শিরোনাম
◈ আগামী পাঁচ দিনে বাড়তে পারে পদ্মাসহ বড় নদীগুলোর পানি ◈ আজ আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির প্রথম জানাজা, লাখো মানুষের ঢল ◈ ‘ভেবেছিলাম মানুষ খামেনিকে ঘৃণা করে’ : ইরানিদের শোক দেখে বিস্মিত ট্রাম্প ◈ ইউক্রেনীয় ড্রোন ঠেকাতে রুশ সেনাদের হাতে বিশেষ ‘ড্রোন কিলার’ বুলেট ◈ আমাকে বিচার করার যোগ্যতা কারও নেই, বল‌লেন ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি ◈ যুব বিশ্বকাপের জন্য ৩০ ক্রিকেটার নিয়ে ক্যাম্প শুরু হচ্ছে  ◈ রাখাইনে সংঘর্ষে উদ্বেগ, নতুন রোহিঙ্গা ঢল ঠেকাতে সীমান্তে কড়াকড়ি ◈ প্রেমের সম্পর্ক থেকে মানবপাচার, উদ্বেগ বাড়াচ্ছে নতুন কৌশল ◈ প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের দাবির বাস্তবায়ন, ফিরছে সিলেট-ম্যানচেস্টার ফ্লাইট ◈ মস্কোকে 'বাঁচাতে' ড্রোন অপারেটর খুঁজছে রাশিয়া চাকরির ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিয়ে, বেতন দেড় লাখ রুবল

প্রকাশিত : ০৫ জুলাই, ২০২৬, ০৯:৫৯ সকাল
আপডেট : ০৫ জুলাই, ২০২৬, ১০:৫৪ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ইউক্রেনীয় ড্রোন ঠেকাতে রুশ সেনাদের হাতে বিশেষ ‘ড্রোন কিলার’ বুলেট

ইউক্রেনীয় ড্রোন ঠেকাতে এবার সম্পূর্ণ নতুন এক চাল চালল রাশিয়া। রুশ রাষ্ট্রীয় প্রতিরক্ষা সংস্থা রোসটেক তাদের হাই প্রিসিশন সিস্টেমস সাবসিডিয়ারির মাধ্যমে তৈরি বিশেষ এক ধরণের অ্যান্টি-ড্রোন কার্তুজ ‘ম্নোগোতোচিয়ে’ বা "এলিপসিস" সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠাতে শুরু করেছে। ৩ জুলাই ২০২৬ তারিখে রোসটেক আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা দেয় এবং জানিয়েছে যে সম্মুখসমরের সেনাদের জন্য ইতিমধ্যেই এর প্রথম ব্যাচ পৌঁছে গেছে।

সাধারণত যুদ্ধের মাঠে ছোট, দ্রুতগতির এফপিভি ড্রোনগুলোকে সাধারণ রাইফেল দিয়ে গুলি করে নামানো অসম্ভব বললেই চলে। এই সমস্যার সমাধান হিসেবেই তৈরি হয়েছে ‘ম্নোগোতোচিয়ে’।

এটি সাধারণ কোনো বুলেটের মতো এক লাইনে ছুটে যায় না। বন্দুকের নল থেকে বের হওয়ার পর এই বুলেটের ভেতরে থাকা তিনটি ব্রোঞ্জ-অ্যালয় উপাদান আলাদা হয়ে যায় এবং আকাশে একটি ক্ষুদ্র 'বুলেট মেঘ' বা স্প্রে তৈরি করে। ফলে ড্রোন লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়।

ম্নোগোতোচিয়ের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, এর জন্য সেনাদের আলাদা কোনো বিশেষ শটগান বা ভারী প্রযুক্তি বহন করতে হবে না। রুশ সেনাদের কাছে থাকা সাধারণ কালাশনিকভ রাইফেল এবং স্নাইপার রাইফেলেই এটি ব্যবহার করা যাবে। কার্তুজটি ৫.৪৫×৩৯ মিমি (এসসি ২২৬) এবং ৭.৬২×৫৪ মিমি (এসসি ২২৮) ক্যালিবারে তৈরি করা হয়েছে।

রোসটেকের দাবি অনুযায়ী, এই নতুন মাল্টি-এলিমেন্ট ডিজাইন ব্যবহার করায় সাধারণ বুলেটের তুলনায় ড্রোন ধ্বংস করার ক্ষমতা প্রায় ২.৫ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

৫.৪৫ মিমি (এসসি ২২৬): এই হালকা ক্যালিবারের কার্তুজটির কার্যকর দূরত্ব বা রেঞ্জ হচ্ছে ১০০ থেকে ১৫০ মিটার (পরিস্থিতির ওপর নির্ভরশীল)। পরীক্ষা চলাকালীন দেখা গেছে, এটি ৫০ মিটার দূর থেকে একটি ২৫ মিলিমিটার পুরু কাঁচা পাইন কাঠের তক্তা এবং তার ওপর লাগানো প্রায় ০.৮ মিলিমিটার পুরু স্টিলের শিট সম্পূর্ণ ভেদ করে চলে যেতে সক্ষম।

৭.৬২ মিমি (এসসি ২২৮): তুলনামূলক বড় এই ক্যালিবারের কার্তুজটির কার্যকর রেঞ্জ ১৫০ মিটারেরও বেশি, যা ৩০০ মিটার দূরত্ব পর্যন্ত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে। ভেদনক্ষমতার দিক থেকে এটি ১০০ মিটার দূরত্বে একই রকম ২৫ মিলিমিটার পাইন কাঠ ও ০.৮ মিলিমিটার স্টিলের শিটের স্তর অনায়াসে ভেদ করতে পারে।

সাধারণ রাইফেল দিয়ে আকাশে ড্রোনকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে, সেই গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে ২ থেকে ৩ কিলোমিটার দূরে কোনো বেসামরিক নাগরিক বা বাড়িঘরের ওপর গিয়ে পড়ার বড় ঝুঁকি থাকে। কিন্তু রোসটেকের প্রকৌশলীরা এই বুলেটে বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করেছেন। ৫০০ মিটারের বেশি দূরত্ব অতিক্রম করার পর এই ছোট ছোট স্প্লিন্টারগুলো বাতাসের বাধায় দ্রুত গতি ও শক্তি হারিয়ে ফেলে। ফলে এটি জনবহুল বা শহুরে এলাকায় ব্যবহারের জন্য অত্যন্ত নিরাপদ।

মজার ব্যাপার হলো, শুধু রাশিয়াই এই প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে না। একই ধরনের একটি অ্যান্টি-ড্রোন কার্তুজ নিয়ে মার্কিন সেনাবাহিনীও গবেষণা ও পরীক্ষা চালাচ্ছে, যা তারা ২০২৬ সালের এপ্রিলে তাদের বিশেষ বাহিনীর সাথে পরীক্ষা করেছে। ইউক্রেন যুদ্ধে সস্তা ড্রোনের ব্যাপক ব্যবহার বিশ্বযুদ্ধের কৌশল এতটাই বদলে দিয়েছে যে, চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই পরাশক্তি (রাশিয়া ও আমেরিকা) এখন বাধ্য হয়ে একই ধরণের প্রতিরক্ষামূলক সমাধান তৈরি করছে। 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়