শিরোনাম
◈ বাংলাদেশের বিদ্যুৎ সংকট কাটবে কীভাবে? ◈ সৌদি-পাকিস্তান-তুরস্ক সামরিক জোটে বাংলাদেশের সম্ভাব্য যোগদান নিয়ে যা বলছে ভারত ◈ রাজস্থানে ককরোচ পার্টির ওপর হামলা, বিজেপির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ ◈ তারেক রহমানের সফরের প্রস্তুতির খবর দিয়ে আবার প্রত্যাহার করল ভারত ◈ মন্ত্রিসভায় যুক্ত হচ্ছেন আরও চারজন, শপথ আজ সন্ধ্যায় ◈ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য সরকারের নির্দেশনা ◈ শিক্ষা খাতে সবচেয়ে বড় বাজেট বাস্তবায়ন করেছে বিএনপি সরকার: অর্থমন্ত্রী ◈ জিন্নাহর গোপন রোগের তথ্য ফাঁস, ৭৯ বছর পর পুরস্কৃত দুই চিকিৎসক ◈ জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানালেন নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি ◈ ইতালি রোমের আলোচিত ঘটনা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে যা বললেন নগরবাউল জেমস!

প্রকাশিত : ০৫ জুলাই, ২০২৬, ০৯:৫৯ সকাল
আপডেট : ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ১০:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ইউক্রেনীয় ড্রোন ঠেকাতে রুশ সেনাদের হাতে বিশেষ ‘ড্রোন কিলার’ বুলেট

ইউক্রেনীয় ড্রোন ঠেকাতে এবার সম্পূর্ণ নতুন এক চাল চালল রাশিয়া। রুশ রাষ্ট্রীয় প্রতিরক্ষা সংস্থা রোসটেক তাদের হাই প্রিসিশন সিস্টেমস সাবসিডিয়ারির মাধ্যমে তৈরি বিশেষ এক ধরণের অ্যান্টি-ড্রোন কার্তুজ ‘ম্নোগোতোচিয়ে’ বা "এলিপসিস" সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠাতে শুরু করেছে। ৩ জুলাই ২০২৬ তারিখে রোসটেক আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা দেয় এবং জানিয়েছে যে সম্মুখসমরের সেনাদের জন্য ইতিমধ্যেই এর প্রথম ব্যাচ পৌঁছে গেছে।

সাধারণত যুদ্ধের মাঠে ছোট, দ্রুতগতির এফপিভি ড্রোনগুলোকে সাধারণ রাইফেল দিয়ে গুলি করে নামানো অসম্ভব বললেই চলে। এই সমস্যার সমাধান হিসেবেই তৈরি হয়েছে ‘ম্নোগোতোচিয়ে’।

এটি সাধারণ কোনো বুলেটের মতো এক লাইনে ছুটে যায় না। বন্দুকের নল থেকে বের হওয়ার পর এই বুলেটের ভেতরে থাকা তিনটি ব্রোঞ্জ-অ্যালয় উপাদান আলাদা হয়ে যায় এবং আকাশে একটি ক্ষুদ্র 'বুলেট মেঘ' বা স্প্রে তৈরি করে। ফলে ড্রোন লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়।

ম্নোগোতোচিয়ের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, এর জন্য সেনাদের আলাদা কোনো বিশেষ শটগান বা ভারী প্রযুক্তি বহন করতে হবে না। রুশ সেনাদের কাছে থাকা সাধারণ কালাশনিকভ রাইফেল এবং স্নাইপার রাইফেলেই এটি ব্যবহার করা যাবে। কার্তুজটি ৫.৪৫×৩৯ মিমি (এসসি ২২৬) এবং ৭.৬২×৫৪ মিমি (এসসি ২২৮) ক্যালিবারে তৈরি করা হয়েছে।

রোসটেকের দাবি অনুযায়ী, এই নতুন মাল্টি-এলিমেন্ট ডিজাইন ব্যবহার করায় সাধারণ বুলেটের তুলনায় ড্রোন ধ্বংস করার ক্ষমতা প্রায় ২.৫ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

৫.৪৫ মিমি (এসসি ২২৬): এই হালকা ক্যালিবারের কার্তুজটির কার্যকর দূরত্ব বা রেঞ্জ হচ্ছে ১০০ থেকে ১৫০ মিটার (পরিস্থিতির ওপর নির্ভরশীল)। পরীক্ষা চলাকালীন দেখা গেছে, এটি ৫০ মিটার দূর থেকে একটি ২৫ মিলিমিটার পুরু কাঁচা পাইন কাঠের তক্তা এবং তার ওপর লাগানো প্রায় ০.৮ মিলিমিটার পুরু স্টিলের শিট সম্পূর্ণ ভেদ করে চলে যেতে সক্ষম।

৭.৬২ মিমি (এসসি ২২৮): তুলনামূলক বড় এই ক্যালিবারের কার্তুজটির কার্যকর রেঞ্জ ১৫০ মিটারেরও বেশি, যা ৩০০ মিটার দূরত্ব পর্যন্ত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে। ভেদনক্ষমতার দিক থেকে এটি ১০০ মিটার দূরত্বে একই রকম ২৫ মিলিমিটার পাইন কাঠ ও ০.৮ মিলিমিটার স্টিলের শিটের স্তর অনায়াসে ভেদ করতে পারে।

সাধারণ রাইফেল দিয়ে আকাশে ড্রোনকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে, সেই গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে ২ থেকে ৩ কিলোমিটার দূরে কোনো বেসামরিক নাগরিক বা বাড়িঘরের ওপর গিয়ে পড়ার বড় ঝুঁকি থাকে। কিন্তু রোসটেকের প্রকৌশলীরা এই বুলেটে বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করেছেন। ৫০০ মিটারের বেশি দূরত্ব অতিক্রম করার পর এই ছোট ছোট স্প্লিন্টারগুলো বাতাসের বাধায় দ্রুত গতি ও শক্তি হারিয়ে ফেলে। ফলে এটি জনবহুল বা শহুরে এলাকায় ব্যবহারের জন্য অত্যন্ত নিরাপদ।

মজার ব্যাপার হলো, শুধু রাশিয়াই এই প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে না। একই ধরনের একটি অ্যান্টি-ড্রোন কার্তুজ নিয়ে মার্কিন সেনাবাহিনীও গবেষণা ও পরীক্ষা চালাচ্ছে, যা তারা ২০২৬ সালের এপ্রিলে তাদের বিশেষ বাহিনীর সাথে পরীক্ষা করেছে। ইউক্রেন যুদ্ধে সস্তা ড্রোনের ব্যাপক ব্যবহার বিশ্বযুদ্ধের কৌশল এতটাই বদলে দিয়েছে যে, চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই পরাশক্তি (রাশিয়া ও আমেরিকা) এখন বাধ্য হয়ে একই ধরণের প্রতিরক্ষামূলক সমাধান তৈরি করছে। 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়