ভারতের কেরালায় নিপা ভাইরাসের আতঙ্ক কাটতে না কাটতেই এবার দেশটিতে নতুন আপদ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে অত্যন্ত সংক্রামক বার্ড ফ্লু বা এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা। প্রতিবেশী দেশ ভারতের বিহার রাজ্যে এই ভাইরাসের উপস্থিতির প্রমাণ পাওয়ার পর পুরো রাজ্যজুড়ে জরুরি সতর্কতা জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
রোববার(১ ফেব্রুয়ারি) ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানায়।
মূলত বিহারের দারভাঙ্গা জেলার ভিগো এলাকায় হঠাৎ বিপুল সংখ্যক কাকের রহস্যজনক মৃত্যু হলে জনমনে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এরপর মৃত পাখিদের দেহ থেকে সংগৃহীত নমুনা ভোপালের একটি বিশেষ পরীক্ষাগারে পাঠানো হলে সেখানে সংক্রামক এইচ৫এন১ ভাইরাসের অস্তিত্ব নিশ্চিত হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার পর থেকেই দারভাঙ্গা পৌরসভা এবং পশুপালন দপ্তরের বিশেষ মেডিকেল টিম যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ শুরু করেছে। আক্রান্ত এলাকার মৃত পাখিগুলোকে নিরাপদ উপায়ে অপসারণ করা হচ্ছে এবং ভাইরাস ছড়ানো রোধে আশপাশের পোলট্রি খামারগুলোতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। খামারের হাঁস ও মুরগির রক্ত পরীক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সম্ভাব্য সব ধরণের সংক্রমণের উৎস বন্ধ করার চেষ্টা চালাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে বর্তমানে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে থাকলেও সংক্রমণের ব্যাপকতা রোধে সর্বোচ্চ কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, বার্ড ফ্লু মূলত ইনফ্লুয়েঞ্জা জাতীয় ভাইরাসের মাধ্যমে ছড়ায় যার মধ্যে এইচ৫এন১ ধরনটি সবচেয়ে বেশি বিপজ্জনক বলে বিবেচিত। নিপা ভাইরাসের মতো এই ভাইরাসটিও প্রাণিজগত থেকে মানুষের শরীরে সংক্রমিত হতে পারে যা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি।
যদিও মানুষের মধ্যে এই ভাইরাসের সংক্রমণ সাধারণত বিরল, তবে সংক্রমিত পাখির দীর্ঘক্ষণ সংস্পর্শে থাকলে মানুষের শরীরেও এই প্রাণঘাতী ভাইরাস প্রবেশ করতে পারে।
মানুষের ক্ষেত্রে এর লক্ষণগুলো হলো তীব্র জ্বর, কাশি, শ্বাসকষ্ট এবং শরীরে অসহ্য ব্যথা হওয়া।
বিহার রাজ্য সরকার সাধারণ মানুষের প্রতি বিশেষ নির্দেশনা জারি করে বলেছে, কোথাও কোনো মৃত বা অসুস্থ পাখি দেখা গেলে তা যেন কোনোভাবেই স্পর্শ করা না হয়। এছাড়া অস্বাভাবিকভাবে কোনো পাখির মৃত্যু লক্ষ্য করলে তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পোলট্রি খামার ও বাজার এলাকায় স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে মানার পাশাপাশি সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতেও বিশেষ নজরদারি শুরু হয়েছে।