যুদ্ধের মধ্যেই নতুন প্রযুক্তিতে বড় অগ্রগতি দেখিয়েছে ইউক্রেন। দেশটি এমন ড্রোন তৈরি করেছে, যা দূর থেকে নিয়ন্ত্রণ করে শত শত এমনকি হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে।
ইউক্রেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভ জানিয়েছেন, এই নতুন ধরনের ‘ইন্টারসেপ্টর ড্রোন’ (শত্রুর আকাশযান বা ড্রোন ভূপাতিত করার জন্য ব্যবহৃত ড্রোন) এখন দূরবর্তী স্থান থেকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
তিনি বলেন, এটি একটি নতুন স্তরের ছোট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, যা যুদ্ধের ধরণ বদলে দিতে পারে। ফেদোরভ দাবি করেন, ইতোমধ্যে এই ড্রোন দিয়ে শত শত ও হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তু ধ্বংসের প্রমাণ মিলেছে। তার ভাষায়, এভাবে দূর থেকে ড্রোন নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবহারে ইউক্রেনই বিশ্বের প্রথম দেশ, যা তারা এখন নিয়মিতভাবে ব্যবহার করছে।
২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার হামলার সময় ইউক্রেনের নিজস্ব ড্রোন তৈরির সক্ষমতা প্রায় ছিল না। কিন্তু এখন দেশটিতে শক্তিশালী ড্রোন শিল্প গড়ে উঠেছে। গত বছরই প্রায় ৪৫ লাখ ড্রোন উৎপাদনের কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ, যা এখন আরও বেড়েছে।
এই নতুন ব্যবস্থার ফলে প্রতিরক্ষা আরও কার্যকর হচ্ছে। এতে ড্রোন ভূপাতিত করার সফলতা বাড়ে, অপারেটরদের ঝুঁকি কমে এবং সামনের যুদ্ধক্ষেত্রে সরাসরি উপস্থিত না থেকেও কাজ করা যায়।
এদিকে রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে আছে। সম্প্রতি এক বড় হামলায় ১৭ জন নিহত হন। ইউক্রেন জানায়, তারা শত শত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করলেও কিছু লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে।
ইউক্রেন ইউরোপের কয়েকটি দেশের সঙ্গে যৌথভাবে অস্ত্র উৎপাদন করছে। পাশাপাশি সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে ড্রোন প্রতিরক্ষা নিয়ে সহযোগিতা বাড়াচ্ছে।