শিরোনাম
◈ ইরান যুদ্ধ ঠেকাতে মাঠে চীন-পাকিস্তান, ৫ দফা পরিকল্পনা প্রকাশ ◈ সংবিধান সংশোধনে বিশেষ সংসদীয় কমিটি হচ্ছে ◈ সংবিধান কি মনে করিয়ে দেয় এটা একাত্তরের পরাজয়ের দলিল? প্রশ্ন পার্থের ◈ গাজী আশরাফ লিপুর আনুষ্ঠানিকভাবে দা‌য়িত্ব শেষ হলো, এবার পা‌বেন সম্মাননা ◈ সাবেক খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম ক্যান্সার আক্রান্ত, চিকিৎসার আবেদন করেছেন তার আইনজীবী ◈ বিগত সরকারের দুর্নীতিতে স্থবির স্বাস্থ্যখাত, সেবা উন্নয়নে কাজ করছে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী ◈ জলবায়ু ট্রাস্টের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে : পরিবেশ মন্ত্রী ◈ সেবা না পেয়ে বেশ কিছু শিশু মারা গেছে, বাংলাদেশের হাসপাতালে আইসিইউ এবং ভেন্টিলেশন সেবা কতটা আছে?  ◈ জ্বালানি তেলের দাম নিয়ে সুখবর ◈ স্কুল চলাকালীন যানজট নিরসনে বিকল্প খুঁজতে নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশিত : ৩১ মার্চ, ২০২৬, ০১:৫৮ দুপুর
আপডেট : ০১ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

পরীক্ষামূলক ইরানের স্কুলে এবার নতুন ক্ষেপণাস্ত্র মারল যুক্তরাষ্ট্র, নিহত অন্তত ২১

ইরান-আমেরিকা যুদ্ধের এক ভয়াবহ ও নেপথ্য দিক উন্মোচিত হয়েছে। দক্ষিণ ইরানে একটি স্পোর্টস হল এবং একটি স্কুলে আমেরিকার নবনির্মিত ‘প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইল’ বা ‘প্রিজম’ (PrSM) আঘাত হেনেছে। দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের এক বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। এই হামলায় অন্তত ২১ জন নিহত হয়েছে, যাদের মধ্যে ভলিবল খেলতে আসা একদল কিশোরীও রয়েছে।

রহস্যময় এই ক্ষেপণাস্ত্র কী: প্রিজম বা ‘PrSM’ হলো মার্কিন সেনাবাহিনীর একটি অত্যাধুনিক এবং অত্যন্ত গোপনীয় সারফেস-টু-সারফেস (ভূমি থেকে ভূমি) ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। এটি ২০১৯ সালে ‘ইন্টারমিডিয়েট-রেঞ্জ নিউক্লিয়ার ফোর্সেস’ (আইএনএফ) চুক্তি বাতিলের মাত্র চার মাস পরেই প্রকাশ্যে আসে। পুরোনো ওই চুক্তি অনুযায়ী এই ধরনের স্বল্প ও মধ্যম পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি নিষিদ্ধ ছিল।

পেন্টাগন এখনো এর সঠিক পাল্লা, নির্ভুলতা বা এতে থাকা বিস্ফোরকের পরিমাণ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করেনি। তবে সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি আশির দশকের পুরোনো ‘ATACMS’ ক্ষেপণাস্ত্রের স্থলাভিষিক্ত হতে যাচ্ছে। যেখানে ATACMS-এর রেঞ্জ ছিল ৩০০ কিলোমিটার, সেখানে PrSM দ্বিগুণ দূরত্বে বা ৫০০ কিলোমিটারের বেশি দূরের লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁতভাবে আঘাত হানতে সক্ষম।

ভয়াবহ বেসামরিক প্রাণহানি: ইরানের স্থানীয় কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, দক্ষিণ ইরানের একটি জনবহুল এলাকায় এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো আঘাত হানে। বিশেষ করে একটি স্পোর্টস হলে যখন কিশোরীরা ভলিবল অনুশীলন করছিল, তখন বিস্ফোরণটি ঘটে। নিউইয়র্ক টাইমসের ভিজ্যুয়াল ও ব্যালিস্টিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ধ্বংসাবশেষের চিহ্নগুলো ‘লকহিড মার্টিন’ নির্মিত এই নতুন ক্ষেপণাস্ত্রের সঙ্গে হুবহু মিলে যায়। স্কুল ও খেলার মাঠে এই মারণাস্ত্রের প্রয়োগ নিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মধ্যে তীব্র উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

উৎপাদন ও যুদ্ধের ময়দান: লকহিড মার্টিন আরকানসাসের ক্যামেরন কারখানায় ক্ষেপণাস্ত্রটি তৈরি করছে। গত বছরের ডিসেম্বরেই প্রথম ব্যাচের ক্ষেপণাস্ত্রগুলো মার্কিন সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হয়। বর্তমানে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে পেন্টাগন এই ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন চারগুণ বাড়াতে ৫ বিলিয়ন ডলারের একটি বিশাল চুক্তি ত্বরান্বিত করেছে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) প্রকাশিত এক ভিডিওতে দেখা গেছে, হাইমার্স এবং এম ২৭০ মাল্টিপল লঞ্চ রকেট সিস্টেম থেকে এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ছোড়া হচ্ছে। হাইমার্স যানে একটি পড বা কনটেইনারে দুটি PrSM বহন করা যায়, যেখানে আগের প্রযুক্তিতে মাত্র একটি ক্ষেপণাস্ত্র বহন সম্ভব ছিল। কুয়েত এবং বাহরাইনে মোতায়েন করা মার্কিন হাইমার্স ইউনিটগুলো থেকেই এই হামলাগুলো চালানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পেন্টাগনের রণকৌশল: পেন্টাগন মনে করছে, ক্ষেপণাস্ত্রটি তাদের যুদ্ধ কৌশলে আমূল পরিবর্তন আনবে। এটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যা শত্রুর আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে ফাঁকি দিয়ে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে। ভবিষ্যতে এর আরও উন্নত সংস্করণ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে, যা সমুদ্রের চলন্ত জাহাজ বা মুভিং টার্গেটেও আঘাত হানতে পারবে।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া: বেসামরিক স্থাপনায় এই ধরনের প্রোটোটাইপ বা পরীক্ষামূলক মারণাস্ত্রের প্রয়োগকে ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক ও অনৈতিক’ বলে মনে করছেন অনেক সমর বিশেষজ্ঞ। স্কুল ও খেলার মাঠে ২১ জন নিরীহ মানুষের প্রাণহানি ইরান ও আমেরিকার মধ্যকার চলমান যুদ্ধকে এক নজিরবিহীন ও প্রতিহিংসামূলক পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে। তেহরান সরকার ইতিমধ্যে এই হামলার তথ্য ও প্রমাণ আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে।

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়