ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান জোরদার করার মার্কিন হুমকির মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে যুক্ত হলো ব্রিটেনের শক্তিশালী পরমাণু শক্তিচালিত সাবমেরিন ‘এইচএমএস অ্যানসন’। গোয়েন্দা তথ্যের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইল জানিয়েছে, সাবমেরিনটি বর্তমানে আরব সাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অবস্থান নিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৬ মার্চ অস্ট্রেলিয়ার পার্থ শহর ত্যাগ করার পর এইচএমএস অ্যানসন উত্তর আরব সাগরে পৌঁছেছে। এই এলাকাটি বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান রুট ‘হরমুজ প্রণালি’র অত্যন্ত কাছে। সাবমেরিনটি অত্যাধুনিক ‘টমাহক ব্লক-ফোর’ ল্যান্ড-অ্যাটাক মিসাইলে সজ্জিত, যা ১ হাজার ৬০০ কিলোমিটার বা ১ হাজার মাইল দূরের লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁতভাবে আঘাত হানতে সক্ষম। এ ছাড়া এতে রয়েছে ‘স্পিয়ারফিশ’ হেভিওয়েট টর্পেডো, যা সমুদ্রের নিচে যেকোনো শত্রুপক্ষকে মোকাবিলায় অত্যন্ত কার্যকর।
এই সাবমেরিনের আগমন এমন এক সময়ে ঘটল যখন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটিগুলো ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, সাবমেরিনটির এই অবস্থান নির্দেশ করে যে ব্রিটেন সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক পরিকল্পনার অংশীদার হতে যাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্রদের পক্ষ থেকে বারবার ইরানকে সতর্ক করা হচ্ছে। হরমুজ প্রণালির কাছে এই ধরনের শক্তিশালী সাবমেরিন মোতায়েন করাকে সামরিক বিশেষজ্ঞরা ‘শক্তি প্রদর্শন’ হিসেবে দেখছেন। এইচএমএস অ্যানসনের উপস্থিতি এই অঞ্চলে যুদ্ধের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এখন পর্যন্ত ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই মোতায়েন নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি, তবে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে আন্তর্জাতিক মহল।