শিরোনাম
◈ ধৃষ্টতা সকল সীমা ছাড়িয়েছ’; অভিনেত্রী শাওনকে নিয়ে তাজুল ইসলামের ক্ষোভ ◈ উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন, ভালো চাকরির ফাঁদে বিদেশে গিয়ে সাইবার স্ক্যামে বাধ্য, দেশে ফিরলেন ৩৭ বাংলাদেশি ◈ জুনের প্রথম ১০ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ১২০ কোটি ৩১ লাখ মার্কিন ডলার ◈ দক্ষিণ আফ্রিকায় ঢুকতে গিয়ে বিপাকে ৯ বাংলাদেশি, মিলল ভুয়া পাসপোর্ট-ভিসার প্রমাণ ◈ বিশ্বকাপে দ‌ক্ষিণ কো‌রিয়ার দারুণ সূচনা ◈ আদ্-দ্বীনের হাসপাতাল নয়, বাতিল হয়েছে প্যাথলজি সেন্টারের লাইসেন্স: দাবি আইনজীবী শিশির মনিরের ◈ স্বাস্থ্য খাত ধ্বংস ও হামে শিশুমৃত্যুর জন্য ড. ইউনূসের বিচার চাইলেন শেখ হাসিনা ◈ ‌বিশ্বকা‌পে ব্রাজিল বনাম মর‌ক্কো ম্যাচের রেফা‌রি দেহব্যবসায় জড়িত মামলার আসা‌মি স্লাভকো ভিনচিচ ◈ আ‌মে‌রিকার বিরু‌দ্ধে যুদ্ধ ব‌ন্ধে ইরান এখন পর্যন্ত চুক্তির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়‌নি ◈ ফুটবল বিশ্বকাপের মধ্যেই আজ থে‌কে শুরু হ‌চ্ছে আরো এক বিশ্বকাপ

প্রকাশিত : ০৭ এপ্রিল, ২০২৬, ০৭:৩৫ সকাল
আপডেট : ০৭ জুন, ২০২৬, ০৩:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

বিশ্বের তেল শক্তির মানচিত্র: উৎপাদনে এগিয়ে কোন ১০ দেশ

বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হলো তেল। ২০২৫ সালের বৈশ্বিক উৎপাদনের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, অল্প কয়েকটি দেশের হাতেই তেল উৎপাদনের বড় অংশের নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রীভূত। যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও সৌদি আরবসহ শীর্ষ কয়েকটি দেশ একাই বৈশ্বিক সরবরাহের উল্লেখযোগ্য অংশ জোগান দিচ্ছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের আধিপত্য এখনো তেল বাণিজ্যে অপরিসীম প্রভাব বিস্তার করছে। এই প্রেক্ষাপটে বিশ্বের শীর্ষ তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর অবস্থান, সক্ষমতা ও প্রভাব বিশ্লেষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে বিশ্বের শীর্ষ তেল উৎপাদনকারী দেশ। ২০২৫ সালে দেশটি প্রতিদিন গড়ে ১৩.৫৮ মিলিয়ন ব্যারেল তেল উৎপাদন করেছে, যা বৈশ্বিক উৎপাদনের প্রায় ১৬.০৮ শতাংশ। গত এক দশকে শেল অয়েল বিপ্লবের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি খাতে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। বিশেষ করে টেক্সাস ও নিউ মেক্সিকোর পারমিয়ান বেসিন দেশটির প্রধান উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছে। আধুনিক প্রযুক্তি—হরাইজন্টাল ড্রিলিং ও হাইড্রোলিক ফ্র্যাকচারিং—উৎপাদন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। একসময় আমদানিনির্ভর এই দেশ এখন বিশ্ববাজারে শক্তিশালী রপ্তানিকারক হিসেবে অবস্থান তৈরি করেছে।

রাশিয়া

রাশিয়া দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বের অন্যতম প্রধান তেল উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে পরিচিত। ২০২৫ সালে দেশটি প্রতিদিন প্রায় ৯.৮৭ মিলিয়ন ব্যারেল তেল উৎপাদন করেছে, যা বৈশ্বিক উৎপাদনের ১১.৬৯ শতাংশ। সাইবেরিয়া, উরাল অঞ্চল এবং আর্কটিক এলাকার বিভিন্ন ক্ষেত্র থেকে এই তেল উত্তোলন করা হয়। সোভিয়েত যুগ থেকে গড়ে ওঠা অবকাঠামো এবং আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে দেশটি উৎপাদন সক্ষমতা ধরে রেখেছে। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও রাশিয়া চীন ও ভারতের মতো বাজারে রপ্তানি বাড়িয়ে তেল খাতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখছে।

সৌদি আরব

সৌদি আরব বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী তেল উৎপাদক দেশ। ২০২৫ সালে দেশটির দৈনিক উৎপাদন ছিল ৯.৫১ মিলিয়ন ব্যারেল, যা বৈশ্বিক উৎপাদনের ১১.২৬ শতাংশ। দেশটির তেল খাত সম্পূর্ণরূপে রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি সৌদি আরামকোর মাধ্যমে পরিচালিত হয়, যা বিশ্বের বৃহত্তম তেল কোম্পানি। গাওয়ারের মতো বিশাল তেলক্ষেত্র থেকে দেশটি তেল উত্তোলন করে। ওপেকের অন্যতম শীর্ষ সদস্য হিসেবে সৌদি আরব উৎপাদন নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বিশ্ববাজারে তেলের দাম নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

কানাডা

কানাডা তেল উৎপাদনে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দেশ। ২০২৫ সালে দেশটি প্রতিদিন ৪.৯৪ মিলিয়ন ব্যারেল তেল উৎপাদন করেছে, যা বৈশ্বিক উৎপাদনের ৫.৮৫ শতাংশ। দেশটির প্রধান উৎস হলো আলবার্টা প্রদেশের তেল বালু (Oil Sands), যা ভারী প্রকৃতির এবং উত্তোলন জটিল। কানাডার তেল রপ্তানির প্রধান বাজার যুক্তরাষ্ট্র। দীর্ঘদিন ধরে দুই দেশের মধ্যে শক্তিশালী জ্বালানি বাণিজ্য সম্পর্ক বজায় রয়েছে।

ইরাক

ইরাক মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম প্রধান তেল উৎপাদনকারী দেশ। ২০২৫ সালে দেশটি প্রতিদিন ৪.৩৯ মিলিয়ন ব্যারেল তেল উৎপাদন করেছে, যা বৈশ্বিক উৎপাদনের ৫.২০ শতাংশ। বসরা অঞ্চলের বিশাল তেলক্ষেত্র দেশটির উৎপাদনের মূল উৎস। রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও অবকাঠামোগত চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও ইরাক তেল উৎপাদন অব্যাহত রেখেছে। ওপেকের সদস্য হিসেবে দেশটি বৈশ্বিক তেল বাজারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

চীন

চীন বিশ্বের সর্ববৃহৎ তেল ভোক্তা দেশ হলেও উৎপাদনে তুলনামূলকভাবে কম নির্ভরশীল। ২০২৫ সালে দেশটি প্রতিদিন ৪.৩৪ মিলিয়ন ব্যারেল তেল উৎপাদন করেছে, যা বৈশ্বিক উৎপাদনের ৫.১৪ শতাংশ। উত্তর-পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলে তেল উত্তোলন করা হয়, যেখানে প্রথাগত ও শেল উভয় প্রযুক্তি ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে অভ্যন্তরীণ চাহিদা বেশি হওয়ায় চীন তেল আমদানির ওপর নির্ভরশীল। বৈশ্বিক তেলের চাহিদা ও দামের ওপর চীনের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির বড় প্রভাব রয়েছে।

ইরান

ইরান মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল উৎপাদক দেশ। ২০২৫ সালে দেশটি প্রতিদিন ৪.১৯ মিলিয়ন ব্যারেল তেল উৎপাদন করেছে, যা বৈশ্বিক উৎপাদনের ৪.৯৬ শতাংশ। পার্সিয়ান উপসাগরসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন তেলক্ষেত্র থেকে এই তেল উত্তোলন করা হয়। তবে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি উৎপাদন ও রপ্তানিতে প্রভাব ফেলছে। তবুও ওপেকের সদস্য হিসেবে ইরান বৈশ্বিক তেল বাজারে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান ধরে রেখেছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাত

সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) প্রতিদিন ৩.৮২ মিলিয়ন ব্যারেল তেল উৎপাদন করে, যা বৈশ্বিক উৎপাদনের ৪.৫২ শতাংশ। আবুধাবির বিশাল তেলক্ষেত্র দেশটির প্রধান উৎস। রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি অ্যাডনকের মাধ্যমে তেল খাত পরিচালিত হয়। আধুনিক প্রযুক্তি ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার কারণে দেশটি বৈশ্বিক বাজারে স্থিতিশীল সরবরাহ নিশ্চিত করে। ওপেকের সদস্য হিসেবে ইউএই বিশ্ব তেল বাজারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

ব্রাজিল

ব্রাজিল লাতিন আমেরিকার শীর্ষ তেল উৎপাদক দেশ। ২০২৫ সালে দেশটি প্রতিদিন ৩.৭৫ মিলিয়ন ব্যারেল তেল উৎপাদন করেছে, যা বৈশ্বিক উৎপাদনের ৪.৪৩ শতাংশ। দেশটির প্রধান উৎস হলো গভীর সমুদ্রের প্রিসল্ট তেলক্ষেত্র। উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে এসব তেল উত্তোলন করা হয়। রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি পেট্রোব্রাসসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ব্রাজিল ধীরে ধীরে তেল রপ্তানিতেও প্রবেশ করছে।

কুয়েত

কুয়েত তেল উৎপাদনে ছোট হলেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দেশ। ২০২৫ সালে দেশটি প্রতিদিন ২.৫৮ মিলিয়ন ব্যারেল তেল উৎপাদন করেছে, যা বৈশ্বিক উৎপাদনের ৩.০৫ শতাংশ। বুরগানসহ বিশ্বের বৃহৎ তেলক্ষেত্রগুলো থেকে এই তেল উত্তোলন করা হয়। কুয়েত পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের মাধ্যমে দেশটির তেল খাত পরিচালিত হয়। ওপেকের সদস্য হিসেবে কুয়েত বৈশ্বিক তেল সরবরাহে স্থিতিশীল ও নির্ভরযোগ্য ভূমিকা পালন করে।

সার্বিকভাবে দেখা যায়, বৈশ্বিক তেল উৎপাদন ও সরবরাহ মূলত সীমিত কয়েকটি দেশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে ভারসাম্য, মূল্য নির্ধারণ এবং জ্বালানি নিরাপত্তাকে সরাসরি প্রভাবিত করে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন, মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত অবস্থান এবং রাশিয়ার ভূরাজনৈতিক প্রভাব-সব মিলিয়ে তেলকে শুধু একটি জ্বালানি নয়, বরং একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূরাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। ভবিষ্যতে বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বাড়লেও তেল এখনো বৈশ্বিক অর্থনীতি ও রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে-এটাই বাস্তবতা।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়