শিরোনাম
◈ ভারতীয় ক্রিকেট বো‌র্ডের কথায় উঠ‌বস আইসিসির: সাইমন হার্মার ◈ অবৈধভাবে মানব পাচারের অভিযোগে প্রথমবার বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানের ওপর ব্রিটিশ নিষেধাজ্ঞা! ◈ মার্কিন প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে ইরান, ট্রাম্প বলছেন ‘যুদ্ধ বেশিদিন চলবে না’ ◈ অনিশ্চয়তায় বিজয়ের সরকার গঠন: তামিলনাড়ুতে পুনর্নির্বাচনের দাবি জোহো প্রতিষ্ঠাতা ভেম্বুর ◈ বিপুল অ‌ঙ্কের বকেয়া আদায়ে ফ্রাঞ্চাইজি‌দের আইনি নো‌টিস পাঠা‌লো পিসিবি ◈ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর চীন সফরে তিস্তার ওপর বিশেষ গুরুত্ব, কী আছে মহাপরিকল্পনায় ◈ কোথায় হবে আইপিএলের ফাইনাল? সিদ্ধান্তহীনতায় বি‌সি‌সিআই ◈ দেশের ১৮ অঞ্চলে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ের শঙ্কা, নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত ◈ নিজেই গাড়ি চালিয়ে অনুষ্ঠানে গেলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান (ভিডিও) ◈ জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে ভারতে তেল পরিশোধনের পরিকল্পনা সরকারের

প্রকাশিত : ০৭ মে, ২০২৬, ০৯:১৫ সকাল
আপডেট : ০৭ মে, ২০২৬, ১১:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

মেলানিয়া ট্রাম্পের উদ্দেশে আবেগঘন বার্তা আফগান কিশোরীর

কাতারের একটি মার্কিন পরিচালিত শরণার্থীশিবিরে থাকা এক আফগান কিশোরী যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের কাছে আবেগঘন আবেদন জানিয়েছেন। ১৪ বছর বয়সি জাহরা নামের ওই কিশোরী বলেছেন—তারা শুধু একটি নিরাপদ জীবন, শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ এবং উজ্জ্বল ভবিষ্যতের একটি সুযোগ চায়।

জাহরা গত দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে কাতারের দোহা শহরের বাইরে অবস্থিত ‘আস সাইলিয়াহ’ ক্যাম্পে বসবাস করছেন। তার বাবা ছিলেন আফগান সেনাবাহিনীর একজন কর্মকর্তা, যিনি ২০২১ সালের আগস্টে তালেবান ক্ষমতা দখলের আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো বাহিনীর সঙ্গে কাজ করেছেন। কিন্তু সরকার পতনের পর জাহরা ও তার পরিবারের জীবন অনিশ্চয়তায় পড়ে যায়।

বর্তমানে শিবিরটিতে প্রায় এক হাজার ১০০ আফগান আশ্রয়প্রার্থী রয়েছেন, যাদের অনেকেই ন্যাটো মিশনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সম্প্রতি উদ্বেগ দেখা দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে পুনর্বাসনের একটি কর্মসূচি স্থগিত হওয়ায় তাদের তৃতীয় কোনো দেশে পাঠানো হতে পারে। 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাদের মধ্য আফ্রিকার দেশ কঙ্গোতে স্থানান্তরের সম্ভাবনাও রয়েছে।

এই সম্ভাবনার কথা শুনে শিবিরে বসবাসকারীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। জাহরা তার ভিডিও বার্তায় বলেন, ‘আমরা বড় কিছু চাই না—শুধু শান্তিপূর্ণ জীবন, ভালো শিক্ষা এবং একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ চাই।’ 

তিনি আরও অনুরোধ করেন, তার এই বার্তা যেন ফার্স্ট লেডির কাছে পৌঁছে এবং তারা যেন এই সংকটময় পরিস্থিতিতে ভুলে না যান।

দুই মিনিটের ওই ভিডিওতে জাহরা নিজের কষ্টের কথা তুলে ধরে বলেন, গত চার বছর ধরে তিনি কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ পাননি। তালেবান শাসনে মেয়েদের স্কুলে যাওয়া নিষিদ্ধ হওয়ায় আগেই তার পড়াশোনা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এরপর শরণার্থীশিবিরে দীর্ঘ অনিশ্চয়তা তার মানসিক চাপ আরও বাড়িয়েছে। 

তিনি জানান, এই পরিস্থিতি সামাল দিতে তাকে ওষুধও নিতে হচ্ছে।

শিবিরে থাকা অনেকেই মার্কিন সেনাবাহিনীর দোভাষী বা সহযোগী হিসেবে কাজ করেছেন। এমনকি কিছু মার্কিন সেনাসদস্যের পরিবারও সেখানে রয়েছে। আফগান পুনর্বাসন নিয়ে কাজ করা একটি সংগঠনের প্রধান শন ভ্যানডিভার বলেন, ‘এসব মানুষ যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধকালীন মিত্র। তাদের তৃতীয় দেশে পাঠানো কোনো সমাধান নয়, বরং এটি তাদের ফেরত পাঠানোর একটি কৌশল।’

এর আগে এক সাক্ষাৎকারে জাহরা জানিয়েছিলেন, ইরান-সংঘাতের প্রভাবেও শিবিরে আতঙ্ক বেড়েছে। ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শব্দ ও ধ্বংসাবশেষ তাদের ভীত করে তুলেছে, বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে ভয় ছড়িয়ে পড়েছে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, তারা এখনো শিবিরবাসীদের জন্য স্বেচ্ছা পুনর্বাসনের বিকল্প খুঁজছে। যদিও আলোচনার সংবেদনশীলতার কারণে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি, তবে তৃতীয় দেশে স্থানান্তরকে তারা একটি সম্ভাব্য সমাধান হিসেবে বিবেচনা করছে।

সূত্র: যুগান্তর

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়