ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার এবং সামরিক সহায়তা অর্জনের লক্ষ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। সফরকালে তিনি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের কথা জানিয়েছেন এবং নিরাপত্তা নিশ্চিতে অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
এদিকে ড্রোন প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করতে সৌদি আরবের সঙ্গে একটি চুক্তি করেছে ইউক্রেন। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি চুক্তির কথা জানিয়েছেন।
জেলেনস্কি বলেন, সৌদি আরবও ইরানের কাছ থেকে একই ধরনের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে পড়ছে, যেভাবে ইউক্রেন গত চার বছরের বেশি সময় ধরে রাশিয়ার হামলা প্রতিরোধ করে আসছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘আমরা সৌদি আরবের সঙ্গে আমাদের অভিজ্ঞতা বিনিময় ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় অংশিদার হতে এবং মানুষের জীবন রক্ষার জন্য একসঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত।’
সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে বৈঠকের আগে জেলেনস্কি বলেন, এই প্রতিরক্ষা চুক্তি ভবিষ্যতে নতুন চুক্তি, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা এবং বিনিয়োগের ভিত্তি তৈরি করবে।
তিনি আরো বলেন, ‘সৌদি আরবের কাছেও এমন কিছু সক্ষমতা আছে, যা ইউক্রেনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ফলে এই সহযোগিতা দুই দেশের জন্যই লাভজনক হতে পারে।’
জেলেনস্কি জানান, বৈঠকে তিনি রাশিয়া ইরানের সরকারকে সহায়তা করছে, এমন খবর নিয়েও আলোচনা করেছেন। পাশাপাশি জ্বালানি বাজারের পরিস্থিতি ও জ্বালানি সহযোগিতা নিয়েও কথা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার হেলসিঙ্কিতে অনুষ্ঠিত নিরাপত্তা জোট জয়েন্ট এক্সপেডিশনারি ফোর্স-এর উদ্দেশ্যে এক ভিডিও বার্তায় জেলেনস্কি বলেন, শুধু নতুন অস্ত্র তৈরি করাই গুরুত্বপূর্ণ নয়, এগুলো ব্যবহারের বাস্তব অভিজ্ঞতাও গুরুত্বপূর্ণ।
ড্রোনকে রাডার, বিমান এবং অন্যান্য আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয় করার অভিজ্ঞতা ইউক্রেনের রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, এর বিনিময়ে রাশিয়ার চলমান আগ্রাসনের বিরুদ্ধে নিজেদের প্রতিরক্ষার জন্য ইউক্রেন সহযোগিতা পাওয়ার আশা করছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোও যেন ইউক্রেনকে নিজেদের প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করার সুযোগ দেয়। ফরাসি পত্রিকা লে মঁদেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের কিছু দেশের কাছে এমন কিছু আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, যা বর্তমানে ইউক্রেনের নেই।
তিনি বলেন, ‘আমরা চাই মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো আমাদের শক্তিশালী হতে সহায়তা করুক।
তাদের কাছে এমন কিছু আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র আছে, যা আমাদের কাছে পর্যাপ্ত নেই। এই বিষয়েই আমরা একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে চাই।’
এদিকে বিবিসি ইউক্রেনের কয়েকটি ড্রোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথা বলেছে। তারা জানিয়েছে, উপসাগরীয় কয়েকটি দেশ তাদের কাছ থেকে সহায়তা চেয়েছে। তবে এখনো কিয়েভ সরকার তাদের এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক অনুমতি দেয়নি। ইউক্রেনের অ্যান্টি-ড্রোন ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ব্যবস্থা নির্মাতা প্রতিষ্ঠান কভার্টাস জানিয়েছে, সৌদি আরব ও কুয়েত তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।
ইউক্রেনের ড্রোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, তারা বিদেশে পণ্য রপ্তানির জন্য সরকারের অনুমতির অপেক্ষায় রয়েছে।
অ্যান্টি-ড্রোন ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ব্যবস্থা প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান কভার্টাস-এর প্রধান নির্বাহী ইয়ারোস্লাভ ফিলিমোনভ বিবিসিকে বলেন,
‘আমরা যেকোনো পণ্য রপ্তানির অনুমতির জন্য অপেক্ষা করছি। আমরা বুঝি যে সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করা জরুরি। কারণ এটি শুধু ব্যবসা বা ড্রোন বিক্রির বিষয় নয়, এর সঙ্গে রাজনীতিও জড়িত।’ সূত্র: কালের কণ্ঠ