শিরোনাম
◈ প্রতি তিনজন স্নাতকের একজন বেকার: উদ্বেগ বাড়াচ্ছে শ্রমবাজার ◈ মাথাপিছু বরাদ্দ ৮ হাজার টাকা বাড়লেও বাড়ছে ঋণের দায় ◈ সস্তায় পেয়ে ৩৪ তলায় ফ্ল্যাট কিনেছিলেন, পরে জানলেন বাস্তবে কোনো অস্তিত্বই নেই ◈ বিসিবির প‌রিচালকরা কে কোন ক‌মি‌টির দায়িত্ব পে‌লেন ◈ নির্বাচনের আগে একটি দলকে ইসলামী ব্যাংক ১১ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ◈ পুশইন ঠেকাতে বেনাপোল সীমান্তে দেড়গুণ বাড়ানো হলো বিজিবি মোতায়েন ◈ ইসলামী ব্যাংক ইস্যুতে উত্তপ্ত সংসদ, ব্যাংকটি বিএনপি সরকারের হাতেই সবচেয়ে নিরাপদ: অর্থমন্ত্রী ◈ কী থাকবে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে যুক্ত হতে যাওয়া নতুন চার বিষয়ের মধ্যে? ◈ ২১ বছরের অপেক্ষার অবসান, নাহিদ-মোসাদ্দেকের দাপটে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয় ◈ এবার বাতিল হ‌লো ইরানের জন্য বরাদ্দ থাকা ‌বিশ্বকা‌পের টিকিটও

প্রকাশিত : ১৯ এপ্রিল, ২০২৬, ০৮:২৬ সকাল
আপডেট : ০৯ জুন, ২০২৬, ০৫:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ইরান যুদ্ধে বিশ্ব তেলের বাজারে বড় ধস, ৫০ দিনে ৫০ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি

ইরান যুদ্ধের প্রথম ৫০ দিনে বিশ্ববাজারে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেলের উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে, যার আর্থিক মূল্য প্রায় ৫০ বিলিয়ন (৫ হাজার কোটি) মার্কিন ডলার। কয়েকজন বিশেষজ্ঞ ও বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বিশ্লেষণ বলছে, আধুনিক ইতিহাসের সবচেয়ে বড় এই জ্বালানি সংকটের ধাক্কা বিশ্ব অর্থনীতিকে আগামী কয়েক মাস এমনকি কয়েক বছর পর্যন্ত পোহাতে হতে পারে।

জাহাজ চলাচল বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত বিশ্ববাজার থেকে ৫০ কোটি (৫০০ মিলিয়ন) ব্যালেরের বেশি অপরিশোধিত তেল ও ঘনীভূত জ্বালানি উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। উড ম্যাকেঞ্জির প্রধান বিশ্লেষক ইয়ান মোয়াট এই ক্ষতির গভীরতা বোঝাতে কিছু তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরেছেন। এই পরিমাণ তেল দিয়ে ১০ সপ্তাহ পুরো বিশ্বের বিমান চলাচল চালানো সম্ভব হতো, ১১ দিন পুরো বিশ্বের সব ধরনের সড়ক যোগাযোগ সচল রাখা যেত ও টানা ৫ দিন পুরো বিশ্ব অর্থনীতির মোট জ্বালানি চাহিদা মেটানো সম্ভব ছিল।

রয়টার্সের হিসাবমতে, এই পরিমাণ তেল যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় এক মাসের অথবা পুরো ইউরোপের এক মাসের বেশি সময়ের মোট চাহিদার সমান। এমনকি এটি মার্কিন সামরিক বাহিনীর টানা ছয় বছরের জ্বালানি খরচেরও সমান।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ জোহানেস রাউবালের মতে, যুদ্ধের শুরু থেকে তেলের গড় দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার থাকায় এই ৫০ বিলিয়ন ডলারের লোকসান হয়েছে। এই পরিমাণ অর্থ লাটভিয়া বা এস্তোনিয়ার মতো দেশের মোট জিডিপির সমান অথবা জার্মানির বার্ষিক জিডিপির ১ শতাংশের সমান।

যুদ্ধের ফলে উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর উৎপাদন প্রতিদিন প্রায় ৮০ লাখ ব্যারেল হ্রাস পেয়েছে। সৌদি আরব, কাতার, কুয়েতসহ এই অঞ্চলের দেশগুলোর জেট ফুয়েল রপ্তানি ফেব্রুয়ারি মাসে যেখানে ১৯ দশমিক ৬ মিলিয়ন ব্যারেল ছিল, মার্চ ও এপ্রিল মিলে তা মাত্র ৪ দশমিক ১ মিলিয়ন ব্যারেলে নেমে এসেছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করার ঘোষণা দিলেও জ্বালানি উৎপাদন ও সরবরাহ স্বাভাবিক হতে দীর্ঘ সময় লাগবে। কুয়েত ও ইরাকের ভারী তেলের খনিগুলো স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে অন্তত ৪ থেকে ৫ মাস সময় লাগতে পারে।

সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো, কাতারের রাস লাফান এলএনজি কমপ্লেক্সসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন শোধনাগার ও অবকাঠামোর যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা পুরোপুরি মেরামত করে আগের অবস্থায় ফিরতে কয়েক বছর লেগে যেতে পারে।

সূত্র: আজকের পত্রিকা

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়