ ককটেল বিস্ফোরণ: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন ডিএমপি ◈ সরকারি চাকরিতে মামলা চললে পদোন্নতি নয়, দণ্ড শেষেও দুই বছর অপেক্ষা ◈ ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে তিন জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১২৬৫ ◈ জাতিসংঘ অধিবেশনে মোদি অনুপস্থিত কেন, ভারতের কূটনীতিতে কী বার্তা? ◈ নেতানিয়াহুর ভাষণের সময় বাংলাদেশসহ ৭৭ দেশের ওয়াকআউট ◈ নভেম্বরের মাঝামাঝি হতে পারে এইচএসসির ফল প্রকাশ  ◈ মহেশখালীতে এলএনজি স্থানান্তর শুরু, দেশে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি ◈ দেশের সব ইউনিয়নের হাট-বাজারে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের নির্দেশ সরকারের ◈ জরুরি নির্দেশনা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চলাচলকারীদের জন্য

প্রকাশিত : ০৯ জুলাই, ২০২৬, ০৩:০৪ দুপুর
আপডেট : ২১ আগস্ট, ২০২৬, ০৩:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

বন্যার পানিতে ভেসে গেল খামার, বিষধর গোখরাসহ পালাল শত শত সাপ

চীনের দক্ষিণাঞ্চলের গুয়াংজি ঝুয়াং স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের হেংঝৌ শহরের একটি গ্রামে বন্যার পানিতে একটি সাপের খামার ধ্বংস হয়ে যাওয়ার পর সেখান থেকে প্রায় ৮০০–৯০০টি সাপ পালিয়ে গেছে। পালিয়ে যাওয়া সাপগুলোর মধ্যে বিষধর গোখরা বা গোখরাও রয়েছে। এ ঘটনায় কয়েকজন গ্রামবাসী সাপের কামড়ে অসুস্থ হয়েছেন বলে স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

চীনা গণমাধ্যম গ্লোবাল টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টাইফুন মায়সাকের প্রভাবে গুয়াংজি অঞ্চলে টানা ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। এর ফলে নাননিংয়ের অধীন হেংঝৌ এলাকার একাধিক জলাধারে জরুরি পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

গত মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া স্ক্রিনশট ও ভিডিওতে দাবি করা হয়, হেংঝৌ শহরের ইউনবিয়াও টাউনশিপের দেংওয়েই গ্রামের একটি সাপের খামার বন্যার পানিতে ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় বিপুল সংখ্যক সাপ আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। এসব পোস্টে স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরও দাবি করা হয় যে বন্যার পানিতে আটকে পড়া কয়েকজন গ্রামবাসী সাপের কামড়ে অসুস্থ হয়েছেন এবং তাঁরা চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রীর সংকটে ভুগছেন।

advertisement

দেংওয়েই গ্রামের কমিটির প্রধান উ ঝি মঙ্গলবার দুপুরে স্থানীয় রেড স্টার নিউজকে বলেন, ঘটনাটি ঘটে গত ৬ জুলাই সকালে। তাঁর ভাষ্য, প্রাথমিক হিসাব বলছে, বন্যার পানিতে খামারটি ভেসে যাওয়ার পর প্রায় ৮০০ থেকে ৯০০টি সাপ পালিয়ে যায়। এখন পর্যন্ত একজন গ্রামবাসী সাপের কামড়ে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে জরুরি চিকিৎসা নিচ্ছেন। উ ঝি জানান, পালিয়ে যাওয়া সব সাপ বিষধর নয়। এর একটি বড় অংশই বিষহীন জলসাপ।

ইউনবিয়াও টাউনশিপের শেন পদবিধারী এক বাসিন্দা জানান, ওই টাউনশিপে নিচু এলাকা এবং পাহাড়ি ঢাল উভয় স্থানেই সাপের খামার রয়েছে। তাঁর মতে, লিউলান জলাধার ও ইউনবিয়াও জলাধারের বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় নিচু এলাকাগুলো প্লাবিত হয়েছে। এর ফলে কয়েকটি ছোট আকারের সাপের খামার থেকে সাপ আশপাশে ছড়িয়ে পড়েছে। তিনি আরও বলেন, বন্যার পানিতে আটকে পড়া কয়েকজন গ্রামবাসী সত্যিই সাপের কামড়ে অসুস্থ হয়েছেন। তবে তাঁরা বিচ্ছিন্ন অবস্থায় আটকে থাকায় সময়মতো চিকিৎসা নিতে পারেননি।

স্থানীয় সাপচাষি লেই নামে এক ব্যক্তি জানান, তাঁর খামারটি উঁচু স্থানে হওয়ায় সেটি এখন পর্যন্ত বন্যার ক্ষতির বাইরে রয়েছে। তিনি জানান, স্থানীয় খামারগুলোতে মূলত তিন ধরনের সাপ পালন করা হয়। যথা—গোখরা, কিং র‍্যাট স্নেক এবং জলসাপ। এর মধ্যে কেবল গোখরাই বিষধর। তাঁর ধারণা, নিচু এলাকায় অবস্থিত ছোট ছোট খামার থেকে বিপুল সংখ্যক সাপ পালিয়ে গিয়ে থাকতে পারে। তবে তিনি বলেন, এলাকার অধিকাংশ খামারি সাপ পাহাড়ি বনাঞ্চলে থাকে এবং দীর্ঘ সময় পানির নিচে ডুবে থাকলে সেগুলোর বেশিরভাগই মারা যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

হেংঝৌ জরুরি ব্যবস্থাপনা ব্যুরোর এক কর্মকর্তা মঙ্গলবার বিকেলে গ্লোবাল টাইমসকে জানান, একটি সাপের খামার ধ্বংস হয়ে যাওয়া এবং কয়েকজন গ্রামবাসী সাপের কামড়ে অসুস্থ হওয়ার খবর তাঁদের জানা রয়েছে। বিষয়টি ইতোমধ্যে সামনের সারির উদ্ধারকর্মীদের জানানো হয়েছে এবং উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত নতুন কোনো অগ্রগতির তথ্য তাঁদের কাছে পৌঁছেনি। বিস্তারিত তথ্য পরে সরকারি ঘোষণার মাধ্যমে জানানো হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এদিকে দেংওয়েই গ্রামের প্রধান উ ঝি জানান, ঘটনার পর বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত না হওয়া আশপাশের গ্রামের এক ডজনেরও বেশি বাসিন্দা স্বেচ্ছায় একটি বেসামরিক সাপ ধরার দল গঠন করেছেন। তাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় প্রবেশ করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সাপ ধরছেন, যাতে আরও সাপের কামড়ের ঘটনা এড়ানো যায়।

উ ঝি বলেন, দলের সদস্যরা মূলত মাছ ধরার সরঞ্জাম এবং বৈদ্যুতিক মাছ ধরার যন্ত্র ব্যবহার করে সাপ ধরছেন। তাঁর ভাষ্য, অধিকাংশ সাপ ইতোমধ্যেই বন্যার পানিতে ভেসে গেছে। বর্তমানে কেবল অল্প কিছু সাপ স্থির হয়ে থাকা বন্যার পানির ওপর ভাসমান আবর্জনা ও ধ্বংসাবশেষে রয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে এখন পর্যন্ত যে সাপগুলো ধরা হয়েছে, তার বেশিরভাগই বিষহীন জলসাপ।

তিনি আরও জানান, গ্রামবাসীদের সতর্ক করে ইতোমধ্যে নোটিশ জারি করা হয়েছে। যাঁদের পেশাদারভাবে সাপ ধরার দক্ষতা নেই, তাঁদের নিজেরা সাপ ধরার চেষ্টা না করার আহ্বান জানানো হয়েছে। উ ঝি বলেন, কোনো বাসিন্দা যদি নিজের বাড়িতে সাপ দেখতে পান, তাহলে তাঁরা যেন সঙ্গে সঙ্গে গ্রাম কমিটিকে খবর দেন। এরপর প্রশিক্ষিত পেশাদার কর্মীরাই সাপ উদ্ধারের কাজ পরিচালনা করবেন।

 

  • সর্বশেষ