শিরোনাম
◈ কমার বদলে বাড়ছে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার হার ◈ মন্ত্রিসভায় আসছে নতুন মুখ ◈ বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ ও বাণিজ্যিক পণ্য উৎপাদনের মহাপরিকল্পনা ◈ দাপু‌টে জ‌য়ে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে বাংলাদেশ ◈ সৌদি-পাকিস্তান-তুরস্কের ঐতিহাসিক প্রতিরক্ষা চুক্তি, বদলে যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের সমীকরণ ◈ ‘শিল্পীরাও এই দেশের মানুষ’, কনসার্টের ঘটনা নিয়ে হাসান ◈ কর্মপরিকল্পনার ১৮০ দিন শেষ, মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের পারফরম্যান্স মূল্যায়ন; হতে পারে দপ্তর রদবদল ◈ হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে বলাকা লাউঞ্জে আগুন ◈ ইয়েমেনে ফের উত্তেজনা, হুতিদের হামলায় নিহত ৫৮ সেনা ◈ বোমা হামলার আশঙ্কায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারির খবর, পুলিশ বলছে গুজব

প্রকাশিত : ৩১ জানুয়ারী, ২০২৬, ০১:৪৫ রাত
আপডেট : ০২ আগস্ট, ২০২৬, ১২:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

বিদেশিদের কঠোর হুঁশিয়ারি ডেনমার্কের, অভিবাসন নীতিতে বড় পরিবর্তন

ইউরোপের অন্যতম নিরাপদ দেশ হিসেবে পরিচিত ডেনমার্ক তাদের অভিবাসন নীতিতে এক আমূল ও কঠোর পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে।

শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) ডেনিশ সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এখন থেকে দেশটিতে বসবাসরত কোনো বিদেশি নাগরিক যদি গুরুতর অপরাধে জড়িত হয়ে এক বছর বা তার বেশি সময়ের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন, তবে তাকে বাধ্যতামূলকভাবে দেশ থেকে বহিষ্কার করা হবে।

দেশটির  প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন এক সংবাদ সম্মেলনে অত্যন্ত কড়া ভাষায় এই নতুন পদক্ষেপের যৌক্তিকতা তুলে ধরেছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন, অপরাধীদের সুরক্ষা দেওয়ার চেয়ে নিজের দেশের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে ডেনমার্ক এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবে। খবর আরব নিউজের। 

ডেনমার্কের অভিবাসন মন্ত্রণালয়ের দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গুরুতর মারধর, যৌন নিপীড়ন বা ধর্ষণের মতো অপরাধে জড়িত অ-ডেনিশ নাগরিকদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম কার্যকর হবে। বর্তমান আইন অনুযায়ী, পারিবারিক অধিকার ও আন্তর্জাতিক কনভেনশনের কারণে অপরাধীদের বহিষ্কার করা সবসময় সম্ভব হতো না। তবে ডেনমার্ক এখন ব্রিটেনসহ অন্যান্য ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে মিলে ‘ইউরোপীয় মানবাধিকার কনভেনশন’ সংস্কারের জোরালো দাবি তুলেছে। 

প্রধানমন্ত্রী ফ্রেডেরিকসেন বলেন, যখন এই আন্তর্জাতিক আইনগুলো তৈরি করা হয়েছিল, তখন কেউ কল্পনাও করেনি যে মধ্যপ্রাচ্য থেকে পালিয়ে বিশ্বের সেরা একটি দেশে এসে কেউ নারী ও শিশুদের ধর্ষণ করতে শুরু করবে। এটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক যে অনেক ক্ষেত্রে আশ্রিত ব্যক্তিরাই এখন অপরাধীতে পরিণত হয়েছে।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এক বছর বা তার বেশি সাজাপ্রাপ্ত বিদেশি নাগরিকদের প্রায় ৭০ শতাংশকে বর্তমানে বহিষ্কার করা সম্ভব হচ্ছে। তবে নতুন এই আইনি সংস্কারের মাধ্যমে এই হার শতভাগে নিয়ে যেতে চায় ডেনিশ প্রশাসন। শুধু বহিষ্কারই নয়, যারা বর্তমানে ডিপার্চার সেন্টার বা দেশত্যাগের কেন্দ্রে রয়েছেন, তাদের ওপর নজরদারি বাড়াতে ইলেকট্রনিক অ্যাঙ্কেল ট্যাগ বা বৈদ্যুতিন বেড়ি ব্যবহারের পরিকল্পনাও করা হয়েছে। 

এছাড়া ডেনমার্ক সরকার সিরিয়ায় তাদের দূতাবাস পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং আফগানিস্তানের বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে সীমিত পর্যায়ে সহযোগিতা প্রতিষ্ঠার ইঙ্গিত দিয়েছে, যাতে শরণার্থীদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া আরও সহজ হয়।

ডেনমার্কের এই নতুন নীতি ইউরোপের অন্যান্য দেশগুলোতেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের আশঙ্কা প্রকাশ করলেও ডেনিশ সরকার তাদের অবস্থানে অনড়।

সরকারের পক্ষ থেকে পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে যে, শরণার্থীরা ডেনমার্কে কেবল সাময়িক সময়ের জন্য আশ্রয় পাবেন এবং স্বেচ্ছায় নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার জন্য উৎসাহিত করতে আর্থিক প্রণোদনাও বাড়ানো হবে। আগামী ১ মে থেকে এই নতুন সংস্কারগুলো কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। 

 

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়